লবনাক্ততায় বাড়বে স্থানান্তর

কারিশমা আমজাদ :জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার উপকুলীয় জেলাগুলোর নিচু এলাকাসমূহ- সেখানে লোনা পানি ধরে যাচ্ছে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যই সেখানে লোনা পানি বাধ্য করছে কৃষিতে পরিবর্তন আনতে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান প্রভাব হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোয় লবণাক্ততা বৃদ্ধি।

বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানিপ্রবাহ শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে না। ফলে নদীর পানির বিপুল চাপের কারণে সমুদ্রের লোনাপানি যতটুকু এলাকাজুড়ে আটকে থাকার কথা ততটুকু থাকে না, পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনাপানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে লবণাক্ততা বেড়ে যায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়। দক্ষিণ-পশ্চিম যশোরে এমনটা দেখতে পাওয়া যায়, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় যায়, দেশের দাকোপসহ দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র ভূভাগের অনেক ভিতর পর্যন্ত লোনাপানি ইতোমধ্যেই (২০০৯) ঢুকে পড়েছে। এই সমস্যা উপকূলীয় অঞ্চল থেকে যশোরকুষ্টিয়াফরিদপুর এবং কুমিল্লা পর্যন্ত উত্তর দিকে বিস্তৃত হয়েছে (২০১০), এবং আরো উত্তরে বিস্তৃত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে দেশে লবণাক্ত ভূমির পরিমাণ ছিল ৮,৩০,০০০ হেক্টর, আর ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে এসে তা হয়েছে ৩০,৫০,০০০ হেক্টর। কম বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও জরিপ লব্দ তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে আবাদি জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৮৯ লাখ হেক্টর এর মধ্যে লবণাক্ত আক্রান্ত এলাকার আয়তন দাড়ায় ১০.৫৬ লাখ হেক্টর। এতে প্রতীয়মান হয়, ২০০০ থেকে ২০০৯ সালে ৯ বছরে লবণাক্ত জমি ৩৬ হাজার হেক্টর বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থাৎ প্রতি বছর নতুন করে ৪০০০ হেক্টর জমি লবণ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে।

 

বরিশাল ও পটুয়াখালীতে লবণাক্ততার পরিমাণ ২ পিপিটি (লবণাক্ততা পরিমাপক মাত্রা) থেকে বেড়ে ৭ পিপিটি হয়ে গেছে (প্রেক্ষিত ২০০৯)। চট্টগ্রাম শহর সন্নিকটের হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে ৮ পিপিটি হয়ে গেছে (২০০৯)। অন্যদিকে লোনা পানির আগ্রাসনে উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। মৃত্তিকাসম্পদ গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ নদীর পানি লোনা হতে থাকে। ডিসেম্বরজানুয়ারির মধ্যে তা পুরোপুরি লোনা হয়ে যায়। তথন নদীর পানি মুখেও তোলা যায় না। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীর পানি আরো আগেভাগেই লোনা হয়ে গেছে। রূপসা নদীতে ২০১০ মে মাসে  ২৭.৬ মাত্রার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। আর পশুর নদীতে মার্চ মাসে ২১.৫ মাত্রার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। শিবসা নদীতে আগস্ট মাস পর্যন্ত অসহনীয় মাত্রার লবণাক্ততা বিস্তৃত হয়েছিল বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম শহরের খাবার পানি সরবরাহের একমাত্র উৎস হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে ৮ পিপিটি (লবণাক্ততা পরিমাপক মান) হয়ে গেছে (২০০৯)। পরিশোধন-অযোগ্য এই বিপদের ফলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং (IWM)-এর গবেষকগণ। আর ২০১৯ সালের কৃষিকাগজ তথ্য অনুসারে উপকূলীয় এলাকায় পানির লবনাক্ততা  প্রায় ০-২০ পিপিটি। 

বাংলাদেশের বৃহত্তর খুলনা বরিশাল এবং ভোলার মতো জেলাগুলোয় লবণাক্ততা অনেক দিনের সমস্যা। কিন্তু এ অঞ্চলে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দৃশ্যত: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই লবণাক্ততা সম্প্রতি বাড়ছে, এবং তাতে এখানকার কৃষিতে গভীর ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন হচ্ছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণে পুরো উপকূলীয় এলাকার৷ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, বৃহত্তর বরিশালের পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুণা, পটুয়াখালি, খুলনার বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রামের নোয়াখালি এবং লক্ষ্মীপুর অঞ্চল এখন লবণ পানিতে বিপর্যস্ত৷ আর দেশের মোট চাষযোগ্য জমির ৪০ ভাগ এই উপকূলীয় অঞ্চলে৷ একদা শস্য ভাণ্ডার বলে পরিচিত এই অঞ্চলের মাটি এবং পানি দুই-ই লবণাক্ত হয়ে পড়ছে৷

মার্চ এপ্রিল মাসে লবণ পানির প্রভাব বেশি থাকে৷ এতে রবি শস্য ছাড়াও ধানের বীজ তলা ও বেড়ে ওঠা ধান নষ্ট হয়৷ নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং সাগরের লবণ পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া এর কারণ সাগরের লবণাক্ত পানি নদী থেকে শাখা নদী হয়ে ঢুকে পড়ছে কৃষি জমিতে৷

উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বন্ধে পাকিস্তান আমল থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে বেড়িবাঁধ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সিডর ও আইলার পর অনেক স্থানেই সেই বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া চিংড়ি চাষের জন্য অনেকে বাঁধ কেটে ঘের এলাকায় লবণপানি ঢুকিয়ে থাকেন। এতে গুটিকয়েক চিংড়িচাষি লাভবান হলেও এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দার জীবন-জীবিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় যেভাবে পানি ও মাটিতে লবণাক্ততা বাড়ছে, তাতে এক সময় চাষযোগ্য জমি খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে৷ গত ৩ বছরে ঐ এলাকার ১০ লাখ হেক্টর আবাদি জমি নতুন করে লবণাক্ত হয়ে পড়েছে৷

২০০৯ সালের ২৩ মে সংগঠিত ঘূর্নিঝড় আইলা’র আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় তীব্র লবনাক্ত জলোচ্ছাস আঘাত হানে। সরাসরি সাগর থেকে তীব্র লবনাক্ত পানি উপকূলের নদ-নদী ও খালে-বিলে প্রবেশ করার ফলে অদ্যবধি এ এলাকায় আমন ফসল চাষ বন্ধ হয়ে যায়। কৃষিতে দেখা দেয় মারাত্মক বিপর্যয়। ফলে ফসল চাষের এলাকা দ্রুত কমে গিয়ে উৎপাদন হ্রাস পায়। আশির দশকে এলাকায় লবন পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। আস্তে আস্তে কৃষি আবাদ বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় বাগদা চিংড়ি চাষ। এ সময় এ শ্রেনীর লোভী চিংড়ি চাষি সরকারি রেকর্ডীয় খাল ও দনী দখল করে তাতে বাধ দিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করে। এতে লবন পানি মাটির জৈব গুনাগুন নিঃশ্বেস করে ফেলে। বর্তমানে মাটির গুনাগুন ক্রমাগতভাবে নষ্ট হয়ে মাছ চাষের ও অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। লবন পানি বর্তমানে কুষ্টিয়া পাবনা গোপালগঞ্জ রাজবাড়ি পর্যন্ত চলে গেছে। ২০০৯ সালে আয়লা পরবর্তি খাদ্য উৎপাদন ওই বছর থেকে কমতে থাকে। 

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম তীব্র লবনাক্ততার বিষয়ে বলেন, প্রকৃতিক দূর্যোগ ও উষ্ণায়নের ফলে উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ততা উত্তর চউত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ থেকে মানুষ জীবন জীবিকা বাচাতে সরকারি বেসরকারি পর্যায় সমন্মিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য লবন সহিষ্ণু জাতের ধানসহ বিভিন্ ফসল উৎপাদন করতে হবে। আর উপকূলীয় এলাকার ফসলী জমিকে রক্ষার জন্য পরিকল্পিতভাবে বাধ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উপকূলের লবনাক্ততা মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি একে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এমন প্রতিকূল পরিবেশ প্রতিবেশে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকাকে সহনশীল করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য সমন্মিত পদক্ষেপ নিয়ে এগোতে হবে। যাতে করে এলাকার মানুষ বেঁচে থাকতে পারে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে, জমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেকের জীবিকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এ তথ্যও পুরোনো। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ২০ শতাংশ নারী লবণাক্ততার কারণে অকালগর্ভপাতের শিকার হন বলে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক।

মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ লবণের প্রয়োজন এবং সেটি আসে খাদ্য ও পানি থেকে। কিন্তু উপকূলীয় এলাকার পানিতে লবণের পরিমাণ অনেক গুণ বেশি। এই পানি শরীরে প্রবেশ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য তা হয়ে ওঠে আরও বেশি বিপজ্জনক। গর্ভাবস্থায় নারীরা বেশি লবণাক্ত পানি খেলে খিঁচুনি ও উচ্চ রক্তচাপ হয়। এ কারণে নারীদের গর্ভাবস্থায় সন্তান মারা যাওয়ার হারও বেশি, যা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণায় বলা হয়, লবণাক্ততার কারণে উপকূলের নারীরা শুধু অকালগর্ভপাতেরই শিকার হন না, ৩ শতাংশ শিশুও মারা যায়। এ ছাড়া বেশি লবণ খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক রয়েছে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি উপকূলের মানুষ কম লবণাক্ত পানি (যেমন বৃষ্টির পানি) পান করে, তাহলে তাদের রক্তচাপ কমিয়ে আনা সম্ভব। খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা ১ হাজার ২০৮ জন গর্ভবতী মায়ের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুধু নলকূপের পানি পান করা মায়েদের উচ্চ রক্তচাপ বেশি।

ক্রমবর্ধমান সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধ পাওয়ায় লবনাক্তকরন প্রক্রিয়াকরন আরো তীব্র হচ্চে। আনুমানিক প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মানুষ উপকূলীয় পানীয় জলের সরবরাহ গ্রহনে স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে আছে। যে করনে উক্ত অঞ্চলের গর্ভবতী নারীদের মাঝে রক্তশূন্যতা, তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং চর্মরোগ দেখা যায়। 

লবনাক্ততায় মানুষের জীবন-জীবিকা, গাছপালা ও জীববৈচিত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে খাদ্য শৃঙ্খল। অনেকেই জীবিকা হারিয়ে স্থানান্তরিত হয়েছেন। খাদ্যাভাবের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। অবকাঠামো উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সাভাবিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়ও।

বাংলাদেশের মানুষ চরম জলবায়ুর নিপর্যয় থেকে নিজেকে বাঁচাতে সর্বদাই স্থানান্তরকেই মোকাবেলার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে। কেবলমাত্র ২০১৬ সালে, চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিপর্যয় প্রায় ২৩.৫ মিলিয়ন মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছিল। Environmental Justice Foundation ধরনা করে যে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতি ৭ জনে ১জন জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে স্থানান্তর হবে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এ গবেষণা করেছেন। গবেষকেরা বলছেন, ঘন ঘন নোনা পানির প্লাবন ইতিমধ্যে বহু কৃষককে ধান চাষ ছাড়তে বাধ্য করেছে। কৃষক এখন ধানের জমিতে চিংড়ি বা অন্য সামুদ্রিক মাছের চাষ করছেন।ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক জোসি চেন ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভ্যালেরি মুলার উপকূলের জেলাগুলোর ১৪৭টি উপজেলার মানুষের অভিবাসনের আর্থসামাজিক উপাত্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০০৩ ও ২০১১ সালের স্যাম্পেল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন (এসভিআরএস) থেকে। গবেষকদের অনুমিত হিসাব বলছে, মাঝারি ধরনের লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে একটি খামারের কৃষি আয় বছরে ২১ শতাংশ কমে যাবে। আগামী ১২০ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের উপকূলে বসবাসকারী ১৩০ কোটি মানুষের বসতি সমুদ্রের পানিতে ডুবে যাবে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিজমির ৪০ শতাংশ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে। ইতিমধ্যে উপকূলের মানুষ ঘন ঘন প্লাবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছে। গবেষণায় অভিবাসন বিষয়ে দৃষ্টি কাড়ার মতো তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, জলবায়ুর প্রভাবজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ২৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। গবেষণায় একটি চিত্রে দেখানো হয়েছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের অভিবাসন হবে নিজের জেলায়। অন্য চিত্রে দেখানো হয়েছে, ৬০ হাজার মানুষের অভিবাসন হবে অন্য জেলায়। সে ক্ষেত্রে অভিবাসী মানুষ ঢাকাকে আশ্রয়স্থল হিসেবে বেশি প্রাধান্য দেবে। সেই তুলনায় উত্তরের জেলাগুলোতে অভিবাসন কম হবে। অর্থাৎ মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলের প্রায় দুই লাখ কৃষক বাস্তুচ্যুত হবেন। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূল অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে ধান চাষের অনুপযোগী হলে কৃষক এলাকা ছাড়বেন।

এই লবণাক্ততা বাড়তেই থাকবে৷ তাই প্রয়োজন লবণ সহিষ্ণু ফসল আবাদ করা এবং লবণ পানি এড়ানোর কৌশল আবিষ্কার৷ আর প্রয়োজন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া৷

 

লেখক: কারিশমা আমজাদ 

কলাম লেখক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও 

পি এইচ ডি ফেলো, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Email: sristy70@gmail.com

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: