Thursday January28,2021

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ৪ জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন অব বাংলাদেশ) জঙ্গিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ’র বিশেষ আদালত।

এই চার জঙ্গি হল জিয়াউল হক, মোতিউর রহমান ওরফে ভাসা, মো: ইউসুফ ওরফে বক্কর ওরফে ইউসুফ শেখ এবং জাহিরুল শেখ। গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কলকাতায় অবস্থিত এনআইএ’র বিশেষ আদালত এই সাজা ঘোষনা করে।

৭ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ঘোষনার সাথেই দোষীদের ৫ হাজার রুপি করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। আজ বুধবার এনআইএ’এর তরফে এক বিবৃতি জারি করে এই সাজা ঘোষনার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণে শাকিল আহমেদ এবং শোবহান মন্ডল নামে দুই সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য নিহত হয়। ওই ঘটনায় প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা পুলিশ (সিআইডি) তদন্ত শুরু করে, পরে তদন্তের ভার নেয় এনআইএ। তদন্তে নেমে বাংলাদেশি নাগরিকসহ একাধিক ব্যক্তিদের জেরা করেই এই বিস্ফোরণের ঘটনায় জামায়াত যোগের বিষয়টি সামনে আসে।

এনআইএ’এর তরফে আরও জানানো হয়েছে ওই বিস্ফোরণের এক মাসের মাথায় গ্রেফতার করা হয় জিয়াউল হককে। পরের বছর ২০১৫ সালে গ্রেফতার করা হয় মোতিউর রহমানকে। ২০১৬ সালে মো: ইউসুফ এবং গত বছরের আগস্ট মাসে গ্রেফতার করা হয় জাহিরুল শেখ’কে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ১২৫ (রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা), আনলফুল আ্যাক্টিভিটিস প্রিভেনশন অ্যাক্ট (ইউএপিএ) এবং বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে নেমে সেসময় তদন্তকারী কর্মকর্তারা আড়ো জানতে পারে যে অভিযুক্তরা পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান সহ চার জেলায় অস্ত্রশস্ত্র বিস্ফোরক তৈরি, নাশকতা তৈরি ও জেহাদি প্রশিক্ষণ, জঙ্গি নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ভারতের মাটিতে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে নাশকতা ঘটানো এবং সেদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার মতো ষড়যন্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারী কর্মকর্তারা দাবি করেন। সেসময় আদালতে পেশ করা চার্জশিটেও সেই ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

ওই বিস্ফোরণের মামলায় ৩৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৩১ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে। অভিযুক্তদের অনেকেরই ইতিমধ্যেই সাজা ঘোষনা হয়েছে। কয়েকজনের আবার বিচার প্রক্রিয়া এখনও বাকি রয়েছে।