খাশোগি হত্যার ঘটনায় ‘বিচারের নামে প্রহসন’ চলছে: জাতিসংঘ

ভিন্ন মতাবলম্বী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি আরবের একটি উচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে। এ রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।

সৌদি আরবের একটি উচ্চ আদালত সোমবার সেদেশের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করার দায়ে পাঁচ ব্যক্তির ফাঁসির দণ্ড লঘু করে যাবজ্জীবন কারাদাণ্ড দিয়েছে।

গত বছর ওই পাঁচ ব্যক্তিকে একটি নিম্ন আদালত ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু খাশোগির পরিবার হত্যাকারীদের ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার পর আদালত তাদের দণ্ড কমিয়ে দেয়।

সোমবার আদালতের রায় ঘোষিত হওয়ার পর ক্যালামার্ড বলেন, যে প্রক্রিয়ায় এ বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে তা ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী। দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং কি কারণে খাশোগির পরিবার তার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিল তাও স্পষ্ট নয়।

২০১৮ সালের অক্টোবরে খাশোগি নিহত হওয়ার পর এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্যালামার্ড।

জামাল খাশোগির তুর্কি বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিসও সৌদি আদালতের রায়কে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। খাদিজাকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকে আর ফিরেননি খাশোগি।

প্রায় দুই বছর আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরীতে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগি নির্মমভাবে নিহত হন। সে সময় বিভিন্ন দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করে তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্থির সিদ্ধান্ত দিয়েছিল যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এ হত্যকাণ্ড ঘটেছে।

এছাড়া, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড তার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে খাশোগিকে হত্যার ঘটনাকে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি এ ঘটনায় যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে অধিকতর তদন্তেরও দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও তার কিছুই সম্পন্ন হয়নি, এমনকি তা হওয়ার কোনও সম্ভাবনাও দেখা যায়নি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: