মসজিদে এসি থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করতে হবে

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের পর তৎপর হয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। যেসব মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) রয়েছে সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।

রোববার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে গিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা)। ইফা তা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২৪ জনের মৃত্যু হয়। দ্বগ্ধ আরো ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গ্যাসের পাইপলাইনের ওপর বায়তুস সালাত মসজিদের বর্ধিতাংশ নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। লাইন থেকে অনেকদিন ধরে গ্যাস লিক হচ্ছিল। তদন্ত সংস্থাগুলোর ধারণা, গ্যাসের লিক থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। মসজিদে থাকা দেড় টনের ছয়টি এসি আগুনে বিস্ফোরিত হয়ে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়ে।

মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি এবং অপরিকল্পিতভাবে এসি লাগানোর বিষয়টি রোববার সংসদে অধিবেশনের আলোচনাতে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কথা বলেন। নকশা অনুমোদন করে মসজিদে স্থাপনা নির্মাণ করতে বলেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষার নির্দেশনা জারি করে। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদের সংযোগ পরীক্ষা করে বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলো।

পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বাসবাড়িতে যে লাইন নেওয়া হয়, মসিজদেও তা ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ লাইন ৪৪০ ভোল্টের। কোনো মসজিদে ১০-১২টি এসি ব্যবহার করা হয়। এসির লোড ঠিক রাখতে একই মসজিদে একাধিক বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া হয়। কিছু লাইন অননুমোদিত।

ইফার মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ সমকালকে বলেন, সরকার নয় মসজিদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় কমিটি। মসজিদের বিষয়ে কোনো আইনি ক্ষমতা ইফা’র নেই। সচেতনতা সৃষ্টিই ভরসা। এর মাধ্যমেই মসজিদের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির লাইন নিয়মের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।রাজধানীর অনেক মসজিদে রুম নির্মাণ করে মেস ভাড়া দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও সংযুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে রান্নার জন্য গ্যাসের লাইন রয়েছে। কোথাও কোথাও সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। কিছু লাইন ত্রুটিপূর্ণ বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেদিকে নজর দেওয়া হবে। কোনো মসজিদ ঝুঁকপূর্ণ থাকবে না। মসজিদে নিরাপদে ইবাদত করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিটিগুলোকে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

বহুতল স্থাপনা নির্মাণে নকশা অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অনেক মসজিদ নকশা অনুমোদন না করেই তৈরি হয়েছে। এতে ঝুঁকিও বেড়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্পর্শকাতরতার কারণে মসজিদের নকশা, অনুমোদনহীন নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। নকশা বহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের বিধান থাকলেও মজসিদের ক্ষেত্রে তা করা হয় না।

ইফার মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ আরও বলেন, নামাজের আগে যেমন অজু করতে হয়, তেমনি মসজিদ নির্মাণের আগে নকশা অনুমোদন করাতে হবে। মসজিদ আল্লাহর ঘর। আল্লাহর ঘর নির্মাণে সব নিয়মকানুন মানা উচিত। মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নকশা মানতে হবে।

ইফার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব মসজিদে বিশেষ করে যেখানে এসি রয়েছে, সেখানে দুর্ঘটনা রোধে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কিংবা জেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সহযোগিতায় মসজিদ কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণে জরুরিভিত্তিতে পরীক্ষা ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে। তাই সকল মসজিদ কমিটিকে বিদ্যুতের লাইন পরীক্ষা ও মেরামতের অনুরোধ জানিয়েছে ইফা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: