কাঁদলেন শামীম ওসমান, বললেন- ‘আল্লাহর ঘরে বিস্ফোরণ নরমাল ঘটনা না’

নারায়ণগঞ্জ শহরে মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে চারপাশের মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর ঘর মসজিদে বিস্ফোরণ কোনও নরমাল ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি নাশকতা না- তাও বলা যাবে না।’

শহরস্থ সদর উপজেলার ফতুল্লা পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদ পরিদর্শন করে তিনি এসব কথা বলেন।

এ বিস্ফোরণের ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কাকে উড়িয়ে না দিয়ে সব বিষয় মাথায় রেখে গভীর তদন্তের দাবি জানান শামীম ওসমান। এসময় তিনি বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত মসজিদের চারপাশ ঘুরে দেখেন।

শামীম ওসমান বলেন, ‘মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনাকে তুচ্ছভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটা ছোট কোনও বিষয় না। শুধু গ্যাসের কারণেই এত বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে, এটাকেই প্রাধান্য দিয়েই শেষ করা যাবে না। কারণ এর আগেও আমাদের ওপরেও ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে কারণেই আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি কোনও এক্সপার্ট না। সে কারণেই আমি এক্সপার্টদের দিয়ে গভীর তদন্তের কথা বলছি। এটা এসির বিস্ফোরণ কিনা সেটাও তদন্ত করা উচিত। তবে সচরাচর এসির গ্যাস সিলিন্ডার বাইরে থাকে। সেটা ভেতরে বিস্ফোরণের কথা না। এছাড়া গ্যাসের কথা বলা হচ্ছে। যদি মসজিদের ভেতরে এতই গ্যাসের রিজার্ভ থাকতো তাহলে সেটা তো মাগরিবের সময়ে কিংবা এশার আগে দরোজা খোলার কারণে বের হয়ে যেতো।’

এই সাংসদ আরও বলেন, ‘যেহেতু অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমার ওপর ১৬ জুনের বোমা হামলা হয়েছিল। হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। আমি বলছি না এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। তবে আমি এর গভীর তদন্ত হতে হবে। এ ঘটনায় দয়া করে কোনও পারসেপশন তৈরি করবেন না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি।’

এসময় তিনি বিস্ফোরণে নিহত সবার জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দগ্ধ সবাইকে ভালো চিকিৎসার জন্য নির্দেশে দিয়েছেন।’

২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় দলীয় কার্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি অস্বাভাবিক উল্লেখ করে মসজিদের এ বিস্ফোরণকেও সেরকমই হতে পারে বলে ধারণার কথা জানান শামীম ওসমান।

গেল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় ফতুল্লার ওই মসজিদে বিস্ফোরণে ৩৭ জন দগ্ধ হন। ইতোমধ্যে বিস্ফোরণে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও স্কুলছাত্রসহ ২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: