খেমার রুজ ‘নির্যাতন কেন্দ্রের’ প্রধান দুচের মৃত্যু

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কম্বোডিয়ার খেমার রুজের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ‘নির্যাতন কেন্দ্রের’ প্রধান কমরেড দুচ মারা গেছেন। কম্বোডিয়ার মাওবাদী খেমার রুজ সরকারের আমলে কুখ্যাত টুওল স্লেং কারাগারের প্রধান ছিলেন দুচ নামে পরিচিত কাইং গুয়েক ইয়েভ।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, বুধবার ৭৭ বছর বয়সে তিনি রাজধানী নম পেনের একটি হাসপাতালে মারা যান বলে ওই ট্রাইব্যুনালের মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন দুচ।

খেমার রুজ ট্রাইব্যুনালের মুখপাত্র নেথ ফেত্রা বলেন, “দুচ (স্থানীয় সময়) ২ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহর ১২টা ৫২ মিনিটে খেমার সোভিয়েত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে মারা গেছেন। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।”

১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তাদের শাসনামলে এই কারাগারটিতে হাজার হাজার বন্দিকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। ওই সময় দেশজুড়ে প্রায় ২০ লাখ লোককে হত্যা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

জাতিসংঘ সমর্থিত একটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে দুচ যাবজ্জীবন কারাভোগের শাস্তি পেয়েছিলেন। ২০১০ সালে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১২ সালে তার সাজার রায় আসে। তিনি খেমার রুজের প্রথম জ্যেষ্ঠ নেতা যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন।

টুওল স্লেং, যা এস-২১ নামেও পরিচিত, কারাগারের পরিচালক ছিলেন দুচ। খেমার রুজ সরকারের শত্রু হিসেবে বিবেচিত অন্তত ১৫ হাজার পুরুষ, নারী ও শিশুকে এই কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এদের অধিকাংশকেই নির্যাতন করে, জোর করে খেমার রুজের বিরুদ্ধে কথিত অপরাধের দায় স্বীকার করানো হয়েছিল। এরপর তাদের নম পেনের কাছে একটি মাঠে নিয়ে হত্যা করা হতো।

বিচার চলাকালে দুচ এস-২১ কারাগারের দায়িত্বে থাকার কথা স্বীকার করেন এবং সেখানে ভয়াবহ যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তাতে নিজের ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি শুধু আদেশ মেনেছেন; কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তার আপিল খারিজ করে দেন।

কয়েক বছর ধরে খেমার রুজের বিরুদ্ধে বিচার চলাকালে তিনি দলটির প্রধান নেতা পল পটের দুই জন প্রতিনিধির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: