Advertisements

বাংলাদেশে নিয়ে ভারতের ক্রিয়াকলাপ, উদ্দেশ্যে কি?

মনে করুন আপনার কাছে এক কোটি টাকা আছে । আপনি এই টাকাগুলো কোনো কাজে ব্যবহার না করেই কিভাবে দ্বিগুণ  করবেন ?

ভেরি সিম্পল।  টাকাগুলোকে একটি আয়নার সামনে ধরুন, দ্বিগুণ দেখা যাবে। যতবার আয়নার সামনে ধরবেন ততবারই দ্বিগুণ হবে। তবে দ্বিগুণ মূল্য হবে না ।

ইস্টার্নলিন্ক – নামক একটি অনলাইনে গত বেশ অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়তই অনেকটা ধারাবাহিকভাবেই প্রতিবেদন লিখে যাচ্ছে। এবার ইস্টার্নলিন্ক একটি ছদ্মনামীয় প্রতিবেদন লিখেছে যার হেড লাইন , ” Regime Change- Alert In Bangladesh “- ক্ষমতা বদলে বাংলাদেশে সতর্কতা। প্রতিবেদনটি কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের ভিন্ন নামে । ইতিপূর্বেই তিনি নামধাম সহ লিখেছেন। লেখার সূত্র এই ইস্টার্নলিন্ক ! এবার অবশ্য শেয়াল একটু বেশি চালাকি করেছে । তথাকথিত শামসুন্নাহার খান ( লক্ষ্য করুন, মুসলিম নামের ব্যবহার) ছদ্মনামে একটি বিশাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে । প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে করা । নিচে লিংক পেস্ট করে দিলাম।

https://theeasternlink.com/regime-change-alert-in-bangladesh/?fbclid=IwAR0BIWeSJh0zY9i8ioa_HNdtm2YyhH6alfIaHZ7lpA1Oxp_SFRZBYULfRLc

প্রতিবেদনটির সরাসরি বাংলা না করে, এর ভিতরের কিছুঅংশ বাংলা করে কিছু বলার প্রায়স মাত্র।  প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে একটি ” ষড়যন্ত্র ” নিয়ে।  প্রথমেই বলে নেই কোনো বিশ্বস্ত সূত্রের উল্লেখ নাই । উল্লেখ্য  যে, তারা বলার চেষ্টা করছে, ” হাসিনা সরকারকে অপসারণ করতে পরাশক্তির একটি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে ” । পরিস্থিতি খারাপ হবার আশঙ্কায় সরকার বিষয়টিকে ধামাচাপা দেবার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এই আর্টিকলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে । প্রতিবেদনের মূল ভাষ্য বা মর্মকথা হলো, ” পরাশক্তি (?) ভীষণ ক্ষুদ্ধ হয়ছে বাংলাদেশের হাসিনা সরকার চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে। পরাশক্তি হাসিনাকে আর চীন বিরোধী ভাবতে পারছে না ” ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয় , ” অতীতে ভারত সরকার হাসিনাকে উৎখাতের অনেক ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে, এমনকি হাসিনাকে সরকারে টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকার বেশ তৎপর থাকতো ” । কিন্তু সাম্প্রতিককালে চীন- ভারত সীমান্ত সংঘাত ( লক্ষণীয় যে সীমান্ত যুদ্ধ নয় সংঘাত বলা হয়েছে) এবং করোনার কারণে ভারত সরকার পূর্বের মতন ঢাকাকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাজধানী শহরে ( উল্লেখ নাই কোন দেশ ) বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীগণ, প্রবাসে বসবাসরত সাবেক উচ্চপদস্থ  বাংলাদেশী সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশী দু টি মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা, এবং বেশ অনেক আইনবিদগণ, যাদের উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য বাংলাদেশের বর্তমান হাসিনা সরকারকে পরিবর্তন করা । ইস্টার্নলিন্কের দাবী ঢাকার একটি সূত্র  ( বিশ্বস্ত সূত্র উল্লেখ নাই) অনুযায়ী লকডাউনের কল্যাণেই সেকেন্ডফেইস বা পরবর্তী পদক্ষেপ বিলম্বিত হয়েছে। এমনকি ইস্টার্নলিন্কের ভাষ্য অনুযায়ী বৈঠকে উপস্থিত থাকা একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তা চক্রান্তের পরিণতি অনুধাবন করে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার নিকট সব ফাঁস করে দেয় ।

ইস্টার্নলিন্কের দাবী, ওই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য তিনটি বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছিলো ।

১) নানাবিধ ভিত্তিহীন গুজব রটিয়ে সেনাপ্রধানের সাথে ( জেনারেল আজিজ ) প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটানো। লক্ষণীয় যে তারাই বলছে যে, সেনাপ্রধানের আনুগত্য হাসিনার প্রতি প্রশ্নাতীত।

২) করোনা নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করা এবং করোনা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে গণঅসন্তোষ তৈরি করা এবং ছাত্র- যুবকদের মাঝে বেকারত্ব নিয়ে গন্ডগোল বাঁধিয়ে দেওয়া।

৩) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোবল ভেঙে দেবার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ইসলামপন্থী কট্টর রাজনৈতিক দলগুলোকে উষ্কে দিয়ে, আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গদের হত্যা করা।

অপরদিকে মানবাধিকার ইস্যু ও সিভিল সোসাইটির গ্রুপের মাধ্যমে পরাশক্তি হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে একচেটিয়া প্রচারণা ও প্রোপাগান্ডা চালাবে, যা আন্দোলনে সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে, পাশাপাশি এমন কর্মে পুলিশের প্রতিক্রিয়া নেগেটিভ হয়ে প্রকাশ পাবে এবং সরকারকে গণবিচ্ছিন্ন করে ফেলবে । পরিকল্পনায় আরো আছে জুন- সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দেশে দাঙ্গা/ ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজকে অপসারণ করা হবে এবং মানুষ মনে সেনাপ্রধানকে ভারতীয় সাগরেদ হিসেবে প্রমাণের  প্রচেষ্টা অবধারিত চলছে । যদিও প্রতিবেদনে আরো লিখেছে, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে পাকিস্তান পন্থীরা ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে তৎপর আছে (!)

প্রতিবেদনের মূল বিষয়টি হলো, জেনারেল আজিজ কে পরিকল্পনা মাফিক, সরানো এবং সেই স্থলে সাহসী একজন সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়ে,, বাঁকি কর্ম জেনারেল কে সাথে নিয়ে শেষ করা । কেননা আমাদের দেশে অবশেষে সেনা ছাউনি থেকেই সরকার পরিবর্তনের সহায়ক হয়। মোটের উপর প্রতিবেদনের কিছুটা মূল প্রতিপাদ্য উল্লেখ করলাম ।

এবার দেখার চেষ্টা করবো ভারতের মূল উদ্দেশ্য এবং কিছু কথা । বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ভারত বান্ধব সরকার বলেই মৌখিকভাবে বলা হয় বা জনমনে এমন ধারণা জন্মে আছে এবং আনেকটা সত্যেও বটে । যেমনটা বিএনপিকে পাকিস্তান পন্থী বলা হয় । সত্যি বলতে কে কোন পন্থী সেটা আমরা সাধারণ জনমানুষেরা নির্ধারণে বেশ পরিপক্ক বটে । আমরা সরকারের কর্ম কোন দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে সেটা দেখেই এমন পন্থীর চক্রে ফেলে দেই । তাছাড়া এই দেশ স্বাধীনের নেতৃত্বদানকারিদল আওয়ামী লীগ।  সেই সময়ে ভারত সরকার এই দলটিকেই সার্পোট করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো । হ্যাঁ  আমি জেনে বুঝেই দেশ না বলে দল বললাম । কেননা বাংলাদেশের প্রতি ভারতে এমন কোনো মায়া ছিলো না যে, এই দেশটির জন্য তাদের সরকারের জান বাজি রাখার প্রয়োজন ছিলো । তবে হ্যাঁ  ভারত তাদের বিশদ সার্থের কারণেই এই দেশটির স্বাধীন হবার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো( সেটা ভিন্ন আলোচনা) এতে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই । তাছাড়া বিনা সার্থে করবেই বা কেন? সবই ঠিক আছে ।

সেই থেকেই আওয়ামী সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, ভারত পন্থীর তকমা গায়ে লেগেছে ।  আমরা সাধারণ জনমানুষেরা আমাদের ভৌগলিক অবস্থান কে অনেক সময় বিবেচনায় নেই না । এটাও সত্যি এবারের সরকার ভারতের সাথে একটু বেশিই দহরম- মহরম করেছে। ভারত সরকার কিছু চাইবার পূর্বেই অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছে। বিনিময়ে আমাদের দেশ মোটের উপর কিছুই পায়নি । তবে  দীর্ঘদিনের সীমান্ত ঝামেলাটি যেভাবেই হোক একটি পরিপূর্ণ সমাধান হয়েছে । এটা নেহায়েত সত্য যে এই সরকার আমাদের একটি নির্দিষ্ট সীমা রেখার মানচিত্র দিয়েছে।  কম- বেশি কি হয়েছে, সেই বিচারে না গিয়েও বলা যায় সীমানাটি নির্ধারণ করা গেছে। কম- বেশির কথা বললাম কেননা সমুদ্র সীমানা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিলো, যদিও আন্তর্জাতিক আদালতে সেটারর বিহিত হয়েছে। স্পষ্ট করেই বলা যায়, এই সরকার অনেক দিয়ে কিছু না পেলেও , ভারতের সাথে সীমানার সমাধানটি অন্তত করতে পেরেছে । একথাও শতভাগ  সত্য যে, পূর্বের সকল সরকারগুলোও চেষ্টা করে কোনো সমাধান আনতে পারে নি । এমন কি একথাও বলা যায়, এই সরকার কম বা বেশি যেভাবেই সমাধান করেছে, ভিন্ন কোনো সরকার  হলেও এর চেয়ে বেশি কিছুই করতে পারতো না, এটাই মহা ভারতের মতন সত্য।

আওয়ামী সরকার অনেক দিয়েও কিছুই চরতে পারেনি, কথাটিতে তেমন সত্যতা নেই । তবে হ্যাঁ দেওয়ার চেয়ে পাওয়া পরিমাণ নেহায়েত কম হলেও আমরা এই অব্দি একটি নির্দিষ্ট মানচিত্র পেয়েছি । দেওয়া যেহেতু বেশি, সুতরাং ভারত পন্থী তকমাও বেশি, এটাই স্বাভাবিক। এখানে বিএনপি সরকারের একটি ঘটনা উল্লেখ করতেই হয় । কেননা বিএনপিকেও পাকিস্তান পন্থী তকমা নিয়েই থাকতে হচ্ছে।  তবে পাকিস্তানের সাথে বিএনপির কি এমন দহরম- মহরম ছিলো ? কারো জানা থাকলে লিখতে পারেন। তবে বিএনপি সরকার ভারতের সাথে কখনোই তেমন কোনো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি এবং বিপরীতে লেনদেনও তেমনটা নেই । তেমন কোনো কিছুর সমাধানও বিএনপি সরকারের হাত ধরে আসেনি । এমনকি পাকিস্তানের সাথেও তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য  সম্পর্কের কথা বলা যাবে না ।

বিএনপিকে পাকিস্তান পন্থী বলা হয় একেবারেই রাজনৈতিক কারণে বলেই মনে হয় । একটি প্রমাণ দেই, ২০০৪ সালে ( যদি সালটি ভুল না করে থাকি ) বিএনপি সরকার , ” পূর্ব দিকে কূটনীতি ” নামে একটি কূটনীতি চালুর প্রয়াস ছিলো । মনে পরে সেই সময়ে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ” থাকসীন ” নিজে উড়োজাহাজে উড়ে এসে সেই সময়কার বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উড়িয়ে থাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়েছিলো । একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেশ থেকে রিসিভ করে নিয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই বড় কূটনীতির অংশ এবং সম্মানের। সেই সময়ে সরকার থেকে বেশ প্রচার হলো পূর্বদিকের কূটনীতি বলে । বিএনপি সরকার ভারতকে এক হাত দেখাতেই এমন নীতির গ্রহণ করেছিলো ।  লাভ- লোকসান কি হয়েছে সেটা আবার ভিন্ন আলোচনা।  তবে প্রয়াস একটি ছিলো বটে । লক্ষ্য করুন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিয়ে গিয়েছিলো, পাকিস্তানের নয় । পূর্বদিকে গিয়েছিলো, পশ্চিমে নয় । তারপরেও কি বিএনপির কপালে পাকিস্তান পন্থীর তকমা শেষ হয়েছে ? উত্তর হলো না এবং হবেও না । কারণটি স্পষ্টতই রাজনীতি, উপরেই উল্লেখ করেছি ।

আওয়ামীর ক্ষেত্রেও একি তকমা ছিলো এবং থাকবে, সেখানেও রাজনীতি।  আওয়ামী সরকার অনেক বেশি দিয়েছে বলেই ভারতের প্রতি বেশি দুর্বল ভাবা হয় এবং সত্যেও বটে । কিন্তু রাজনৈতিক ফয়দা লুটতেই কেউ স্বীকার করতে নারাজ যে, আওয়ামী সরকারের চেষ্টাটি ছিলো বেশি দিয়ে হলেও সবকিছুর সমাধান হয়ে যাক, আর কত ? কেননা ভারতের সাথে আমাদের পেরে উঠা সত্যি মুশকিল বটে। তাছাড়াও আওয়ামী সরকার ভালো করেই জানে আমাদের দেশের রাজনীতির দূর্বলতাগুলো ভারত ঘিরেই । আমাদের রাজনৈতিকরা ক্ষমতার লোভে নিজেদের বিক্রি করেই বসে থাকে ভারতের কাছে, হোক সেটা যে কোনো দল ( দুই একটা নামকা ওয়াস্তের দল বাদে )। ধারণা থেকেই বলছি আওয়ামী লীগ সব বুঝেই বেশি করে দিয়েও সমাধানের পথেই হাঁটতে চেয়েছিলো, এটা একটি ব্যক্তিগত মত । কেউ ভিন্ন মত অবশ্যই প্রকাশ করতে পারেন ।

আওয়ামী লীগের জন্য সমস্যাটি হয়েছে ঠিক সেখানেই । দাদারা নিজেদর বিশ্বাস ধরে রেখে বর্তমান সরকারকে মূলা ঝুলিয়ে রেখেছে । সেই মূলার গন্ধটা  আওয়ামী সরকার আর নিতেও পারছে না এবং খেতেও পারছে না, এটাই স্বাভাবিক।  আওয়ামী সরকার এটা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে যে, দাদাদের এক্কেবারে বৈঠক ঘর থেকে ডেকে এনে মাস্টার্স ঘরে ( শোবার ঘরে ) ডেকে আনাটা হয়েছে শাঁখের করাত। এখন না পারছে ছাড়তে , না পারছে ধরতে ।  শুরু হয়েছে দুইদিক দিয়েই কাঁটা ।

ধারণা করি শেখ হাসিনা সরকার তাদের এই অভিজ্ঞতার অনুভূতি থেকেই বিএনপির মতন সরাসরি  পূর্ব কুটনীতিতে না গেলেও , বিশ্বের বৃহৎ শক্তি চীনের দিকে ইচ্ছাকৃত ঝুঁকে ভারতকে একটু নেড়ে দেখার প্রচেষ্টায় আছে এবং বেশ এগিয়েছে বলেও মনে হয় । তবে কতটুকু এগুলো আর না এগুলো, তার চেয়েও বড় বিপদ হয়ে ভারতের জন্য দেখা দিয়েছে করোনা পেন্ডেমি। ভারত না পারছে নিজেদের দেশের দিকেই সঠিকভাবে নজর দিতে, উপর থেকে বাংলাদেশ । কেননা চীন আবার ভারতকে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় বেশ গেড়াকলেই ফেলেছে । মূল কথা সময়টি বাংলাদেশ আওয়ামী সরকারের জন্য ফেবারে থাকলেও ভারতের জন্য হয়েছে দিল্লির লাড্ডু।  না পারছে গিলতে , না পারছে ফেলতে । কেননা ভারত আবার বর্তমান সরকারের কল্যাণে বাংলাদেশকে দিল্লির লাড্ডু ভাবতেই বেশ পছন্দ করছে ।

লেখার শেষে একটি বাংলা প্রবাদ এবং মর্মার্থ  দিয়েই আজকের মতন শেষ করবো । প্রবাদটি হলো, ” ক্ষতি করমু যার, গলা ধরে কান্দুম তার ” । প্রবাদটি ভৌমিক দিদি (স্যরি হবে দাদা ) এবং ভারতের জন্য বেশ প্রযোজ্য বটে । লক্ষ্য করুন, ভৌমিক সাহেব ইস্টার্নলিন্কে পূর্বের রির্পোটে সরাসরি নিজের নামে লিখেছিলেন ভুতুরে সব গল্প ( কেননা সূত্রের কোনো উল্লেখ ছাড়া) । সেই ভৌমিক দাদা এবার বিশ্বাস বেশি দেবার জন্য নিজের পুরো ক্যারেকটারই চেন্জ করে, পুরুষত্ব নালায় ফেলে ভৌমিক দিদিতে রূপান্তরিত হয়ে , তাও আবার ধর্মির দিদি হয়ে, বিশ্বাসের পাল্লা ভারি করার ফন্দি এঁটেছেন । কেননা বাংলাদেশের মানুষের কাছে একজন মুসলিম নারীর প্রতিবেদনের মূল্যায়নটি একটু বেশিই হবে বলে ধরে নিয়েছেন । এই কথাটি বলার স্পষ্ট কারণ হলো, ইস্টার্নলিন্কে ভৌমিক দাদার  পূর্বের লেখা প্রতিবেদন আর এই প্রতিবেদনে লেখার স্টাইলে কোনো ফাঁরাক নেই । লেখার ধরণ একেবারেই ভৌমিক দাদার ( হবে দিদি) লেখার জলছাপের মতন। অর্থাৎ কানার ভাই অন্ধও বলে দিতে পারবে, এই লেখা  ভৌমিক দিদির নামে ভৌমিক দাদার । আসুন এখন একটু বাংলা প্রবাদটি মিলিয়ে দেখি । ভৌমিক দিদি সূত্র ছাড়া গালগল্প ( নিশ্চিত ভাড়া খেটে, নিজের চরিত্র পরিবর্তন করে ) লিখে, জেনারেল আজিজ এবং শেখ হাসিনার পক্ষে নেমেছেন না গলা ধরে কান্না করছেন ? সেটা দেখা বা বুঝার জন্য আগামীতে কি ঘটে ? সেই কার্যক্ষেত্র পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া ভিন্ন পথ নেই । এখানে একটি কথা উল্লেখ করতেই হয়, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পূর্বেও  ভৌমিকদের মতন অনেক ভাড়াখাটা ভৌমিকেরা সেই সময়ে ভারতের পত্র পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর গলা ধরে কান্নার নাটক করেছিলো । প্রমাণ অনেক আছে ।

লেখার শুরুতেই একটি চুটকি বলেছিলাম । সেটার মর্মার্থটি বলেই শেষ করবো । ভারত এত বেশি পেয়েছে এই সরকারারের নিকট হতে, এখন যেন পাওয়ার নেশায় পেয়ে বসেছে ( দোষটা সরাসরি আমাদের বটে )। আয়নায় এক কোটি টাকাকে দ্বিগুণ দেখায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে ।  নেপালের সাথেও ভারত এমন আয়নায় সব দেখতো । ফলাফল ভারত নেপালের দিকে তাকালেই পেতে পারে । তবে ভৌমিক দিদিরা বরাবরই দাঁতে ফেঁসে যাওয়া মাংসের টুকরোর মতন । দাঁতের ফাঁকে মাংস ফেঁসে যাওয়া অনেকটা হাতী ফেঁসে যাওয়ার মতন। এই দাঁতের মাংস ভৌমিক দিদিরা যেমন বিরক্তিকর আবার বিপজ্জনকও বটে । সুতরাং সাধু  সাবধান।

ভারতের উদ্দেশে শেষ কথা বলবো, আমাদের সরকারকে আমরা আন্দোলন করে নামাই, দেশে অরাজকতা করে নামাই, গণতান্ত্রিকভাবে নামাই বা এই সরকারের অধিনেই থাকি, সেটা আমাদেরটা আমরাই করবো। নাক গলাতে না আসাই উত্তম । কেননা ভারত তো আবার নিজেদের বিশ্বে মহাশক্তিতে দেখতে চায়, মহাশক্তি হতে হলে পড়শির সাথে সম্মানের আচার প্রয়োজন হয়, ষড়যন্ত্র নয় , নতুবা মহাশক্তি দিল্লির লাড্ডুই হয়ে থাকবে । যদিও ভৌমিক দিদি তার লেখায় পরাশক্তি বলতে ভিন্ন দেশকে বুঝিয়ে তীড় ছুঁড়েছে, উপায় না পেয়ে।  পরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি ছোড়া। পরের ঘরে ঠিল ছুঁড়লে নিজের ঘরেও পাটকেল পড়তে পারে । নেপাল তার উৎকূষ্ট উদহারণ ।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম। 

 

 

 

 

Advertisements

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: