Advertisements

আমার দেখা, জানা—পণ্ডিচেরী অরবিন্দ আশ্রম ( চতুর্থ পর্ব )

১২ জানুয়ারী ১৮৯৩ শ্রী অরবিন্দ কার্থেজ জাহাজে চড়ে স্বদেশে এর উদ্দেশ্য ইংল্যান্ড ছাড়েন । ইংল্যান্ড ছেড়ে আসতে তাঁর কোন কষ্ট ছিলনা।কিন্তু এক মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ম্লান হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর পুএ দেশে ফিরছে, জেনে, ডাক্তার কৃষ্ণধন বোম্বে যান।ছেলে কোন জাহাজে ফিরছে তা তিনি না জানতে পেরে আবার, খুলনায় কর্মস্থলে ফিরে আসেন।খুলনায় ফিরে, ব্যানকার গ্রিন্ডলে এন্ড কোম্পানীর কাছে খবর পান, অরো ইংল্যান্ড থেকে রুমানিয়া জাহাজে ফিরছিলেন।জাহাজ পর্তুগালে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে ।কোন যাএী বেঁচে নেই।এ আঘাত তিনি সয্য করতে না পেরে, ইহ জগৎ থেকে বিদায় নেন।কার্থেজ জাহাজ যথা সময়, ৬ ফেব্রুয়ারী ১৮৯৩ সালে বোম্বাই পৌঁছায়।বোম্বাই পৌঁছে, দুদিন পরে তিনি বরোদা যান।পিতার মৃত্যু সংবাদ মায়ের অসুস্থতার খবর তিনি পেয়েছিলেন।বরোদায় চাকরীতে, যোগ দিয়ে ছুটি নিয়ে বাংলায় ফিরতে চেয়েছিলেন।

লন্ডনে অবস্হান কালে,’কমল অসি নামে ‘এক গুপ্ত সমিতির তিনি সদস্য ছিলেন।সদস্যরা ভারতের স্বাধীনতা অর্জন,ও বিদেশীদের অধীনে চাকরী বর্জনের প্রতিজ্ঞা করেন।পরবর্তীতে তাঁরা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে না পারায়, সংগঠন টি ভেঙে যায়।কিন্ত অরবিন্দ ছিলেন ব্যতিক্রম। মনমতো একটা চাকরী নিয়ে দেশে ফিরার চিন্তা করছিলেন।সুযোগ ঘটে গেলো–এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন–‘সময় সব ঠিক করে দেয়’। তিনি যখন চাকরী খুঁজছিলেন,বরোদার,মহারাজ ইংল্যান্ড অবস্হান কোরছিলেন।কি করে তাঁর সাথে পরিচয় হয়েছিলো, মনে নেই।তিনি তাঁকে বরোদার রাজকার্যে নিয়োগ দেন।শ্রী অরবিন্দ চাকরীতে যোগদান করে জরিপ বিভাগের সাথে যুক্ত হন।একজন দেশীয় রাজার রাজ্য বরোদা।তাঁকে কোন বিদেশী রাজপুরুষ এর আজ্ঞা পালন করতে হবে না। অনেক বেশী স্বাধীনতা, সম্মান ছিল বরোদার চাকরীতে।

রাজ্য সরকারের একজন অফিসার হিসাবে,যোগদিলেও
তাঁর আগ্রহ ছিলো অন্যএ।গায়কোয়ার রাজ বংশের সাথে সুসম্পর্ক ছিল শ্রী অরবিন্দের।মহারানী তাঁকে শ্রদ্ধা এবং সম্মান করতেন।তাঁর মত একজন কবি সাহিত্যিক, সংস্কৃতিবান মানুষ কি ভাবে শাষন কার্যে আবদ্ধ থাকবে? ১৮৯৭ সালে ঠিক হলো তিনি বরোদা কলেজে ফরাসী ভাষায় অধ্যাপনা করবেন। ১৮৯৮ সালে ইংরেজীর অধ্যাপক হিসাবেও নিয়োগ দেয়া হয়।পাশাপাশি তাঁর রাজ কার্যের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ১৮৯৯ সালে কলেজের স্থায়ী অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ এর জন্য তিনি মহারাজ এর কাছে অনুরোধ রাখেন। কিন্ত মহারাজ রাজী হননি।তাঁর অফিস এর নানা কাজ এবং মহারাজের আত্মজীবনী লিপিবদ্ধ করার কাজে তাঁকে তাঁর প্রয়োজন।রাজ্যের কাজ ছাড়া ব্যক্তিগত কাজে তিনি তাঁকে ব্যবহার কোরতেন।একবার এক সামাজিক সভায় মহারাজের ভাষন দিতে হয়েছিলো।শ্রী অরবিন্দ সে ভাষন তৈরি করে দেন।ভাষন তৈরি করে মহারাজকে পড়ে শোনান।শোনার পর মহারাজ বলেন,অরবিন্দবাবু সুরটা একটু নরম করা যায় না?তিনি হেঁসে বলেন পরিবর্তন করে লাভ কি?বক্তব্য যদি উদারও হয় তবু প্রজারা ভাববে, মহারাজ নিজে এটা তৈরি করেননি,অন্য কেউ তৈরি করে দিয়েছে।আসল কথ হলো বক্তব্য আপনার চিন্তার প্রতিফলন হয়েছে কিনা সেটাই মুখ্য বিষয়।এ ভাবেই তিনি নিজ মর্যাদা,স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতেন ।

ফেরদৌসি কাজী লিনু হক

 

Advertisements

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: