হে যুবক আপনি খুনি নন তো?

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে কাঁপছে সারা পৃথিবী। পুরো বিশ্বে একটি আতংকের নাম এখন করোনা ভাইরাস।

দিন যতো ঘনিয়ে আসে হতাশা ততই বেড়ে চলে, মাঝে মাঝে চিন্তা আসছে বিশ্বের চরম এই দূঃসময়ে বেচে থাকতে পারাটাই এখনবিশ্ববাসীর কাছে বিষ্ময়কর।

হে যুবক আপনার শারিরীক গঠনে বেশ মজবুত। হারকিউলিসের মত বাহু যুগল। বুকের ছাতাও বেশ চওড়া, বাঘের মত বল।আপনার ধ্যান ধারণাও তাই বেশ আপগ্রেড সব কিছুতে ডেমকেয়ার ভাব। কোন কিছুই পরোয়া করেন না। মনে করেন, করোনাওআপনাকে ভয় পায়, নয়ত মাঝে মাঝে মশকারা করে দেখে হয়ত কিছু করতে পারেনা।

তবে, করোনা গোপনে যে  আপনার সাথে বন্ধুত্ব করেছে সে কথা কি জানেন? জানবেন কোত্থেকে আপনি যতটুকু বলবান ততটুকুবুদ্ধিমান তো নন! ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখুন বন্ধুর হাতেই বন্ধু বেশি হয় খুন। প্রকাশ্য শত্রু হতে মানুষ সজাগ থাকে কিন্তু  নির্বাক মিত্র সে তো ভয়ানক। করোনা নামক আপনার নির্বাক মিত্র আপনাকে তলেতলে বানিয়েছে  একজন নীরব ঘাতক, খুনি, প্রাণ হন্তারক। সে খবর কি আপনে রাখেন?

হে যুবক আপনার প্রকাশ্য লাগামহীন চলাফেরা, আড্ডাবাজি, ডেমকেয়ার মনোভাব এর সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সে পৌঁছে যাচ্ছেআপনার অন্দর মহলে। যেখানে বসবাস করছে আপনার বয়োবৃদ্ধ মা-বাবা, দাদা-দাদী কিংবা সদ্য পৃথিবীর আলো দেখাপরিবারের ইনোসেন্ট সদস্যগুলো। এরা তো আর আপনার মত শক্তিশালী রেসলার নয়। উনারা  কোন না কোন প্রয়োজনেআসেন আপনার সংস্পর্শে । ঠিক এরকম মোক্ষম সুযোগের  অপেক্ষায় থাকা করোনা কাল বিলম্ব না করে হয় মীর জাফরেরভূমিকায় অবতীর্ণ।

করোনা আপনার ঘাড়ে চড়ে এসে সুযোগ বুঝে ছুরি চালায় আপনার বুকে। এর জন্য করোনা যতটুকু দায়ী নয় তার চেয়ে বেশিদায়ী আপনি। কারণ করোনা খুবই আত্ম অহংকারী সে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার ঘরে আসেনা যতক্ষণ না আপনি বাইরে গিয়েতাকে ডেকে না আনছেন।আপনার আথিথীয়তায় ধন্য হয়ে করোনা হন্যে হয়ে ওনাদেরকে খুঁজে বেড়ায়। ফলাফল যা হবার তাইহয়। এর দাঁয়ভার আপনি কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না! ক্ষণিকের অসাবধানতা হয়ে থাকে সারা জীবনের কাঁন্না।

বলতে পারেন আপনি তরুণদের কথা বলছেন কেন? বর্তমানে পরিস্থিতিতে আপনাদের ভূমিকা, বেপোয়া চলাফেরা, গলির মুখেআড্ডা এবং আক্রান্তের হার পর্যালোচনা করে দেখুন বলছি কেন? আপনি আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠছেন কিংবা আক্রান্ত না হয়ে  বাহক হয়ে যে ঘটনা ঘটাচ্ছেন আপনার দ্বারা আক্রান্তরা তো রিকভারী করতে পারছে না।

জীবন জীবিকার তাগিদে যারা বেরোচ্ছেন তারা অনেকেই যথেষ্ট সচেতন আছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন।এরপর ও  ব্যতিক্রম কোনকিছু ঘটে গেলে তা হয়ত উপর ওয়ালার একান্ত ইচ্ছা বৈ অন্য কিছু নয়।

হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি উট বেঁধে রেখে আল্লাহর উপর ভরসা করব, নাবন্ধনমুক্ত রেখে? তিনি বললেন,”উট বেঁধে নাও, অতঃপর আল্লাহর উপর ভরসা কর”।(তিরমিযি)

উপরোক্ত হাদিসের আলোকে বলতে পারি আপনি নিয়ম না মেনে কখনওই আল্লাহর উপর ভরসা করতে পারেননা, কারণবিশৃঙ্খল জাতিকে আল্লাহ পছন্দ করেন না।

নিয়ম মানুন, ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদেরও প্রত্যেককে নিয়মটি মেনে চলা উচিত। খুব জরুরিপ্রয়োজন না হলে আমরা যেন ঘরের বাইরে না যাই। অন্যের সংস্পর্শ যেন এড়িয়ে চলি। আর বাইরে বের হলেও যেন শারীরিকদূরত্ব বজায় রাখি।

আঁধার কেটে যাবে, পৃথিবীর অসুখ সেরে যাবে, সুদিন আসবে, ইনশাআল্লাহ।

20181210_131841

লেখক: আবু জাফর শিহাব(এল এল বি)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: