করোনার টেস্ট বন্ধ করলেই সংক্রমণ কমে যাবে: ট্রাম্প

BATTLE CREEK, MICHIGAN - DECEMBER 18: President Donald Trump addresses his impeachment after learning how the vote in the House was divided during a Merry Christmas Rally at the Kellogg Arena on December 18, 2019 in Battle Creek, Michigan. While Trump spoke at the rally the House of Representatives voted, mostly along party lines, to impeach the president for abuse of power and obstruction of Congress, making him just the third president in U.S. history to be impeached. Scott Olson/Getty Images/AFP == FOR NEWSPAPERS, INTERNET, TELCOS & TELEVISION USE ONLY ==

কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমার উপায় নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে করোনাভাইরাসকে গুরুত্ব না দিয়ে বিতর্কিত হওয়া এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা বেশি হচ্ছে বলেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। টেস্ট বন্ধ করে দিলে এমনিতেই সংক্রমণ কমে যাবে। খবর সিএসএনের।

সোমবার প্রবীণ নাগরিকদের সহযোগিতাবিষয়ক এক সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে করোনাভাইরাস রোধে শরীরে জীবাণুনাশক ইনজেকশন নেয়ার পরামর্শ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি আপনি পরীক্ষা করা বন্ধ করে দেন, তা হলে কোনো করোনা রোগীই পাবেন না। যদি আমরা এ মুহূর্তে করোনা টেস্ট করা বন্ধ করে দিই, তা হলে আমরা খুব কমই করোনা রোগী পাব।

করোনাভাইরাস নিয়েও একেক সময়ে একেক কথা বলছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে তিনি বলেছেন– সারা বিশ্বের মধ্যে আমেরিকায় বেশি করে টেস্টিং হচ্ছে। এ কারণেই অন্য দেশের চেয়ে করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বেশি।

জাতিসংঘ যেখানে করোনা প্রতিরোধে বেশি করে পরীক্ষার ওপর জোর দিতে বলছে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্টো পথে হাঁটার কথা বলছেন।

১৫ জুন সকালে এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘অন্য দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টেস্টিং ব্যাপক আকারে এবং উন্নত পদ্ধতিতে হচ্ছে। এ কারণেই অনেক বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। টেস্টিং না হলে বা দুর্বল পদ্ধতিতে টেস্টিং হলে দেখা যেত, এই দেশে করোনা সংক্রমিত কোনো রোগীই নেই।’

তিনি টুইটে আরও লেখেন, করোনার টেস্টিং হলো দুদিকে ধার দেয়া তরবারি— এটি আমাদের খারাপ অবস্থাকে প্রকাশ্য করছে। অন্যদিকে এটি একটি ভালো কাজ।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ আগের চেয়ে কমে এসেছে। আগে যেখানে রোজ হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, এখন মৃত্যু কমে শয়ে নেমে এসেছে। এ কারণে হোয়াইট হাউসের কাছে করোনাভাইরাসের বিষয়টি এখন আর তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স এ নিয়ে কোনো সংবাদ সম্মেলনও এখন আর করছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনাশা করোনায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আরকানসাস, টেক্সাস, অ্যারিজোনা, অ্যালাবামা, ওকলাহোমা, ফ্লোরিডাসহ অন্তত ২০ রাজ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব বিবেচনা না করে সব কিছু স্বাভাবিক আছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুরেই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নাটকীয়ভাবে বেশি করে টেস্টিং করা হচ্ছে বলে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: