অক্সিজেনের মাত্রা ৮৯ দেখেই রোগী তাড়ালো হাসপাতাল, পথেই মৃত্যু

ঘড়ির কাঁটায় রাত ৩টা। চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে এক রোগীকে নিয়ে আসলো তার তিন সন্তান। কিন্তু যে সিএনজি অটোরিকশা করে রোগীকে আনা হল সে অটোরিকশা থেকেই রোগীকে নামালো না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এক কর্মচারী এসে রোগীর অক্সিজেন সেচ্যুরেশন মেপে দেখলো। ৯৫ পয়েন্টের স্থলে রোগীর অক্সিজেন সেচ্যুরেশন পয়েন্ট তখন ৮৯।

হাসপাতালের দুয়ারে দাঁড়িয়েই ওই কর্মচারী মোবাইলে কল দিয়ে তা জানালো কর্তব্যরত চিকিৎসককে। দেখাতো দূরের কথা, কর্মচারীকে দিয়ে হাসপাতালের দুয়ার থেকেই তাড়ালো চিকিৎসক! অথচ রোগীকে বাসা থেকে বের করার আগে যখন তার সন্তানরা কল দিল হেল্পলাইনে, তখন ভর্তি করাবে বলে কথা দিয়েছিল ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরপর তিন ভাই মিলে বাবাকে নিয়ে আসলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের নেওয়া হল। কিন্তু রাত সাড়ে ৩টায় চমেকের জরুরি বিভাগের নেই কোনো চিকিৎসক। কয়েকজন কর্মচারী মিলে ইসিজি করালো ওই রোগীর। ততক্ষণে মৃত্যুর কোলেই ঢলে পড়লেন ৫২ বছর বয়সী ওই রোগী।

বুধবার দিবাগত মারা যাওয়া রোগীর নাম মো. জসিম উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বণিকবার্তার চবি প্রতিনিধি জোবায়ের চৌধুরীর বাবা।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে জোবায়ের চৌধুরী বলেন, রাত আড়াইটার দিকে বাবার মাথার এক পাশে ব্যথা উঠে। ডান হাত অবশ যায়। আমি তখনই ন্যাশনাল হাসপাতানের ল্যান্ড ফোনে কল করি। বাবার পরিস্থিতি জানাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে বলে, ‘আপনি রোগী নিয়ে আসেন।’ আমরা যখন বাবাকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় উঠি তখন আমি আবার কল করি ন্যাশনাল হাসপাতালে। ওনারা তখন বলে, ‘আপনি একবার কল করেছিলেন না? রোগী নিয়ে আসেন। আমরা ভর্তি করাবো।’ কিন্তু বাবাকে নিয়ে আসার পর তারা গাড়ি থেকেই নামালো না। এক কর্মচারী এসে অক্সিজেন সেচ্যুরেশন মেপে দেখলো। আমি তাকে বললাম, ডাক্তারকে ডাকুন, নয়তো জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তখন উনি কল দিলেন কর্তব্য চিকিৎসককে। বললেন, ‘রোগীর অক্সিজেন সেচ্যুরেশন ৮৯। এখন কি করবো’। এরপরই ওই কর্মচারী আমাদের বললেন, ‘আমাদের ফ্লু কর্ণার খালি নেই। আপনারা অন্য হাসপাতালে রোগী নিয়ে যান।”

জোবায়ের বললেন, ‘আমাদের যদি ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করাবে না বলে দিত তাহলে আমরা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতাম বাবাকে। কিন্তু তারা ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতারণাই করলো আমার বাবার জীবন নিয়ে।’

সাংবাদিক জোবায়ের আরও বলেন, ‘পরে চমেক হাসপাতালে নিলাম। জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখি, কোনো ডাক্তার নেই। তখন প্রায় সাড়ে তিনটা। আসলে চমেকে আনার আগে পথেই বাবা মারা যান।’

আক্ষেপের সুরের জোবায়ের বললেন, ‘কি অদ্ভুত, অক্সিজেন সেচ্যুরেশন মেপে দেখলে ওয়ার্ড বয়, চমেকে কর্মচারীরাই বাবার ইসিজি করালেন, আর কর্মচারীরাই বাবাকে মৃত ঘোষণা দিলেন। ডাক্তারের দেখা পেলাম না।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: