Advertisements

আজকের বরেণ্য শিল্পীরা কেনো ভবিষ্যেৎতে জাতির লজ্জা?

 

 

থমাস গটশাল্ক ( Thomas Gottschalk) জার্মান টি.ভি স্টারকে নিয়ে তার সমর্থক গোষ্ঠীর সমবেদনার ঝড় উঠেছে মাত্র ৯১৫,৭৯( নয় ‘শ পনেরো ইউরো, উনআশি সেন্ট) মাসিক পেনশন বা ভাতা নিয়ে। এটাই স্বাভাবিক ,
কারণ একজন সুনাম ধন্য  টি,ভি, মডারেটর যিনি ভেটেন ডাস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন ও টিভি কোম্পানিকে লাভবান করে তুলেছেন। জনপ্রিয় মডারেটরদের মধ্যে অন্যতম হলেও তার মাসিক অবসরের টাকা নেহায়েত অতি অল্প। তাই মানবতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তার বিষয়টি এসেছে সংবাদপত্রে। তার ভাতা বাংলাদেশের অর্থে প্রায় ৯০ হাজার টাকার সামান্য উর্ধ্বে। কিন্ত এখানের জীবন যাত্রার মান অনুপাতে নিম্নমধ্যবিত্ত বলা চলে।
এখানে প্রশ্ন আসাটা সাভাবিক এতে আমাদের, অর্থাৎ বাংলাদেশীদের কি আসে যায়? আসে যায় এ জন্যেই যে, জার্মানিতে একটা সিস্টেম গড়ে উঠছে যে শিল্পী যে খানে যে ভাবেই কর্মজীবন অতিবাহিত করুক না কেন, যে বেতন বা স্যালারি গ্রহণ করুক না কেন তার কর্মজীবন শেষে ৬০ বা ৬৫ বছর পর যখন অবসরে যাবে সে তার একটা অংশ মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত পেয়ে যাবে। কারণ সে তার মাসিক অর্জিত ভাতা থেকে একতৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশ সরকারকে দিয়ে এসেছে অবসর বা পেনশন  হিসাবে। তাই তার জমাকৃত অংশে সরকারী হিসাবে এই অর্থ পাওয়া তার অধিকার। তবে মানবিক দৃষ্টিতে অতি সামান্য বলে এ বিষয়টি এসেছে নিউজ মিডিয়াতে যাতে সরকার সদয় দৃষ্টিতে তার ভাতা কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দেন অথবা বর্তমানের মডারেটরা একটু বেশী বেতন পেতে পারেন এবং পেনশনের অংকটা বেশী হয়।
এই হচ্ছে জার্মানির শিল্পী বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক অবস্থা।
এখন দেখা যাক আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কি?
প্রায়ই দেখা যায়, আব্দুল জাব্বারে মত গুণী শিল্পীদের চিকিৎসা,খাদ্য, বাসস্থান ও অর্থ অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করে ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে মৃত্যু বরণ করতে হচ্ছে। যদি ভাগ্য ভালো হয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে হতে কিছু দিয়ে তাদের  এবং জাতির  সম্মান  রক্ষা করার একটি ব্যাবস্থা আছে।
একজন গুণী শিল্পী অভাবে মারা যাওয়া জাতির কলঙ্ক যা ঢাকতে সরকার প্রধান নড়েচড়ে বসেন। কিন্তু একি কোনো সমাধান হতে পারে?
কেনো এনলিস্টেড শিল্পীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার বেষ্টনীতে নিয়ে আসা হয় না?
যে শিল্পী যে অর্থই উপার্জন করবে তার সুরক্ষায় কেনো অবসর  হিসাবে একটা অংশ সরকারের শিল্পী সিকিউরিটি ফান্ডে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয় না। ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেমন ভ্যাট পে করা হয় কেনো তেমনি তাদের নিকট হতে সরকারি ফান্ডে অর্থ জমানো হয় না তাদেরই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় ।
আর কতদিন গেলে আমরা বলতে পারবো, আমাদের সামাজিক কর্মীদের, শিল্পী, সাংবাদিক ও মুক্ত কর্মজীবী, বেসরকারি কর্মজীবী, নাট্যকার, অভিনেতা অভিনেত্রী গায়ক,গায়িকা, সবার জীবন সুরক্ষিত? এমনও দেখা যায় এককালিন পার্লামেন্ট  সদস্যরা চিকিৎসা, আহার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে!
আমরা স্বপ্ন দেখি সোনার বাংলার, ডিজিটাল বাংলার,
উন্নয়নশীল দেশের। কিন্তু কেন দেশের বরেণ্য শিল্পী ও সামাজিক কর্মীদের এখনও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে সুরক্ষার ভিত্তি নিয়ে আসা হচ্ছেনা।জাতির লজ্জা ঢাকতে প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কেন হাত দিতে হয়? প্রধানমন্ত্রীকে বাহবা দিতে সকলে মিডিয়া তৎপর হয়ে সংবাদপত্রের হেড লাইন করে তোলেন। কিন্তু এই কি সমাধান ? কবে আসবে এদের সুপরিকল্পিত আর্থিক  সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ ?
মাননীয় সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে জাতিকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দিয়ে আস্থাশীল করবেন সেই প্রত্যাশা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন ।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার, প্রবাসী কবি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ।

Advertisements

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: