Advertisements

করোনার মতো মহামারী  প্রতিরোধে সম্মিলিত  সবার চেষ্টাই দিতে পারে সুরক্ষা

 

 

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা করোনা মহামারী নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে ইউনিভার্সিটির এক ভিডিও কনফারেন্সে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেন ” যারা এই  মহামারী  প্রতিরোধের দায়িত্বে  আছেন তারা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছেন না কি ভাবে এই মহামারীকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।” তার সাথে আরও বলেন ইউনিভার্সিটির নতুন ক্লাসে ২০২০ পৃথিবীর মহামারী ও এপিডেমি স্থান পাওয়া অত্যাবশ্যক। তবে স্বয়ং  তিনি নিজে থাকলেও হয়তো  এমনটাই স্বাভাবিক  ছিল কারণ পৃথিবীটাই একটা নতুন সমস্যার সম্মুখীন।

 

 

জার্মানির বার্লিনে ৫০০ বেডের করোনা ক্লিনিক ভেন্টিলেশনের শতভাগ সুবিধা সহ অতি অল্প সময়ে সমাপ্ত করলেও পরে থাকবে রুগী অভাবে, কারণ করোনা আক্রান্ত ১৭৬৩৬৯ হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন,১৫৪০১১জন, মৃত্যু ৭৯৫৮ জন অর্থাৎ মাত্র ১৪,৪০০ জন হাসপাতালে অবস্থান করছেন। যা জার্মান
সরকারের চিকিৎসা সরাঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনার কাছে শতভাগ হাতের নাগালে, বরং এরও দশ গুণ রুগীকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আশা করা যায় লকডাউন, জনসচেতনতা ও করোনা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে জার্মান সরকারের সফলতা অনেকটাই প্রসংশানীয় বলা যেতে পারে। এখন কথা হচ্ছে একটি শত ভাগ অর্থনৈতিক ভাবে সুফল রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিকদের সাথে বাংলাদেশের মত অনুন্নত দেশের তুলনা করা নেহায়েত বোকামি। কারণ করোনার চেয়েও ক্ষুধার মহামারী লকডাউনের কারণে হতে পারে মহাবিপদজনক  , যার নমুনা মাত্র কয়েক দিনেই চোখে পড়েছে।
তবে করোনিয় কি?
করোনিয় একটাই, করোনা থেকে বাঁচতে হলে সাবধানতা অবলম্বন করা, সকল প্রকার বিধি নিষেধ মেনে চলা এবং প্রয়োজন দেখে জীবন যাত্রার মান করোনা যুদ্ধে বেঁচে থাকার উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।
জনগণের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জাতির জনকের শতবর্ষ পালন থেকে অনেকটা বিরত থাকা, স্বাধীনতা দিবস পালন না করা, মসজিদে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা, হাজার হাজার কোটি টাকা ফ্যাক্টরী বন্ধ রেখে ভর্তুকি দেওয়া, ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ রেখে রাজস্ব হারানো, ত্রাণ ও নগদ অর্থ সহায়তা যার সবই এই করোনা ঘিরে, আর তখন যদি ঈদ উৎসব নিয়ে লাখো জনসাধারণের ঢল ফুর্তির বাজার করতে রাস্তায় আসে তখন আর বলার কিছুই থাকে না যে আমরা কত অসচতেন ও মূর্খতানিয়ে বাস করছি।
তাই সময় এসেছে দেশের সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলোকে বিকেন্দ্রীকরণ  করা যাতে শুধু ঢাকা, চিটাগাং কেন্দ্রীয় না হয়ে সমস্ত দেশব্যাপী গড়ে উঠে। প্রয়োজনবোধে শ্রমিকদের বাসস্থান ও বাজার ঘাটের সুবিধা রেখে শিল্প পল্লীর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন করা যাতে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে শিল্প কল কারখানা সচল রাখা সম্ভব হয়।
যেহেতু সমস্ত কিছু বন্ধ করে দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো সচল রাখা সম্ভব নয়, তাই ধীরে  ধীরে সকল নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিধি  মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাটাই যুক্তি সংগত হবে। আর যারা না মানবে ঢলে পড়বে মৃত্যুর কোলে। কারণ চিকিৎসার যে সরাঞ্জাম  দেশে থাকা দরকার তার তেমন কিছুই নাই।
অন্যদিকে শিক্ষা ব্যাবস্থাকে সচল রাখতে বিকল্প হিসাবে নিতে হবে ইন্টারনেটের সহায়তায় ছাত্র ছাত্রীর ক্লাস ও পরিক্ষার ব্যবস্থা। অফিস ও ভিডিও কনফারেন্স করতে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে নিয়ে আসতে হবে নেটের আওতায় ।
এভাবে প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনে নিতে হবে সময় উপযোগী পদক্ষেপ, নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচিয়ে রাখতে।
পরিশেষে একটাই কামনা থাকবে সবাই স্বাস্থ্যবিধি  মেনে চলবেন এবং নিজ নিজ চেষ্টায় ভালো থাকবেন।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার, প্রবাসী কবি এবং লেখক

Advertisements

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: