Wednesday April14,2021

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা সত্যি প্রশংসনীয়। সারা বছর গালি দিলাম তাদের। বিপদেই বন্ধুর পরিচয়। সারাটা দিন এই অশিক্ষিত জাতির পিছনে ছুটতে ছুটতে যখন শরীরটা আর সায় দেয়না তখন মশার কামড়, গরম সবকিছুই হয়তো হার মেনে যায়। কোনভাবে কারোর দয়ায় হয়তো চেয়ারটা মিলেছে। হয়তো আধা ঘণ্টা এভাবে থেকেই আবার টহলে বেড়োতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা করোনা সংক্রমণ থেকে মানুষকে সচেতন করতে নিরলশ কাজ করছেন। “মাস্ক কই” “বাইরে কি?” “ঘরে যান” “কি করছেন ২-৩ জন দাঁড়িয়ে এখানে?” “দোকান বন্ধ করেন” “পরিবারের সাথে থাকেন”, “বাসায় থাকেন” বলতে বলতে হয়তো ভুলেই গেছে যে তারও একটা বাসা আছে পরিবার আছে।

93439809_3173148936064016_1266405295165276160_n.jpg

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশজুড়ে প্রচারণা, গুজব ঠেকানো, ত্রান বিতরণ, অপরাধের প্রতিকার ও প্রতিরোধ সবই এখন সমান তালে করছে বাংলাদেশ পুলিশ। জনগনকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশনে ঘরে রাখার মূল কাজটিও করছে পুলিশ। সংকটাপন্ন সময়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে যেন কোন ক্লান্তি নেই তাদের। পুলিশের এ মানবিক ও সাহসী ভূমিকা সত্যিই প্রসংশিত। এই পুলিশ এদের দিকে তাকিয়েও কি আমরা একটু সোজা হতে পারিনা? হ্যাঁ, বাইরে অযথা ঘোরাঘুরি করা মূর্খগুলো যদি বাসায় থাকতো হয়তো এই মানুষগুলো এতোটা ক্লান্ত হতো না। পুলিশ টহলের পর টহল দিচ্ছে আর মূর্খগুলো সুযোগ বুঝে রাস্তায় হেটেই বেড়াচ্ছে। অদ্ভুত জাতি আমরা। আর আমরা বাসায় শুয়ে শুয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন পোষ্টে গেম খেলছি, মেসেঞ্জারে আড্ডা দিচ্ছি, করোনা নিয়ে মিম বানাচ্ছি, ফ্যানের তলায় শুয়ে আরামে পা দোলাচ্ছি। স্যালুট জানাই।এরাই জনগনের অতন্দ্র প্রহরী। দোয়া করি ভালো থাকুক মানুষগুলো। স্যালুট বাংলাদেশ পুলিশ! বাংলাদেশ পুলিশ জাতির ক্রান্তি লগ্নে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়েছেন তারা। ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। তারাই এখন অন্ধকারের আলোক বর্তিকা। ঠক ঠক…। এতো রাতে কে? পুলিশ, পাশের থানার থেকে এসেছি। ভয়ে ভয়ে দরজা খুলতেই পুলিশ বাজারের ব্যাগ বুঝিয়ে দেয় গৃহকর্তাকে। স্বপ্ন নয়, এটাই সত্যি। শত শত পরিবারের আজ এই অভিজ্ঞতায় হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিম্ন মধ্যবিত্ত সে সকল ঘরে কোন মানুষ যেতে পারছে না নিরাপত্তার জন্য, সেখানেই স্থানীয় পুলিশ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সাহায্য করছে বাজারের ব্যাগ পৌঁছে দিতে। এই সকল পরিবার না খেয়ে মরবে, তবুও দিনে খাবারের জন্য লাইন ধরবে না। এই অহংকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো বাজারের ব্যাগ তুলে দিচ্ছে গভীর রাতে। এটা বাংলাদেশ পুলিশ এর দায়িত্ব নয়, পুরোপুরি কাজটি তাঁরা করছে স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে। স্যালুট জানাই এই সকল সাদা মনের মানুষকে। স্যালুট জানাই এই দুর্যোগের প্রকৃত যোদ্ধাদের। বাংলাদেশ পুলিশ বর্তমানে সেবকের ভূমিকায় উপনীত। স্যালুট বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। আপনাদের কর্ম দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রবে। আল্লাহ তাদেরকেও হেফাজত করুক। আসুন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, ঘরেই থাকি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, নিজে সুস্থ্য থাকুন এবং অন্যকেও সুস্থ্য রাখুন এবং মহান আল্লাহ্’র সাহায্য প্রার্থনা করি। আমিন।

20181210_131841

আবু জাফর শিহাব (এল এল বি)