Wednesday April14,2021

ইতিহাসে, মানব সভ্যতার সব চাইতে বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বিশ্ব। স্বাভাবিকভাবেই আমরাও সেই বৃত্তের ভিতরে । করোনা মহামারী আমাদের দেশে বেশ ভালো ভাবেই তার প্রভাব দেখাচ্ছে, এটা অনুমিতও ছিলো বটে। সামনে এখন দেখার বিষয়, আমাদের সরকার কতটা টেকল দিতে পারে। কেননা আমাদের সচেতনতার ক্যাটাগরিটা আবার একটু নিচের দিকে কিনা ! সরকার এই মহামারী থেকে উৎরে উঠতে যত ব্যবস্থাই নেক না কেন, কোনো কাজেই আসবে না, যদি না জনমানুষেরা সহযোগিতা না করে ।

সমস্যা হলো আমাদের জনমানুষেরা করোনাকে অন্যান্য দুর্যোগের সাথে মিলিয়ে ফেলছে ! মনে রাখা ভালো যে, এটা কোনো বন্যা/ ঘূর্ণিঝড়/ প্লাবন/ খড়া ইত্যাদি মোটেও নয়। কয়েকবার লিখেছি , আবারও বলি, এটা একটি অদৃশ্যের সাথে মানুষের লড়াই । ইতিপূর্বে শতবছরেও বিশ্বে এক লক্ষের উপরে মৃত্যু হয় নাই। যা কিনা এই করোনা ছাড়িয়ে গেছে। ভয়াবহতার চরম এই করোনা।

আমাদের সরকার সামনে কি পরিকল্পনা নিবে সেটার উপর আমাদের দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে, যেমনটি বিশ্বের সকল দেশও। ইউরোপের পত্র-পত্রিকায় ইউরোপের দেশগুলোর কিছু গঠনমূলক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। জনমানুষের মতামত, ভাবনা, সেগুলোও ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে শুরু করেছে। যদিও করোনা মহামারীর এখন শেষ হয়নি। তারপরেও আলোচনা ইতিমধ্যেই চলছে। বুঝাই যাচ্ছে বিশ্ব ভাবনায় পড়েছে। মহা এই সংকট বিশ্বকে মহা একটা ধাক্কাই দিবে। সেটার প্রভাব আমাদের মতন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো হাড়ে হাড়েই টের পাবে। সুতরাং আগেভাগেই সঠিক পথটি খুঁজে বের করুন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সমীপে বলছি, আপনার সরকার, আপনার দল কিংবা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একা দেশের এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। এটা সম্ভব নয়। মনে রাখবেন, আপনি যত বড়ই প্রধানমন্ত্রী হোন, বা যত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হোন, কিংবা বিজ্ঞ বা জ্ঞাণী হোন, কঠিন সত্য হলো ১৮ কোটি জনতার সমাধান কেবলমাত্র একটি মাথা বা একটি অঙুলির ঈশারায় সমাধান হতে পারে না এবং কখনোই না ।

আজকে হয়তো বা ক্ষমতার জোরে ভাবছেন, এই করোনা মহামারী নির্বাচনের মতন সহজ সাধ্য বিষয় । গোপনে একা একা সব সামাল দিয়ে দিবেন। স্পষ্ট করে বলি, এটা সম্ভব নয় এবং অবশ্যই সম্ভব নয়। এখন অব্দি আপনি বা আপনার দলের সরকার একা চলার পথেই হাটছেন ! যা দেখে অবাক হচ্ছে এই বিশ্ব এবং আমাদের মতন আমজনতা । আরো স্পষ্ট করে বলি, এই সিদ্ধান্তে সমগ্র জাতীকে আপনি বিপদগ্রস্ত করছেন। ১৮ কোটি জনতার দায়িত্বে থেকে আপনি এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেন না । এটা ভুল, ভুল এবং ভুল। এটা যদি আপনার অহমিকা বা রাজনৈতিক কৌশল থেকে হয়, অনুরোধ থাকবে, আপনি একজন বিজ্ঞ ও জ্ঞাণীজন হিসেবে দ্বিতীয়বার ভাবুন। ( থিংক টুয়াইস )

সময় শেষ হয়ে যায় নি। আপনি বঙ্গবন্ধুর মতন পাহাড় সম দয়াবান ও ব্যক্তিত্বের অধিকারীর কন্যা হিসেবে, ১৮ কোটি জনগণের কথা বিবেচনায় নিয়ে দয়াবান হোন , সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। এতে করে দেশ রক্ষা পাবে। কেননা, এই করোনার ভয়ঙ্কর সময়টিই একমাত্র পাড় হবার বিষয় নয়। এই ভয়াবহতার পরে আসবে সব চাইতে বড় সংকট বড় ভয়াবহতা । সেই সংকট হবে যুদ্ধ জয়ের সংকটের চেয়েও বড় । আগামীর ভয়ঙ্কর সময়টি পাড় হতে হলে, আপনাকে, আপনার সরকারকে, দেশের সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতেই হবে। এছাড়া উপায় খুঁজে পাবেন না।

বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও  অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর একটা বিবেক জাগ্রত আছে। তারা বর্তমানে রাজনীতি করছে না বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে, এই মহামারীর বিপজ্জনক সময় পাড় হতেই, দেশে শুরু হবে অর্থনৈতিক বিপদের আগমন।  মনে রাখবেন, সেই সময় এই দলগুলো বসে থাকবে না । রাজনীতি করতে বাধ্য হবে এবং শত বাঁধা আসলেও রাজনীতি চলবেই । কেননা, বিশ্বে এই অব্দি  যত বিপ্লব হয়েছে, তার পিছনের ইতিহাসে ক্ষুধা/ দারিদ্র্য/ অনাহার, বরাবরই প্রধান বিষয় ছিলো। করোনার ভয়াবহতার পরে শতভাগ নিশ্চিত যে, সমগ্র বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা আসবেই এবং আমাদের দেশেও একি ঘটনা বড় হয়ে আসবে । ঘণ জনবসতিপূর্ণ এই দেশে বেকার আর গরিবের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সুতরাং বিপদ সামনে দৃশ্যমান, এখনই সাবধান হোন।

সরকার প্রধান হিসেবে যতদ্রুত সম্ভব , সবাইকে নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরকে লক্ষ্য রেখে টাস্কফোর্স গঠন করুন। একটা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করুন। দেশে অনেক ভালো ভালো নিরপেক্ষ, সৎ ও দেশপ্রেমিক অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সকল বিষয়েই জ্ঞাণী ও বিজ্ঞজন আছেন। তাদের এবং অবশ্যই সকল রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে, এগিয়ে যাবার জন্য, দেশের মঙ্গলের জন্য, দেশের ভবিষ্যতের জন্য কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সকলের কথাবার্তা আর আলোচনা থেকে একটি কথা স্পষ্ট করে বলা যায়, সকলেই আপনার একটি আহ্বানের জন্য অপেক্ষায় আছেন । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে রাখা ভালো হবে,  আপনার একটি আহ্বান, বর্তমানে দেশের সব চাইতে কাঙ্খিত চাওয়া । সত্যি বলতে এখন আপনার পালা, সরকার প্রধান হিসেবে এটা করাটা এখন ফরজ বলেই মনে হচ্ছে । নফল/ সুন্নাত/ ওয়াজিব/ তাহাজ্জত নিয়ে যাই হয়েছে বা বর্তমানে হচ্ছে, সব ভুলে গিয়ে, ফরজটি আদায় করুন।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম।