Tuesday April20,2021

গতকাল শেষ হলো উহুনে লকডাউন !
কোভিড-১৯ সংক্রামণ শুরুটা চিনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরেই।
চাইনিজ নববর্ষের দু’দিন আগে, ২৩শে জানুয়ারি সকাল ১০:০০টায় উহান লকডাউন করা হয়।
তাদের মধ্যে ভয় কাজ করে, ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পরবে।
বাস, মেট্রোপলিটন, রেল সহ সকল প্রকার পরিবহন চলাচল বন্ধ করে, বিচ্ছিন্ন রাখা হয় বাইরের শহরগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যাবস্থা।
উহানে সেদিন করোনাভাইরাস সংক্রামণ রোগীর সংখ্যা ৪৯৫জন।
যা কিনা, দুই সপ্তাহ আগের থেকেও দশগুন বেশি।
ডিসেম্বরে জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতাল গুলোতে আসে।
ধারণা করা হয়, লোকাল একটি শী ফুড মার্কেট হতে ভাইরাস সংক্রামণ শুরু। লোকাল মার্কেটটি ১লা জানুয়ারি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
সংক্রামক ভাইরাসটি মানুষ হতে মানুষে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
শহরটির ৩৮ হাজার ডাক্তার পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খান।
লকডাউনের এক সপ্তাহ পর, ৩১শে জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী “স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
২৫শে জানুয়ারি ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট প্রথম অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয়।
২রা ফেব্রুয়ারি হতে অস্থায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করে।
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চীনের সর্বত্র হতে, দশ হাজার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে উহান পৌঁছান।
যখন আগের সপ্তাহ থেকেও সংক্রামক রোগী তিনগুন বেড়ে গিয়েছিল।
সকলকে টেস্ট করে যাদের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে তাদের হাসপাতালে বিচ্ছিন্ন ভাবে রাখা হয়।
যাতে করে একজন হতে আরেকজনে সংক্রামণ বিস্তার রোধ করা যায়।
৩রা ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর সংখ্যা ৩৬১ জন ছাড়িয়ে যায়।
লকডাউনের তিনসপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত রোগী্র সংখ্যা বেড়ে হয় দশ হাজার।
সংক্রামণের উপসর্গ আছে এমন মানুষের সংখ্যাও তখন কয়েকগুণ বেশি।
অস্থায়ী হাসপাতালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়।
ডাক্তার, নার্সরাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।
লকডাউনের এক মাস আগেই মারাত্মক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে চীনা চিকিৎসক সর্বপ্রথম সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন।
লি ওয়েনলিয়াং নামে ওই চিকিৎসক উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালে কাজ করার সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ৭ই ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
লকডাউনের এক মাসের মধ্যে দশজন চিকিৎসা সেবা দিতে এসে মারা যান।
সাধারন জনগণ সেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করে। হাসপাতাল গুলোতে মাস্ক, গ্লভস সহ প্রয়োজনীয় উপকরন পৌঁছে দেয়। খাবার সরবারহ করে।
লকডাউনের ২১ দিনের মাথায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
১৩ই ফেব্রুয়ারি ১৪০০ মিলিটারি ডাক্তার পাঠানো হয় শহরটিতে। ১১ টি মিলিটারি বিমানে আনা হয়, চিকিৎসা সামগ্রী।
চীনের ২৯ টি প্রভিন্স হতে ৩০ হাজারের বেশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স উহুয়ানে পাঠানো হয় সেই সময়ের মধ্যে।
১৭ই ফেব্রুয়ারি সমগ্র উহানের জনগণকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
ডাক্তাররা প্রয়োজনীয় কিট, সামগ্রী নিয়ে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে যান। সকলকে টেস্টের আওতায় এনে আক্রান্ত ও উপসর্গ আছে এমন মানুষগুলোকে শনাক্ত করে আলাদা করেন। সকলকে ঘরে রাখা হয়। শুধু ডাক্তার ও কাজ ছাড়া বাইরে যেতে পারে না কেও।
লকডাউনের ২৮ দিন পর ১৯ শে ফেব্রুয়ারি আক্রান্তের সংখ্যা কমে হয়, ৬১৫ জন।
একমাস পর ২৪ শে ফেব্রুয়ারি আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬৪ জন।
শহরটির সাতটি হাসপাতাল এবং ১৪টি অস্থায়ী হাসপাতালে প্রায় ৬৮ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী বিভিন্ন প্রদেশ থেকে এসে এখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা করেন।
মার্চের মাঝামাঝি সমগ্র চায়না হতে আসা চিকিৎসক দল, উহান থেকে ফিরতে শুরু করে।
তিন মাসে উহুয়ানে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০০ জন।
৭৬ দিন পর,গতকাল উহান হতে লকডাউন উঠিয়ে নেয়া হয়।
ততক্ষণে, করোনাভাইরাসকে “বৈশ্বিক মহামারি” হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ইউরোপ, আমেরিকা,এশিয়া সহ প্রায় সারা পৃথিবীতে এখন লকডাউন।
শুধুমাত্র ইতালির লম্বারদিয়া অঞ্ছলেই করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা উহানের চেয়ে চার গুন,সমগ্র চায়নার তুলনায় তিনগুন বেশি !
করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে ইতিমধ্যে ইতালিতে মারা গিয়েছেন, ১০৫জন চিকিৎসক।

আইরিন পারভীন খান

যুগ্ম সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডট কম ।