Wednesday April14,2021

কথা দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে বা করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে তিনি দাফন-কাফন করবেন। তিনি তার কথা রেখেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল সভাপতি ও ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

জানা যায়, ৫ দিন করোনা উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত থাকার পর আজ বুধবার সকালে মারা গেছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলার বাসিন্দা এক বৃদ্ধ (৭০)। ঘরের ভেতর আফতাব উদ্দিনের লাশ পড়ে থাকলেও তার পরিবারের কেউ এগিয়ে আসেনি। করোনা আতংকে তার পরিবারের কেউ লাশ ছুঁয়েও দেখেনি। খবর পেয়ে যুবদল নেতা মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নিজে ওই বৃদ্ধের লাশ ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন এবং নিজে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে মাসদাইর কবরস্থান দাফন করেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল সভাপতি ও ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। কথা দিয়েছিলাম করোনা আক্রান্ত বা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তির লাশ দাফন করবো। আজ বুধবার ভোরে ফজরের নামাজের পর ফোন পেলাম জামতলায় এক বৃদ্ধ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। পরে স্বেচ্ছাসেবক আরিফুজ্জামান হীরা, হাফেজ আকরাম ও জুনায়েদকে নিয়ে মপয়র মহোদয় ও ফতুল্লা পুলিশের সহযোগিতায় মৃতের বাসা থেকে লাশ সংগ্রহ করে, কবর খনন, গোসল ও জানাজা শেষে দাফন করলাম।

তিনি বলেন, করোনার পরিস্থতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে ঘরে ঘরে লাশ পড়ে থাকলেও দাফনের জন্য লোক পাওয়া যাবে না। ত্রাণ নেয়ার লোক পাওয়া যাবে না। আমার মনে হয়েছে আমি যদি করোর লাশ দাফন করার দায়িত্ব নেই তাহলে আমি মারা গেলে দুই চার জন লোক আমার দাফনের জন্য এগিয়ে আসবেন। সেই ইচ্ছা থেকে অনেক আগেই আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জে কেউ করোনায় মারা গেলে আমি দাফন করার দায়িত্ব নিবো। এই বৃদ্ধকে দাফনের মধ্য দিয়ে আমি কথা রেখেছি। পাশাপাশি সবাইকে বলছি আপনারা সময় থাকতে সচেতন হোন। নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচতে সহায়তা করুন।