Sunday April18,2021

 করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বন্ধ হয়ে গেছে দুই দেশের সীমান্ত, কিন্তু বন্ধ করতে পারেনি দুই বন্ধুর ভালবাসা। জার্মানির অ্যাভেন্টফ বন্দরের সীমান্তে প্রতিদিন এভাবেই দেখা করেন সুদারলিউগামের (Suederluegum) বাসিন্দা জার্মান নাগরিক কার্স্টেন টুচেন হানসেন (৮৯) এবং তাঁর ড্যানিশ বান্ধবী গ্যাললেহসের (Gallehus) বাসিন্দা ইঙ্গা রাসমুসেন (৮৫)। আত্মীয় স্বজন বন্ধু বা ভালবাসার মানুষের কাছ থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে এই মহামারী রোগ। ভাইরাসের কারাগারে আজ মানবতার অর্ধেক বন্দি, জানা নেই কবে মুক্তি মিলবে এই বন্দীদশা থেকে। এদিকে উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে বহু শ্রমিকের, কৃষকেরও মাথায় হাত উৎপাদিত ফসল তুলতে পারছেন না। এই কারনে দোকানে অনেক ফল ও সবজীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জার্মানি সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলি ভাইরাসের বিস্তার রোধে সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করেছে, তবে এর ফলস্বরূপ সীমান্তবর্তী শ্রমিকদের তাদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে চাকরিতে যাতায়াত করা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে গতকাল জার্মান সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে পূর্ববর্তী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলি শিথিল করা হবে যাতে করে বিদেশী কর্মীরা দেশে খামারে ফল ও সবজি ফসল তুলতে সহায়তা করতে পারে। ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী কৃষকরাও তাদের ফসল তোলা নিয়ে একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার এএফপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ৩.৯৯ বিলিয়নের বেশি লোক বা বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক লোককে এখন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তাদের নিজ নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯০ টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলগুলিতে বাধ্যতামূলক বা প্রস্তাবিত গৃহবন্দী, কারফিউ এবং কোয়ারানটাইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ৪৯ টি দেশ এবং অঞ্চলের প্রায় ২.৭৮ বিলিয়ন বাসিন্দা বর্তমানে বাধ্যতামূলক গৃহবন্দী (obligatory confinement) হয়ে আছেন। কমপক্ষে আরও ১০ টি দেশে, মোট ৬০০ মিলিয়ন মানুষকে সরকার বাড়িতে থাকার জন্য অনুরোধ করেছে, তবে জরিমানা বা গ্রেপ্তারের মতো কোনও জোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স / এএফপি / ভয়েস অফ আমেরিকা।

শুদ্ধস্বর/রাকিবুল ইসলাম প্যারিস থেকে