Sunday April11,2021

গার্মেন্ট কর্মীদের এভাবে আসতে দিয়ে দেশকে একটা ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছেঃ মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক সম্প্রতি গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢাকা আগমনের  প্রেক্ষিতে বিস্ময় প্রকাশ করে    এক বিবৃতি দেন । বিবৃতিটিতে তিনি বলেন

দেশব্যাপী করোনা বিস্তারের ভয়াবহ আশঙ্কার মুখে আজ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে গার্মেন্টসকর্মীদের আগমন আমাকে বিস্মিত করেছে। সরকার দ্বিতীয়বারের মতো ছুটি ঘোষণা করার মধ্যে দিয়ে এটা প্রতিভাত হয়েছিল যে করোনা বিস্তারের আশঙ্কা এখনও ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। সেই পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসের শ্রমিকদের জন্য কারখানা ৪ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সেটা স্বাভাবিকভাবেই আরও বর্ধিত হবে এটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল। এই সম্পর্কে কোনো ঘোষণা ছিল না, বরঞ্চ আমি শুনেছি, প্রচার ছিল যে যারা যারা কারখানায় যোগ দেবে না তাদেরকে ছাঁটাই করা হবে। আর তারই প্রেক্ষিতে এইভাবে দলে দলে হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকরা সব সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে গিয়ে গায়ে গা লাগিয়ে, অনেক কষ্ট করে মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হেঁটে, সিএনজিতে, পণ্যবাহী ট্রাকে, ভ্যানে চরে এবং অন্য যে কোনো ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে ঢাকায় এসে পৌঁছছেন।

গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ এটা কি জানতো না? সরকার কি জানতো না? তারা সারাদিন চুপচাপ বসে রইল কেন? এমন কি এখন পর্যন্ত যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমাদের দেশের সরকারও বলছেন, সেখানে এটাই তো কার্যকরী করার কথা ছিল যাতে তারা তাদের নিজেদের বাড়ি থেকেই রওয়ানা না হোন। তাদেরকে যেন জানানো হয় যে এখন তাদের কারখানা খোলা হবে না। আমি যখন এই বিবৃতি লিখছি তখন পর্যন্ত জানি না, গার্মেন্টস আগামীকাল খোলা হবে না-কি বন্ধ থাকবে।

বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের কোনো বিবৃতি সংবাদমাধ্যমে আসেনি, সরকারি কোনো বিবৃতিও আসেনি। আর, পুলিশ পথে এই গার্মেন্ট শ্রমিকদেরকে পেটাচ্ছে- এই রকম খবরও পেয়েছি।

করোনা যখন চীন থেকে ছড়িয়েছে সরকার সেই সময় থেকে মার্চ পর্যন্ত যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে করোনা বিস্তার আমরা প্রথম দিকেই ঠেকাতে পারতাম। সীমাহীন গাফিলতি করে সরকার যেটা করেছে, তারপর আবার গণপরিবহন চালু রেখে সার্বিক ছুটি ঘোষণা করেছে, সেগুলো তাদের ভুল পদক্ষেপ। ঠিক একইভাবে গার্মেন্ট কর্মীদের এভাবে আসতে দিয়ে দেশকে একটা ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা বিশেষভাবে আমাদের সরকারকে সতর্ক করেছে, আমাদের এখানকার দুর্বল সামাজিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ইত্যাদির কারনে এখানে ব্যাপকভাবে এই রোগ বিস্তারের শঙ্কা রয়েছে, এমন কি প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এখানে মারা যেতে পারে, সেই পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, এবং গার্মেন্টস মালিকদের এই উদাসীনতা ক্ষমার অযোগ্য।

আমি জানি না এখন সরকার এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন। কারণ তারা তো ঢাকায় এসে পড়েছে। এবং আমি এটাও শুনেছি, বহু জায়গায় যেখানে ভাড়া থাকতেন সেখানে বাড়ির মালিকরা তাদেরকে উঠতে দিতে চাইছে না। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি, এবং কোনো কাল বিলম্ব না করে সরকারকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করছি।

শুদ্ধস্বর/বিটি