Friday April16,2021

মরহুম জননেতা, মেহনতি জনমানুষের নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সেই ১৯৫৪ সালেই পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীকে সালাম জানিয়ে দিয়েছিলেন। মাওলানার সেই সালামে হুবুহু অর্থ ছিলো আল্ বিদা জানিয়ে দেবার। আবার লাল সালাম, হুবুহু অর্থ স্বাগতম । গত দুদিন পূর্বে মাননীয় শেখ হাসিনার  একটি ভাষ্যের পরিপ্রেক্ষীতে ফেসবুকে আমি একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছিলাম যদি সম্পদ বন্টন ছেলে/মেয়েদের মাঝে সমান করার আইনটি করে দিন, তাহলে সালাম জানাবো মানে লাল সালাম বা হৃদয় থেকে স্বাগতম জানাবো।

বেশ শুরু হয়ে গেলো ফেসবুকে নানান যুক্তি আর তর্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব কিছুর মত যেমন ভালো দিক আছে আবার মুদ্রার উল্টো পিঠের মত  ( আমি বলছি না , খারাপ ) বিপরীত দিকও আছে। ভালো দিকটিই আগে বলি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ে যতই উল্টা পাল্টা কথা বলা হোক না কেন ,  বর্তমানে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শক্তি কিন্তু বেশ প্রখর এবং দিনে দিনে বৃদ্ধি হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান । সাম্প্রতিককালের দুটি উদহারণ দেই একটি নুসরাত রাফি এবং অন্যটি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি ।  তবে এখানে কেবল জার্সির কথাটাই উদহারণ হিসেবে বলি।

লক্ষ্যণীয় যে , এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নানান ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের মুখেই মূলত পাপন সাহেবেরা দ্রুততর সময়ে জার্সির পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও ওনার রাগ, গোস্বা বাজে মন্তব্য দিয়ে জনমানুষের উপর ঝেড়েছেন! একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অনেক উঁচু পদে সামিল আছেন এমন ব্যক্তিত্বের এমন বাজে মন্তব্যকে কেবল ঘৃণাই করতে হয় এবং হয়েছেও বটে। সেই ঘৃণাতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমকে দেখেছি বেশ সরব ছিলো। বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কোনো কিছুরই প্রতিবাদ করার উপায় নেই , সেটা রাজনৈতিক হোক বা সামাজিক হোক, যে কোনো  প্রতিবাদ যদি সরকার না চায় তাহলে সেটা রাজপথে করাটা সত্যিই দুরূহ । সেখানে হয় সরকারি পুলিশবাহিনী বা না হয় সরকারি দলবল ঝাঁপিয়ে পরে ভীষণ নোংরা ভাবে। অনেক উদহারণ দেওয়া যাবে তবে সেদিকে আমি যাচ্ছি না। যদিও সেই রূঢ়তার বিপরীতেও ছোট্ট কিশোর/কিশোরীরা কিছু উদহারণ বেশ শক্তভাবেই তৈরি করতে পেরেছিলো। এখানেও সেই লাল সালাম বা স্বাগতম । গতকাল তো পত্রিকার খবর,  আরেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব শেখ সেলিম সাহেব তো স্পষ্টতই বলেছেন, এই ফেসবুক/টেসবুক বন্ধ করে দেওয়া উচিত !! ওনার ভাষ্য হলো এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুধুই ঝামেলা পাকায় ! বাঁকি টুকু আপনাদের বিবেচনায় রেখে দিলাম।

এবার খারাপ দিকটির কথা বলি, এই যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই যে খুব ভালো করে পড়ে, বুঝে তারপরে যুক্তি বা তর্ক করে তা মোটেও নয়। এই প্লাটফর্মটিও যে নিরপেক্ষ তাও মোটেও নয় । এখানেও দলের আদর্শ বা দলের প্রতি আনুগত্য সব স্পষ্টতই প্রকাশ পায় । আমি বলছি না এটা খারপ কিছু তবে গোয়ার্তুমী করে ক্ষীণ যুক্তিতে যেভাবে নিজের পক্ষে বা দলের পক্ষে তর্ক বিতর্ক করা হয় তা অনেক সময় বেশ বিরক্তিকরও বটে। এই বিরক্তিকর বিষয়টিও না হয় হজম চরা যায়, তবে যখন একেবারেই নিম্নমানের গালাগাল হয় সেটা সত্যি সত্যিই ভীষণ বাজে এবং দুঃখজনক । এখানে সেই সালাম যার অর্থ আল্ বিদা সেটাই প্রযোজ্য বেশি।

এই যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে এত প্যাঁচালের কারণ হলো, এই মাধ্যমটির মূল্যায়ন অনেকে সঠিকভাবে হয় বুঝেন না বা বুঝতে চান না অথবা বুঝেও অবমূল্যায়ন করেন। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের প্রায় সকল নেতা কর্মীরা এই মাধ্যমে বেশ সরব। কারণটিও বেশ স্পষ্ট কেননা এখানে সহসাই অনেককে রাজনৈতিক মেসেজ করা যায় সহজ পদ্ধতিতে এবং সেটা বেশ কাজেও লাগাচ্ছেন ওনারা। সত্যি বলতে এই মাধ্যমটি জনগণ বিশেষ করে তরুণ সম্প্রদায় বেশি ব্যবহার করে, তারা দৈনিক পত্রিকা না পড়লেও এই মাধ্যমে দেশের সার্বিক খবরা খবর নিশ্চিত রাখে। এটা এখন সত্যি সত্যি একটি শক্তিশালী খবরের এবং প্রতিবাদের মাধ্যম । শেখ সেলিম সাহেব এই মাধ্যম নিয়ে কি বললো সেটা মনে করি না এই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কারো মাথা ব্যাথা । ওনারা যত বেশি চিল্লাবেন ততটাই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শক্তিশালী হবে বলে মনি করি।  অগ্রিম বলা যায় ওনারা যদি কখনো বিরোধী দলে ফেরত আসেন , হয়তো বা এই মাধ্যমটির মূল্যায়ন ওনারা ভালো টের পাবেন।

লক্ষ্যণীয় যে , এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে অনেক অচেনা  শক্তিশালী কলাম লেখকের চমত্কার আবির্ভাব দেখা যায় । সত্যি বলতে কিসের চর্চা হয় না এখানে। কবিতা, কলাম, সাহিত্য,  মজাদার চুটকি, আবেগ, আক্ষেপ, বিরহ, বেদধা, হাসি, ঠাট্টা, প্রেম, ইতিহাস, শুভেচ্ছা বাণী, সর্বোপরি ৭১ ইতিহাস ।সুতরাং এই মাধ্যমটির ব্যবহারকারীরা যত বেশি এটার মূল্যায়ন করবেন তত বেশি এটার মান বাড়বে এবং শক্তিশালী হবে। সুতরাং ডিজিটালের এই যুগে এই হাতের লক্ষ্মী কে পায়ে না ঠেলিয় সম্মানের সাথে ব্যবহার করাটাই হবে যুক্তি যুক্ত । এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমকে সেই সালাম জানানো উচিত যার অর্থ স্বাগতম বহন করে । তা না হলে সরকারি দলের শেখ সেলিম সাহেবের কথা যদি সরকার আবার বিবেচনায় নেয় হয়তোবা এই মাধ্যমকে আবার বিদায়ি সালাম ধা আবার দিয়ে দেয়, অবশ্য বর্তমান যুগে সেটা হয়তো সম্ভব হবে না।  সত্য এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে সব সময় শক্তি সঞ্চয় করে এবং প্রতিষ্ঠিত একদিন না একদিন হয় , সুতরাং সত্যের উপর বিশ্বাস রেখে , কঠিন সত্যের চর্চা দিয়েই এই মাধ্যেমকে আরো শক্তিশালী করাই  হবে বুদ্ধিমত্তার কর্ম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমানে সত্যিকারের একটি  গণতান্ত্রিক মাধ্যম বলেই বিবেচনায় নেওয়া যায় নিশ্চয়ই , এটা আরো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক মাধ্যমে পরিণত করা এটার ব্যবহারকারীদের উপরেই বেশি নির্ভরশীল । ফেসবুক কে লাল সালাম।

[ বিঃ দ্রঃ বর্তমানে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানছে, সেই দুর্যোগময় অবস্থা থেকে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সাহস ও মানসিকতা দিয়ে এই দুর্যোগ কে মোকাবিলা করতে পারুক এবং সকলেই নিরাপদ থাকুন সেই কামনা থাকবে। ]

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার

সহকারী সম্পাদক ,শুদ্ধস্বর ডটকম