Tuesday April20,2021

 

 

 

 

 

অ্যাডভোকেট আনসার খান: চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূকৌশলগত রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আঞ্চলিক ও বিশ্ব শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রতিযোগিতায় চীন এক প্রকার বড় ধরনের সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
২০১৩ সালে চীন ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ চীনা অর্থায়নে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি নামক অবকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই এ প্রকল্প নিয়ে বেশ তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। উভয় রাষ্ট্রের নিকট প্রতিবেশী ভারত প্রথম থেকেই এ প্রকল্প নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে আসছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পের ন্যায় অন্য কোনো প্রকল্প নিয়ে এমন ধারা বিতর্ক সৃষ্টি হতে দেখা যায়নি আর কখনো। বিশেষ করে ভারতের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ার মতো। কেন এমন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলো তা নিয়ে আলোচনার পূর্বাহ্নে সিপিইসি সম্পর্কে সম্যক ধারণা তুলে ধরা প্রয়োজন।
সিপিইসি চীন ও পাকিস্তানের একটা অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প। সহজভাবে বললে-এটা হলো, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের কাশগড় থেকে পাকিস্তানের চীনা নির্মিত গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩ (তিন) হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্য মহাসড়ক প্রকল্প।
২০১৩ সালের ২২শে মে থেকে প্রকল্প কাজ শুরু হয়ে অদ্যাবধি এর কার্যক্রম বেশ জোরের সাথে চলছে এবং সম্পূর্ণ চীনা অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার এবং ব্যয় আরো বাড়তে পারে বলে অনুমিত হচ্ছে। দীর্ঘ এ মহাসড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পটি চীনের বেল্ট এন্ড রোড উদ্যোগের অন্যতম একটা পাইলট প্রকল্প।
চীনের কাশগড় থেকে শুরু হয়ে পাকিস্তানের কাশ্মীর অংশের গিলগিট বালিÍস্তান, বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া, পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন স্থান স্পর্শ করে মূলত: বেলুচিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দরকে চীনের সাথে সংযুক্ত করবে। প্রকৃতপক্ষে, এটা আধুনিক ট্রান্সপোর্টেশন নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্যে সড়ক যোগাযোগ, রেল যোগাযোগ এবং তেল-গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত পাইপ লাইনের সংযোগ সাধিত হবে। শুধু পাকিস্তানের সাথেই নয়, এর মাধ্যমে পুরো মধ্য এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার সাথে চীনের সংযোগ স্থাপিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে চীন-পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি উভয় রাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে এবং নতুন সুযোগ, নতুন লক্ষ্যে উভয় রাষ্ট্রের লক্ষ্যার্জনে গতিবেগ সৃষ্টি করবে। আর বিশেষ করে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে অভিমত উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের।
সিপিইসি মূলত: একটা বহুমুখি অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক মেগা প্রজেক্ট। বৃহৎ এ প্রকল্পের প্যাটার্ন সাজানো হয়েছে, ১+৪ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ কেন্দ্রে থাকবে সিপিইসি এবং এর মাধ্যমে গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প সহ প্রধান চারটা ক্ষেত্র; যেমন-যোগাযোগ ও যাতায়াত অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানী খাত, শিল্প খাত ইত্যাদি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা। আর ভবিষ্যতে সেবা ও আর্থিক খাতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে, পর্যটন খাতে, শিক্ষা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ খাতে এবং সর্বোপরি নগর উন্নয়ন খাতে সিপিইসি এর মাধ্যমে উন্নয়ন সহযোগিতামূলক কর্মকান্ড সম্প্রসারণ করা হবে মর্মে চীন ও পাকিস্তান একমত হয়েছে।
সিপিইসির আওতায় সড়ক ও মহাসড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে চীন-পাকিস্তানের মধ্যে সংযোগকারী কারাকোরাম মহাসড়ক, হাসান আবদাল থেকে চীনা সীমান্ত পর্যন্তও পুনঃনির্মাণ করা হবে।
অন্যদিকে, করাচী ও লাহোরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের জন্য ১১০০ কিলোমিটার মটরওয়ে নির্মাণ করা হবে। আর প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কের শেষ গন্তব্য হয়ে গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর। অর্থাৎ পুরো পাকিস্তানকে গোয়াদর সমুদ্র বন্দরের সাথে সংযুক্ত করার এক মহা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সিপিইসির মাধ্যমে এবং এটাও সত্য যে, এসব পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তানের সাথে চীনের সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা।
শুধু যে, সড়ক মহাসড়ক উন্নয়ন করা হবে তা নয়, রেল নেটওয়ার্ক উন্নয়নের মহাপরিকল্পনাও রয়েছে সিপিইসি এর মাধ্যমে। রেলপথ উন্নয়নেরও লক্ষ্য হলো একদিকে চীন এবং অন্যদিকে গোয়াদর সমুদ্র বন্দরের মধ্যে সংযোগ সাধন করা।
রেল যোগাযোগের উন্নয়নের অংশ হিসেবে করাচী শহর থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত মেইন রেল লাইন উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্কার আপগ্রেডেশনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে এবং চলতি সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে। এর সংস্কার কাজ শেষ হলে এ রেললাইনে প্রতি ঘন্টায় ১৬০ কি.মি বেগে ট্রেন চলাচল করবে।অন্যদিকে, পাকিস্তানের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বর্ধিত করে চীনের দক্ষিণ জিনজিয়াং এর কাশগড় পর্যন্ত বিস্তৃত করার এক মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের নানা অঞ্চলের রেলওয়ে রুট উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
সিপিইসি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো চীন থেকে গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণ করা। এ পাইপ লাইনের মাধ্যমে চীন গ্যাস ও তেল আমদানী-রপ্তানী সহজভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। একই সাথে ইরানের সাথে পাইপ লাইন সম্প্রসারণের জন্য গোয়াদর বন্দর থেকে ইরানের নওয়াবশাহ পর্যন্ত ২.৫ বিলিয়ন ইউ.এস ডলার ব্যয়ে পাইপ লাইন নির্মাণ করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গোয়াদর থেকে নওয়াবশাহ পর্যন্ত ৭১১ কি.মি পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে।
পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সিপিইসি প্রকল্প গেম চেঞ্জার হিসাবে ভূমিকা রাখবে। এটা হবে পাকিস্তানের ভাগ্যেরও পরিবর্তনকারী। এই প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে, বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। অন্ততঃ সাত লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, এর বেশির ভাগই হবে পাকিস্তানে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের বিবর্তনে সিপিইসি এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রোফাইলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এক্ষেত্রে চীনই সিপিইসি এর মাধ্যমে সর্বাধিক বেনিফিসিয়ারী হতে পারে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চীন কৌশলগতভাবে লাভবান হবে এবং শক্তি মত্তায় চীনের আঞ্চলিক জিওপলিটিক্যাল প্রভাব বাড়বে এবং স্বাভাবিকভাবে সেটা এশিয়া ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আমেরিকার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিজের অনুকূলে নিয়ে আসার জন্যই চীনের প্রয়োজন পাকিস্তান এবং বিশেষ করে গোয়াদর সমুদ্র বন্দর,-এমনটাই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
বাণিজ্য এবং সামরিক কৌশলগত কারণে, সর্বোপরি মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ তথা বহিঃরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন ও গভীরতর করার জন্যও গোয়াদর বন্দর চীনের জন্য অপরিহার্য। গোয়াদরের অবস্থান এমন এক কৌশলগত স্থানে যেখান থেকে ইরানের দূরত্ব মাত্র ৭২ কি.মি এবং ওমানের বন্দর কেইপ আল-হাদ এর দূরত্ব ৩২০ কি.মি। আরব সাগরের তীরের গোয়াদর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালীর দূরত্ব মাত্র ৪০০ কি.মি। আর হরমুজের সাথে রয়েছে পার্সিয়ান গালফ এর সংযোগ। এই গাফল পথে প্রতিবছর কমপক্ষে ১৯ ট্রিলিয়ন টন ক্রডওয়েলবাহী জাহাজ চলাচল করে। কাজেই গোয়াদর বন্দর চীনের অধীনে থাকার অর্থ দাঁড়ায় মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকায় চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায়। উল্লেখ্য যে, চীনের কাশগড় থেকে গোয়াদরের সড়ক যোগাযোগ দূরত্ব মাত্র ২৭০০ কি.মি। চীন থেকে গোয়াদর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সমুদ্র পথে চীনের দূরত্ব ১২০০০ কি.মি কমে যাবে এবং গোয়াদর বন্দর দিয়ে ভারত মহাসাগরে চীন যে প্রবেশাধিকারের সুযোগ লাভ করবে, সেটা হবে ভারতের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সিপিইসি প্রজেক্ট চীনের বহিঃবাণিজ্য ও তেল বাণিজ্য সহজীকরণ হবে এ কারণে যে, বহিঃবিশ্বের সাথে যোগাযোগ দূরত্ব অনেকটা কমে যাবে এবং ফলে পরিবহন খরচ কমে যাবে। যাতায়াতের সময়ও কমে যাবে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ইত্যাদি অঞ্চল থেকে একটা ওয়েল কার্গো জাহাজ মালাক্কা প্রণালী দিয়ে চীনের যেকোনো বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগে ৪৫ দিন। অথচ গোয়াদর বন্দর হয়ে সেটি পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১০ দিন।
অন্যদিকে, মালাক্কা ও হরমুজ প্রণালী হয়ে চীনের সাংহাই বন্দরের দূরত্ব দশ হাজার কিলোমিটার। অথচ সিপিইসি প্রজেক্টের চীনের কাশগড় হতে গোয়াদর বন্দরের দূরত্ব ২৯০০ কি.মি এবং সাংহাই বন্দর থেকে কাশগড়ের দূরত্ব ৪৫০০ কি.মি। অর্থাৎ সাংহাই থেকে কাশগড় হয়ে গোয়াদর বন্দরের দূরত্ব দাঁড়ায় ৭৪০০ কি.মি। এদিক থেকেও চীনের বাণিজ্য রুট ২৬০০ কি.মি কমে যাবে। অর্থাৎ সবদিক বিবেচনায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন অনেক বেশি লাভবান হবে।
আরও বলা হয় যে, গোয়াদর বন্দর তথা, চীন-পাকিস্তান হাইওয়ের মাধ্যমে গোয়াদরের সাথে যোগাযোগ সহজীকরণ হওয়ায়, সমুদ্রে পৌঁছার দূরত্ব কমে যাওয়ায় এবং আরব সাগরে চীনের সহজে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ার দরুন চীনের সামরিক সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি অতি সহজেই চীনা নৌবাহিনী, রণতরী ইত্যাদি আরব সাগরে মোতায়েন করা সম্ভব হবে, যা এ অঞ্চলের জন্য এবং এমনকি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। আর ভারত তো বলেই চলেছে-এ প্রকল্প ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
ভারত শুরু থেকেই সিপিইসি নিয়ে আপত্তি এবং উদ্বেগ জানিয়েছে, এ কারণে যে, প্রস্তাবিত হাইওয়ে যে সকল স্থান দিয়ে নির্মিত হবে তার কিছু অংশ অর্থাৎ গিলগিট-বাল্টিস্তান কাশ্মীরের অংশ এবং কাশ্মীরের মালিকানা নিয়ে পাক-ভারত সংকট অমীমাংশিত হওয়ায়, এমন একটা স্থান দিয়ে মহাসড়ক তৈরি করার জন্য চীন পাকিস্তানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় ভারত এ উদ্যোগকে তার সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ মনে করছে। কারণ, ভারত মনে করে গিলগিট-বাল্টিস্তান তার নিজস্ব ভূখন্ড। কাজেই এ ধরনের একটা অবস্থায় স্থাপনা নির্মাণ ভারতের নিরাপত্তার প্রতিও হুমকি বলে মনে করে ভারত।
আরব সাগরে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং পাকিস্তান হয়ে গোয়াদর বন্দরের মাধ্যমে দক্ষিণ-চীন সাগর সহ অত্রাঞ্চলে চীনের ন্যাভাল, মেরিটাইম তথা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার ও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
ভারতের আরো শংকার কারণ হলো, চীনের সমর্থনে পাকিস্তান ভারতের প্রতি আরও বেশি আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে পারে।
সিপিইসি এর মাধ্যমে পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে অতিমাত্রায় লাভবান হবে এটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য হলো চীন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ভূকৌশলগত এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও লাভবান হবে। গোটা অঞ্চলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে ভূরাজনীতিতেও চীন লাভবান হবে। অন্যদিকে, এটাও ভাবা হচ্ছে যে, গোয়াদর বন্দর বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে চালু হলেও ভবিষ্যতে চীন এটাকে ন্যাভাল বন্দর তথা মিলিটারী বেইছ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন একক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ।
সিপিইসি প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় এবং সেটা হবে চীনের অনুকূলে, এমনটাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
 

লেখক: আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।