Sunday April11,2021

দেশে এখন চারিদিকে উচ্চমার্গের মানুষ(!) থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যন্ত মানুষের ভিতরে চিন্তা চেতনায় বা চরিত্রে একপ্রকার ফাঙাস ধরছে, যা থেকে দুর্গন্ধ সহ পুঁজ ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো ধর্মের গুরু থেকে শুরু করে  ট্রাক হেলফার বা ভিন্ন কেউ ধর্ষণে মেতে উঠছে! এত অমর্যাদাকর কাজ এত বেশি! জন্মের পর থেকে কেউ শুনেছে কিনা সন্দেহ জাগে। এই ধর্ষণ বা বলাৎকারের শিকার বা  বলি হচ্ছে ছোট্র শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ! প্রশ্ন চলে আসে আমরা কোন দেশে বাস করি?  নুসরাত মেয়েটি তার মৃত্যুর মুখেও দাড়িয়ে  নিজের মুখে বলে গেছে, ” আমি শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদ করে যাবো” । জানিনা দেশের সমগ্র পুরুষ ও নারী জাতি নুসরাতের ভাষ্যের মর্মার্থ বুঝেছেন কিনা? একটি কিশোরী মেয়ে মৃত্যুর মুখে থেকেও প্রতিবাদের কথা বলে আর তার মৃত্যুর পরে কি দেখা যায় ! সত্যি বলতে যেখানে প্রতিবাদের বিস্ফোরণ হওয়ার কথা ছিলো তার ছিঁটেফোঁটাও দেখা মেলেনি ! দেখলাম না, সেই সকল মহান মানুষদের (হাতে গুনা দুএকজন ছাড়া)  কোনো প্রতিবাদ! বা তাদের কোনো কলমের দেখা ? দুঃখজনক । এই যদি হয় মহানদের কর্মকা তাহলে আমাদের আগামীতে অন্য কোনো নুসরাতের অপেক্ষায় থাকাই ভালো। শুধু বলবো এমনটি যেন আর না হয়।

লিখতে বসেছি প্যারোল নিয়ে । লিখা শুরু করি নুসরাত দিয়ে, কেন ? এই নুসরাতরাই বারবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেও আমাদের হিতজ্ঞাণকে জাগ্রত করতে পারে না ! মাছের পচন নাকি মাথা থেকেই শুরু হয়। আমাদের সমাজের পচনটি কিন্তু সেই মাথা থেকেই । সমাজ বা রাষ্ট্রের মাথা নিশ্চয়ই ক্ষমতায় যারা আশিন আছে। যে যত কথাই বলুক ক্ষমতায় আশিন হবার পদ্ধতি ঠিক আছে বটে (ভোট) তবে সেটাকে শতভাগ কলঙ্কিত করে ক্ষমতায় গিয়ে দয়া দাক্ষীন্য দেখানো আবার ফয়দা লুটবার আকাঙ্ক্ষা! এসব যত ছলচাতুরির মধ্যেই করা হোক না কেন, জনগণ কিন্তু সবই বুঝে।

বাজারের বর্তমান হটকেক প্যারোল ! অথচ মজার বিষয় হলো এই প্যারোলের বাজনাটি ক্ষমতাশালীরাই বাজারে বাজাচ্ছেন!  উদ্দেশ্যে মনে হয় সকলের কাছেই পরিষ্কার , কলঙ্কিত সংসদের একটা নিম্নেরপেক্ষ বৈধতা পাওয়া । মাননীয় খালেদা জিয়ার মুক্তি হলো কি হলো না সেটা ওনার দল বা সমর্থক গোষ্ঠীর মাথা ব্যাথা। আমার বলা হলো, আইনের রঙ্গখেলা নিয়ে । দেশে যে আইনের কি রঙ্গখেলা চলছে, এটা মনে হয় বিস্তারিত না বললেও সবার কাছেই পরিষ্কার । সরকারের কর্মকান্ড দেখে পরিষ্কার বুঝা যায়, খালেদা জিয়া কে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তথাকথিত ভোটের বাঁকি ছয়জনকে সংসদের গোয়ালে ঢুকাতে পারলেই মনে হয় সরকার কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। সরকারের সমর্থক গোষ্ঠীর জ্ঞাণবুদ্ধি বিক্রিকারি কিছু বুদ্ধিজীবীদের কথা বা যুক্তি শুনলে মনে হয় বিবেক শব্দটি বাংলা অভিধান থেকে চিরতরেই বিদায় দেওয়াই ভালো। কি চমত্কার করে তেনারা বলে বেড়ান  সংসদে দৃঢ়কন্ঠে , ” রেইস দি ভয়েজ ” করার সুযোগ সেই সাংসদদের গ্রহণ করা উচিত !!!  আরো কি যুক্তি, সংসদের সকল কথার রেকর্ড থাকবে ! আহ্হা কি যুক্তি! এই রেকর্ড দিয়ে অন্তত মুড়ি মুড়কি বেঁচা যাবে, যত্তসব!

মূলত প্যারোল আর জামিনে দুটতেই শর্ত থাকে। আইন যেভাবে পরিচালনা হচ্ছে, সরকারের কোনো অসুবিধে হলেই যে লাউ সেই কদু, আবার সেই জেল জেল খেলা । সরকার বরং ভালো করে সময় পাড় করতে পারবে। অবশ্য সরকারে কর্মকা দেখে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় সময় সরকার পাড় করবেই , কেননা বর্তমানে তথাকথিত বিরোধী দলের মেরুদণ্ড রীতিমত বাঁকাই করে দিয়েছে। সরকারও এটা ভালো করেই বুঝে বলেই প্যারোলের এই বাঁজনা বাজাচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নেওয়া হবে এক কথায় আত্মহত্যার সামিল।  যে দৃঢ়তার সাথে আপোসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, সেই এরশাদ আন্দোলন থেকে ১/১১ তে সেটার তাত্ক্ষণিক হত্যাই হবে প্যারোল।

অন্যদিকে জামিন নিয়ে দলের ছয়জনকে সংসদে ছত্কা দিয়ে মুক্তি হয়েও যে খুব বেশি কাজ হবে মুক্ত থাকা ছাড়া, তা মনে হয় না, একথা জোরালো ভাবেই বলা যায় । তাছাড়া স্পষ্টতই বুঝা যায়, জামিন নিয়ে ছয়জনকে ছত্কা দিয়ে এতদিনকার বক্তব্যের সাথে হবে নির্ঘাত আপোস। লক্ষ্যণীয় যে সরকারের দীর্ঘদিনের প্রচন্ড চেষ্টার পরেও বিএনপি নামক দলকে টুকরো করতে পারেনি, এতদিনকার অত্যাচারের সহ্য করা ফলাফল বিএনপির দিকেই ঝুঁকে আছে। দল এখনও দলবদ্ধ আছে। এই ছয়জন যদি দল ছেড়ে সংসদে যোগদান করে , তাতেও বিএনপি নামক দলটির কিছুই হবে না। তবে প্যারোল বা জামিন দুটোই হবে বিএনপি নামক দলটির জন্য জ্বলন্ত তাওয়া থেকে উনুনে পড়ার মত।

তাহলে কি করণীয় হতে পারে। পথ খোলা থাকে একমাত্র জেলে নিজেকে বন্দি রাখা। ওনার যে বয়স এবং অসুস্থতা দেখা যায়, তাতে করে সেটাও এক মহা বিপদ বা নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া । এখানে একটি উদহারণ দেই বঙ্গবন্ধুর । বঙ্গবন্ধু নিজে জেল থেকে প্যারোলে মুক্তি নেননি বরং জামিন নিয়ে গোলটেবিলের আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের সমগ্র জাতি তার পিছনে ছিলো, তাই সেই জামিন নেওয়া ছিলো সহজ বা স্বাভাবিক । কার্যত বঙ্গবন্ধু সফল হয়েছিলেন। কোনো তুলনাই বঙ্গবন্ধুর জামিনের সাথে আসে না, সেটা ছিলো একেবারেই অন্যরকম পরিস্থিতি এবং সমগ্র জাতির বিষয় । খালেদা জিয়ার সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করলে বুঝাই যায় জামিন নেওয়াই হবে মার্জিত । কেননা আন্দোলন করে দল খালেদা জিয়া কে বেড় করে আনবে সেটা বর্তমানের পরিস্থিতিতে আকাশ কুসুম কল্পনা ব্যতিরেকে ভিন্ন কিছুই না।

রাজনীতিতে নানান রকম সমঝোতা হয়। যদিও এই সকল সমঝোতা রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থের কারণেই করেন। এখানে সাধারণ জনগণের সাথে কোনো সম্পর্ক থাকে না। এটাই সম্ভবত রাজনৈতিক লীলাখেলা ! প্রয়োজনে ওনারা অনেক কিছুই করেন। আবার সরকার পারে না, এমন কোনো কাজ নাই, ক্ষমতা বলে কথা। তবে এই লীলাখেলায় ওনারা দাবার গুটি চালতে বেশি পছন্দ করেন এবং লাভোবান হতে চান। সার্বিক বিবেচনায় দেশে বর্তমানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিবেচনায় খালেদা জিয়ার জামিন হওয়াটাই হবে কার্যকরী সকল দলের জন্য । অবশ্যই প্যারোল নয়। তবে জামিনের সাথে যে সকল শর্ত থাকবে (আইনগত ভাবে !) সেগুলোকে ক্ষীণ করা এবং কোনো অবস্থাতেই খালেদা জিয়ার চিকিত্সার কথা বলে দেশের বাহিরে যাওয়া অনুচিত হবে। এমনিতেই দলের মেরুদণ্ড বাঁকা , চিকিত্সার নামে দেশের বাহিরে যাওয়া হবে দলের জন্য মহা বিপর্যয় । যদি জেলের বাহিরে থাকতে পারেন এবং দেশেই থাকেন,  তাহলে কিছুটা হলেও দল চাঙা হবে। তবে সত্য বলতে সবকিছুই নির্ভর করে খালেদা জিয়ার নিজের দৃঢ়তার উপর। ইতিপূর্বেই তিনি কয়েকবার প্রমাণ দিয়েছেন সেই দৃঢ়তার, এবারো নিশ্চয়ই দল ও দেশের বিবেচনায় দৃঢ়তার পরিচয় এই বয়সেও দিবেন। আপোসহীন তো আর কেউ হাতে তুলে দেয়নি, কর্মে আদায় করেছেন। এই আপোসহীনতার পরিচয় যে সাড়াজীবন দিয়েই রক্ষা করতে হয়। সম্মান পাওয়া যত কঠিন , ধরে রাখাও নিশ্চয়ই সমমানের বা বেশি কঠিন।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার

সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম