Wednesday April14,2021

এদেশের মানুষ বুঝে গেছে যে, অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদ করে লাভ নেই, তাই তারা প্রতিবাদ করছে না

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অন্যায়-অত্যাচার দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কোনো প্রতিবাদ ও মানবন্ধন দেখতে পাচ্ছি না। সাধারণ মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিশ্চুপ থাকার পেছনের কারণগুলো জানতে চাইলে গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেছেন, এদেশের মানুষ বুঝে গেছে যে, অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদ করে লাভ নেই, তাই তারা প্রতিবাদ করছে না।

অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পরও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ শোনার মতো কেউ নেই। কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে এখন মানুষের গায়ে হাত তোলা হয়। একশ্রেণির হেলমেটধারী লোক রয়েছে যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তারা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হেলমেটধারী সন্ত্রাসীদের আক্রমণ করতে দেখা গেছে। প্রশাসনের লোকও এখন সাধারণ মানুষ ও অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে যাচ্ছেতাই আচরণ করে। তাই সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এখন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ভুলে যাচ্ছে। তারা এখন সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের সময় আমরা হঠাৎ করে যমুনা টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া দেখেছি। এখন যখন-তখন গণমাধ্যমকেও বাকরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজউকের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমরা দেখতে পাচ্ছি যারা সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজউকের চরিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত রয়েছি। অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তাদের দ্বারা সব কিছু করানো যায়। রাজউক উত্তরা-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে আজিমপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে, কারণ এখানে যারা রয়েছে সবাই সাধারণ মানুষ। তারা রাজউক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশি কিছু বলতে পারবে না। অবৈধ ভূমি দখলের ব্যাপারে রূপায়ন গ্রুপকে ধরা হচ্ছে অথচ এদেশে ভূমি দখল করে এ রকম অনেক গ্রুপ ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই এদেশে এখন আর মানুষ অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চায় না। তারা সব অন্যায়-অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করছে। সূত্র, আমাদের সময়