Wednesday April14,2021

সাংবাদিকরা মূলত সমাজের আসল দর্পণ।  ” সাংবাদিকদের আলাদা করে দেশপ্রেম থাকতে নেই” দয়াকরে কেউ ভিন্নভাবে নিবেন না প্লিজ,  এটা আমর ব্যক্তিগত মতামত। সোজা বাংলায় বলি, সত্য প্রকাশে বিন্দুমাত্র হেরফের না হওয়া । কথাটি ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে বললে, বলতেই হয় দেশপ্রেম দেখানোর চেয়ে শতভাগ সত্যের প্রেম দেখালেই চলবে, সেখানেই দেশপ্রেম নিহিত হয়ে যাবে।  যা থেকে দেশ পরিচালনাকারীদের উপলব্ধি হয় বা হবে এমন সত্য বারবার প্রমান করাই সঠিক সাংবাদিকতার ফরমুলা হওয়া উচিত বলে মনে করি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার সময়কার সেই সময়ের  সাংবাদিকদের সাংবাদিকতা আর বর্তমানের সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার মাঝে কি পার্থক্য আছে? সেটা মনে হয় দেশের জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। বর্তমানে সাংবাদিকদের মানুষ যে চোখে দেখে সেটা না বললেও সবার অনুভূতিতে বেশ প্রকাশ পায়। লজ্জার বিষয় হলো , “হলুদ সাংবাদিকতা” একটা ডাক নাম সবার মুখে মুখে !

দেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই এই হলুদ সাংবাদিকতার শুরু।  একজন সাংবাদিক স্বাধীনতার পর পরই, ” চকির তলার সাংবাদিক “ নাম পেয়েছিলেন। সেই কাহিনী মনে হয় মোটামুটি সবারই জানা আছে। শেখ কামালে জন্ম কাহিনি লিখতে গিয়ে শেখ ফজিলাতুন নেসা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মাতার প্রসব বেদনা নিয়ে এমনভাবে লিখেছিলেন যে,  চকির তলার সাংবাদিক ডাকনাম উপাধি পেয়েছিলেন। এতো গেলো স্বাধীনতার পরের হলুদ সাংবাদিকতা ।

বর্তমানে দু একটি উদহারণ দেই।  প্রয়াতো সাংবাদিক  গোলাম সারওয়ার ( শেষের দিকে সম্ভবত  যুগান্তর পত্রিকায় ছিলেন) প্রধানমন্ত্রীর এক সংবাদ  সম্মেলনে, প্রধানমন্ত্রী নোবেল প্রাইজ পাওয়ার কতটা উপযোগী ব্যক্তি , সেটা এমনভাবে বলেছিলেন যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও বসে বসে হাসছিলেন। ওনার উপদেশ ছিলো প্রকাশ্যে ! প্রধানমন্ত্রীর নোবেল পাওয়ার জন্য কোথায়, কি কি করা প্রয়োজন! প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে, প্রধানমন্ত্রীর নোবেল পাওয়া নিয়ে,  সংবাদ সম্মেলনে এভাবে প্রকাশ্য লবিং নিয়ে আলোচনা করা! সম্ভবত কেবলমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব । আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ অব্দি নোবেল পান নি, অন্যদিকে সেই সাংবাদিকও পরলোক গত !

এরকম শত উদহারণ দেওয়া যাবে। সাম্প্রতিককালের একটি উদহারণ দিয়েই শেষ করবো। ৭১ টিভির জার্নালিস্ট ” ফারজানা রুপা” কি তার চমত্কার নাম । তিনিও কি চমত্কার উপাধি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কে ! ” ম্যাজিক্যাল আয়রন লেডি “ কারণ প্রধানমন্ত্রীর হাতে নাকি যাদুই যাদু আর লোহা প্রকৃতির শক্ত । এখন পাবলিক হলুদ সাংবাদিক বললে মুখ আঁটকাবেন কি করে ?

বলছিলাম প্রয়াতো সাংবাদিক এবিএম মুসা সাহেবের কথা। ওনার নিজের ভাষ্য ছিলো, উনি প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন ভক্ত ছিলেন না। তবে হুমায়ূনের নাটক দেখার পাগল ছিলেন। হুমায়ূন  আহমেদের একটি নাটক সম্ভবত নাম ” বহুব্রিহী” তে একটি টিয়াপাখির মুখ দিয়ে ” তুই রাজাকার “ বলার মতন মুসা সাহেবও একবার টিভির পর্দায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, চোরদের দেখলে ” তুই চোর” বলে সমন্বন করবেন।  এই মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রাজনৈতিক রোষানলে পরে মৃত্যুর সময় রাষ্ট্রীয় সম্মানটুকু পাননি। তিনি পূর্বের সাংসদ ছিলেন, অথচ সংসদভবনে তার নামাজের জানাজা হতে পারে নি। তাও আবার তিনি ছিলেন আওয়ামী সাংসদ এবং জানাজা পান নি আওয়ামী ক্ষমতার সময়!!!  এই সাংবাদিক সমন্ধে নারায়ণগঞ্জের সাংসদ জন সমাবেশে  বলেছিলেন, “এক বুইড়া সাংবাদিক আছে, তার এক পা কবরে অলরেডি চইলা গেছে, এই ব্যাটা চোর কইতে কয়”  ( এটা ছিলো একজন সাংসদের ভাষা) ।

লেখার শেষে মুসা সাহেবের বলা একটি গল্প বলে শেষ করবো। মুসা সাহেবের গল্পটি ( যদি ভুল না করি) সম্ভবত লেখক আনিসুল হক সাহেব একবার প্রথম আলো পত্রিকায় লিখেছিলেন। গল্পটি ছিলো মুসা সাহেবের জীবন ভিত্তিক। ছোটো বেলায় মুসা সাহেবের মফস্বলের  ইস্কুল জীবনের কাহিনী । গল্পটির শুরু এভাবে, বাংলার শিক্ষক অনুপস্থিত । তাই আরবির শিক্ষক এসে বাংলা ক্লাশ নিচ্ছেন।

আরবির শিক্ষক  : একটি কবিতার লাইন আবৃত্তি করেন। ( কবিতায়, যদি কিছুটা ভুল হয় সবাই ক্ষমার চোখে দেখবেন) কবিটাটি এরকম ,

” ফুঁটিয়াছে সরবে কমল কোহর ”

লাইনটি পড়েই আরবির শিক্ষক বলছেন, এরোই হোলাহাইন, কিছু বুঝ্জনি? কবি কি হইতন চায় ?

ফুঁটিয়াছে-  মানে ফুঁটি রইছে, মানে ভেটকাই রইছে,  বুইঝ্জ নি।

সরব- মানে অইল হুস্ষকুনি ( পুষ্কুনি) আ রার হাগার আরি ( পাগার)।

কমল- হানিত আরি ( পানিতে) আ রার হাগারের হানিত।

কহর- পয়দ্ম্যফুল ( পদ্মফুল) হানির ফুল আরি।

এরোই হুলাপাইন সব বুইঝ্জস্ নি।

কবিতাটির মানে অইল :

আ রার হাগারে পয়দ্ম্যফুল ফুঁটি ভেটকাই রইছে।

ওনার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে কামনা করি , পরকাল ওনার সুন্দর হোক।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার

সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম