Sunday April11,2021

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত আগরতলার শ্রীধর ভিলাকে জাদুঘর করার প্রস্তাব দিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক

রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধু উপাধির স্রষ্টা , তিনি সম্প্রতি আগরতলা সফর করে এসে ৭১ এ তার স্মৃতিচারণ করে এই লেখাটি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন । ইতিহাসের প্রয়োজনে লেখাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ  তাই লেখাটি আমারা প্রকাশ করলাম শুদ্ধস্বর ডটকমে ।
মুক্তিযুদ্ব কালীন সময়ে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট (বি,এল,এফ) পরবর্তীতে যা মুজিব বাহিনী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে তার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ছাত্রলীগের সাবেক চার নেতার নেতৃত্বে সারা দেশকে মোট চারটি রাজনৈতিক ও সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে অস্থায়ীভাবে ভারতে আঞ্চলিক সদরদপ্তর স্থাপন ও পরিচালনা করা হয়। উত্তরাঅঞ্চলের সদর দফতর মেঘালয়ের ঢালুতে। অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক। উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সদর দফতর জলপাইগুড়িতে। এর অধিনায়ক সিরাজুল আলম খান। দক্ষিণ -পশ্চিমাঅঞ্চলের সদর দফতর ব্যারাকপুর। এর অধিনায়ক তোফায়েল আহমেদ। পূর্বাঅঞ্চলের অধিনায়ক শেখ ফজলুল হক মনি। এই কমান্ডের সদর দফতর ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায়।

সদরে দফতর শুনে মনে হতে পারে কিনা বিশাল এলাকা নিয়ে অট্টালিকাসম আমাদের কুর্মিটোলার সেনাবাহিনী কিংবা বনানীর নৌ দফতরের মতো কিছু হবে। ‘শ্রীধর ভিলা’-পূর্বাঅঞ্চলের সদর দফতর। অতি সাধারণ একটি দ্বিতল গৃহস্থবাড়ী কিংবা পরিবারের বাসস্থান। অথচ এই বাড়ি থেকে পরিকল্পনা ও সংগঠিত হয়ে পরিচালিত হতো পূর্বাঞ্চলের মুক্তিবাহিনী গেরিলা যুদ্ধ। অধিনায়ক শেখ ফজলুল হক মনি। সহ অধিনায়ক চট্টগ্রাম আওয়ামিলীগের আব্দুল মান্নান ও আ স ম আবদুর রব।পূর্বাঅঞ্চলের অধিনে জেলা সমূহ -ঢাকা, কুমিল্লা,নোয়াখালী চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম। এবাড়িতে মুক্তিযুদ্বের সংগঠকদের আনাগোনা ছিল নিত্য।

বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ষব্যাপী জন্মশতবার্ষিকী উদ্ যাপন পরিষদের উদ্যোগে মার্চের ১০ তারিখ প্রারম্ভিক কর্মসূচী হয়ে গেল। আমন্ত্রিত হয়ে আগরতলা গিয়েই শ্রীধর ভিলা খুঁজে বের করি।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে আগরতলা শহরে সেদিন রাতের আঁধারে “শ্রীধর ভিলা” খুঁজে পেতে সহায়তা করেছিলেন শ্রীমতি স্বরনিমা রায় এবং সাথে ছিল সতীর্থ বন্ধু শাহ জালাল ফিরোজ।ইতিহাসের ভূমিকা রাখা বাড়ির কেউ খোজ রাখেনা।খুঁজে খুঁজে রাত সাড়ে ন’টায় পেলাম ইতিহাসের আস্থানা। দরজায় কড়া নাড়তে দোতলা থেকে একজন হাঁক দিলেন, কে গো এতো রাতে।পরিচয় দিয়ে স্বরনিমা বৌদি বললেন বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। দেখা করতে চায়।প্রজন্মের একজন সৌগত মজুমদার নিচে নেমে এসে বন্ধ দরজা খুলে দিলেন।

সৌগতের পিতামহ মগন চন্দ্র মজুমদার। পিতা প্রয়াত লাল মোহন মজুমদার । মাতা দেবী মজুমদার যুদ্ধের সময় সদ্য বিবাহিতা।মাত্র তিন মাস গূর্বে। সৌগতের বৌ রীতা বর্মন। ওদের মেয়ে সৌরিস্টা।বাড়িটির একটি অংশে থাকে। সৌগত মজুমদারের বাবারা ছয় ভাই।নরেন্দ্র বিজয় মজুমদার, হারাধন মজুমদার, বাবা লাল মোহন মজুমদার, অনিল মজুমদার, সুনীল মজুমদার ও সন্জিত কুমার মজুমদার। এদের তিন জনই প্রয়াত। বাড়িটি বর্তমানে জরাজীর্ণ। একান্নবর্তী পরিবার এক এক করে ভেঙে এখন ছয় পরিবার। সৌগত এক ফাঁকে আমাদের বসতে দিয়ে দোকান থেকে মিস্টির আয়োজন সেরে ফেলেছে।

একদা শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান,আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন, শাজাহান সিরাজ,সৈয়দ রেজাউর রহমান, শহীদ স্বপন কুমার চৌধুরীর পদভারে প্রকম্পিত এই বাড়ি অযত্নে অবহেলায় বাড়ীর সেই জৌলুশ তেমন নেই। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় জাদুঘর হিসেবে চালু করতে পারেন।