Sunday April18,2021

জলে,স্থলে,আগুনে হাজারো লাশ! প্রার্থনা থাকবে কোনো ভূমিকম্প যেন আমাদের আঘাত না হানে,আমরা সামাল দিতে পারবো না। বর্তমানে সবকিছু চোখে দেখে সেটাই মনে হয়, আমরা সবাই ভালোই অনুধাবন করতে পারি বা বুঝি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সব দায়িত্ব সরকারকে না দিয়ে, নিজেদের একটু বেশি সচেতনতায় আসাটা মনে হয় এখন সময়ের দাবী । বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে বাঁচানোটা একটি আমল হবে বলেই মনে করি ।

আর একটি কথা , ফায়ার সার্ভিসের কাজ কিন্তু কেবলমাত্র আগুন নেভানো না। ওনাদের দায়িত্ব আগুন লাগার পূর্বেই সুস্থ ব্যবস্থা করা ,যেন আগুন লাগলেও তা থেকে বেশি ক্ষতিসাধন না হয়। কেননা আগুন লাগতেই পারে, তবে সেটাকে আয়ত্ত রাখার পদ্ধতি গুলো পূর্বেই এপ্লিকেসন করাটাই ফায়ার সার্ভিসের প্রধান দায়িত্ব ।

প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ম কানুন না মানলে, অনুমতি না দিয়ে সব বন্ধ করে দিন। যেখানে যেখানে  আগুন লেগেছে গত দুইদিনে, এখনতো সবই বন্ধ আছে, সাথে হাজার কোটি টাকা আর কতগুলো লাশ ! সুতরাং দুইদিন আগে বন্ধ করে ফায়ার সার্ভিস এই সকল কিছুর একটি সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারেন এবং দিবেন বলে আশা রাখতে চাই। আমরা আর লাশ চাই না।

এখন শত দুঃখ আর বেদনার মাঝেও ভূমিকম্প নিয়ে একটু হাল্কা কথা বলি। যা বলতে চাচ্ছি তা হাল্কা বা পাতলা কথা হলেও, এর একটি মাজেজা খুঁজে পাওয়া যাবে। এখানে আবার প্রার্থনা থাকবে আমাদের দেশকে যেন কোনো ভূমিকম্পকে মোকাবেলা করতে না হয়। যদি দেশে কোনো ভূমিকম্প হয়, তাহলে আমরা যে ক্ষতির কথা কল্পনাও করতে পারি না , তাই হবার সম্ভাবনা বেশি। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত বলা যায়, ভূমিকম্পে আমাদের বিল্ডিং গুলো কাঁত হয়ে যাবে তবে ভাঙবে না। কেন এমনটি বলছি? হ্যাঁ  একটু হিসেব করলেই কথাটির মাজেজা পাওয়া যাবে। ধরুণ একটি ১০০ ফিট উঁচু বিল্ডিং ভূমিকম্পে ভেঙে সামনে/পিছনে/পাশে পড়তে হলে যে জায়গার প্রয়োজন হবে, তা  আমাদের শহরের বিল্ডিং গুলোর ভেঙে পড়ার সেই জায়গাই নাই। অর্থাত্  বিল্ডিং গুলো এতটাই গা ঘেষা যে , একটি অন্যটির উপরে পড়বে এবং কাঁত হয়ে অনেকটা পাটখড়ির আঁটির মত একটির সাথে অন্যটি বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। তাহলে বলাই যায় ,মানুষের কি হবে জানিনা তবে এটা নিশ্চিত বিল্ডিং গুলো ভাঙবে না! এই হাল্কা কথাটি যদি বাদ দিয়ে বলি, ঢাকা শহরের মাটির নিচে যেভাবে এলোমেলো আর অপরিকল্পিত ভাবে গ্যাস লাইন গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, ভূমিকম্পে এই গ্যাসলাইনের পাইপগুলো থেকে যে ক্ষতি হতে পারে, তা এখনই ব্যবস্থা  না নিলে আমাদের কপালে অনেক বড় দূর্গতিই অপেক্ষা করছে।  সরকার বিষয়টি নিয়ে এখনই জরুরি ভিত্তিতে ভাবুন, জনগণের স্বার্থে ।

লেখার শেষে এখন ফসলিক্ষেত বা ধানীক্ষেত গুলোর কথা ছোট্ট করে বলেই শেষ করবো। আমাদের মজ্জাগত দোষ হলো, কোনো কিছুই মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী করি না বা মাস্টার প্ল্যানই আমরা তৈরি করি না।  যখন সময়ে সময়ে পরিধি বৃদ্ধি পায়, নানান সমস্যা তৈরি হয়, তখন আমরা হা-হুতাশ করি। ইদানিং একটি বিষয় বেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, প্রবাস থেকে বা দেশে বসেই একটু টাকা পয়সা হাতে বেশি হলেই ,সবাই সমান হারে ধানক্ষেত গুলোকে বা ফসলিক্ষেত  গুলোকে তছনছ করে সেখানে বাড়ি তৈরি করছে। আমাদের প্রায় ১৮ কোটি লোকের দেশে । ফসলিক্ষেত গুলোকে রক্ষার্থে, সরকার বাহাদুর যদি এখনই সুষ্ঠু ও কঠিন আইন করে এর শতভাগ প্রয়োগ জরুরি ভিত্তিতে না করে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে কি ধসে এই ১৮ কোটি মানুষকে পড়তে হবে ( সেই ভবিষ্যতে বেশি মানুষ হবে) , সেটা হবে অকল্পনীয় । শুধু বলবো, ফসলিক্ষেত গুলোর বিষয়ে সরকারের এখনই শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার

সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম