Sunday April11,2021

আমাকে গ্রেফতার করুন, অন্যথায় চরমপন্থীরা স্বাধীনতার ডাক দিতে পারে”

২৫ মার্চ ১৯৭১ সাল
সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বত্রিশ নম্বরে এসে শেখ মুজিবকে সম্ভাব্য আক্রমনের কথা জানাচ্ছিলেন। একে একে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এইচ এম কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, কামাল হোসেন, পাকিস্তানী সাংবাদিক তারিক আলী, ক্যাপ্টেন রহমান, আঃ রাজ্জাক, সিরাজুল আলম খান, আ স ম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ দেখা করেন। তারা শত অনুরোধ করেও মুজিবকে স্বেচ্ছায় কারাবরণ রোধ করতে পারলেন না, বরং তিনি বাসভবন থেকে গ্রেফতার বরণের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

রাত দশটার পরে ডক্টর কামাল হোসেন দেখা করলে মুজিব জানতে চান, ইয়াহিয়ার প্রতিনিধি জেনারেল পীরজাদার কাঙ্খিত ফোনটি এসেছিলো কি না। কামালের নেতিবাচক জবাবে মুজিব হতাশ হয়ে পড়েন। এ সম্পর্কে ডঃ কামাল হোসেন লিখেছেন, “এমনকি ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আমি যখন শেখ মুজিবের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম, তখনও শেখ মুজিব আমার কাছে জানতে চাইলেন, আমি ঐ টেলিফোন পেয়েছি কিনা। আমি তাঁকে জানালাম যে, আমি তা পাইনি। এ রাতেই পাকিস্তানী সৈন্যরা বাঙ্গালী জনগণের ওপর আক্রমন চালাল এবং গণহত্যা ও রক্তস্নান শুরু হল, যা এড়ানোই ছিল আলাপ-আলোচনা চালানো ও দর কষাকষির মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক মীমাংসায় পৌঁছানোর এখানে প্রধান লক্ষ্য” (সূত্রঃ ‘মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল’, ডঃ কামাল হোসেন, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭)।

কি ছিলো সে সমঝোতায়?
ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে মার্চের ১৭ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত দফায় দফায় মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ মুজিব জানান, ফলপ্রসু না হলে তিনি আলোচনা করতেন না। এ সমঝোতা প্রসঙ্গে জানা যায়, “দুই পক্ষ অন্তবর্তী সরকার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখলেন। বৈঠক শেষে শেখ মুজিব একজন সিনিয়র সামরিক অফিসারকে জানালেন যে, তিনি এবং ইয়াহিয়া এগারজন মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ছয় জন আসবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে, এবং বাকী পাঁচজন আসবে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে” (সুত্রঃ Richard Sisson and Leo E. Rose,1990. ‘War and Secession Pakistan, India, and the Creation of Bangladesh’, University of California Press)। অতঃপর ২৪ মার্চ ইয়াহিয়া ও আওয়ামীলীগের প্রতিনিধিদের খুটিনাটি আলোচনা শেষে চারটি বিষয়ে ঐক্যমত হয়ঃ
১) ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের অনুসরনে প্রেসিডেন্টের আদেশের বলে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
২) কেন্দ্রে ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্ট থাকবেন।
৩) প্রদেশসমুহের ক্ষমতা সংখ্যাগরিষ্ট দলের হাতে হস্তান্তরিত করা হবে।
৪) জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা প্রথমে আলাদাভাবে বৈঠকে বসবেন, পরে পরিষদের যুক্ত অধিবেশনে সংবিধান চুড়ান্ত করা হবে (সূত্র: সাইদুর রহমান, ২০০৪। ‘১৯৭২-৭৫ কয়েকটি দলিল’ পৃষ্ঠা ৬৪)।

২৪ মার্চের ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠকে আওয়ামীলীগের পক্ষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ডঃ কামাল হেসেন এবং ইয়াহিয়ার পক্ষে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বিচারপতি এ আর কর্নেলিয়াস, এম এম আহমদ, লেঃ জেনারেল পীরজাদা ও কর্নেল হাসান অংশ নেন। আলোচনাকালে আওয়ামীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের নাম “ফেডারেশন অব পাকিস্তান” প্রস্তাব করলে ইয়াহিয়ার প্রতিনিধি বিচারপতি কর্নেলিয়াস “ইউনিয়ন অব পাকিস্তান” পাল্টা প্রস্তাব দেন। পরে ঠিক হয়, চুক্তি সাক্ষরকালে নাম চুড়ান্ত হবে। আলোচনা শেষে স্থির হ‍য়, ইয়াহিয়ার প্রতিনিধি জেনারেল পীরজাদা পরের দিন, অর্থাৎ ২৫ তারিখে কামাল হোসেনকে টেলিফোন করে দলিলে সাক্ষরের জন্য ডেকে নেবেন। কিন্তু মুজিবকে কিছু না জানিয়ে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন।

ঐ দিন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন যায়গায় সৈন্যদের গুলিতে বেশ কিছু সাধারন জনতা প্রাণ হারায়। এর প্রতিবাদে আওয়ামীলীগ ২৭ মার্চ সারা দেশে হরতালের ডাক দেয়। এটাই ছিলো ২৫ মার্চ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সর্বশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি। ২৫ মার্চ রাতে এ সংক্রান্তে একটি বিজ্ঞপ্তি সকল প্রেসে যায় এবং ইত্তেফাকসহ অন্যান্য পত্রিকায় ২৬ তারিখে ছাপা হয়। এ সকল আলোচনা, সমঝোতা, এমনকি ২৭ তারিখ হরতালের ঘোষণা সবকিছুই নির্দেশ করে, আওয়ামীলীগ নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই ক্ষমতালাভের পথে হাটছে- দেশভাগ বা স্বাধীনতা পেতে নয়! এ প্রসঙ্গে এন্থনী মাসক্যারেনহাস লিখেছেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক স্থানীয় এবং বিদেশী সাংবাদিকদের মাঝে একটি প্রেসনোট বিলি করেন যেটিতে মুজিবের পক্ষ থেকে আবেদন ছিলো, “প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা চুড়ান্ত হয়েছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের মতৈক্য হয়েছে এবং আমি আশা করি প্রেসিডেন্ট তা ঘোষণা করবেন।” এ বিষয়ে মাসক্যারেনহাস মন্তব্য করেন, “আমার দুঃখ হয়, এই নির্বুদ্ধিতা সম্পর্কে আমার কোন মন্তব্য নেই” (সূত্র: এন্থনি মাসকারেনহাস, ১৯৭৩, ‘রেইপ অব বাংলাদেশ’, অনুবাদ‍: মযহারুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ১১৩)।

২৫ মার্চ রাত আটটার দিকে দলীয় সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ একটি টেপরেকর্ডার এবং ছোট্ট একটি খসড়া ঘোষণা শেখ মুজিবকে এগিয়ে দিয়ে সেটা তাকে পড়তে বলেন। তা ছিলো “বাংলার স্বাধীনতার ঘোষণা এবং লড়াইয়ের আহবান।” কিন্তু মুজিব তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তার ভয় ছিলো, এ কাজ করলে পাকিস্তানীরা তার বিরুদ্ধে এটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করবে। এখান থেকে দু’টি বিষয় পাওয়া যায়- ১. মুজিব স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ২. তিনি পাকিস্তান ভাঙ্গার দায়ে অভিযুক্ত হতে চান না। যুদ্ধকালে তাজউদ্দিন সাহেব তার বিশেষ সহকারী মঈদুল হাসানকে এ ঘটনাটি বলেছিলেন। ঐ ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা প্রচার সম্পাদক আবদুল মোমিনও পরবর্তীকালে একই ঘটনা মঈদুল হাসানকে নিশ্চিত করেছেন (‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন’ প্রথমা প্রকাশনী ২০১০)।

৭ই মার্চ শেখ মুজিব তার রেসকোর্সের ভাষণে বলেছিলেন, “এ বারের সংগ্রাম আমার মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।” কেউ কেউ দাবী করেন ওটাই ছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা। কিন্তু দেশ স্বাধীন হবার পরে ডেভিড ফ্রষ্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুজিব এ দাবীকে নাকচ করে বলেছেন, ৭ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি। ঐ ভাষণের শেষে তিনি বলেছিলেন, জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান। “জয় পাকিস্তান” বলে তিনি আলোচনার পথ খোলা রেখেছিলেন। সে আলোচনাই চলে ইয়াহিয়ার সাথে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। আমেরিকার NBC টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকার প্রচার হয় ২৬ মার্চ ১৯৭১, তাতে মুজিবকে প্রশ্ন করা হয় Do you mean Independence? মুজিব জবাব দেন, “No, I don’t mean that, I want Autonomy, It can be achieved many ways.

এভাবেই, সকলের অনুরোধ ও চেষ্টা সত্ত্বেও আলোচনার দুয়ার ও সমঝোতার পথ খোলা রাখার জন্যেই তিনি সেই বিভীষিকাময় রাতে নিজের বাসভবন ছেড়ে কোথাও যাননি। ২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনীর হাতে আটক হবার পূর্বে তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছেন, এমন প্রচারণার পক্ষে কোনো চাক্ষুষ বা প্রত্যক্ষ কেনো প্রমান বা সাক্ষ্য নেই। আটক হওয়া অবধি মুজিবের সাথে ছিলেন তার পত্নী ফজিলাতুন্নেসা।
১৯৭৩ সালে বেগম মুজিব এক সাক্ষাৎকারে সে দিনের ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বলেন, “…রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে তারা (পাক সেনারা) গুলি ছুড়তে ছুড়তে উপরে এলো।…তারপর মাথাটা নিচু রেখে নেমে গেলেন তিনি নিচের তলায়। মাত্র কয়েক মুহূর্ত। আবার উঠে এলেন উপরে। মেঝো ছেলে জামাল এগিয়ে দিল তার হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ। পাইপ আর তামাক হাতে নিয়েই বেরিয়ে গেলেন তিনি ওদের সাথে” (বেগম মুজিবের সাক্ষাৎকার, দৈনিক বাংলা, ২৬ মার্চ, ১৯৭২)। এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের কোথাও বেগম মুজিব একটিবারও বলেননি যে, যাওয়ার আগে কোনো এক ফাঁকে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এমনকি আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদও যুদ্ধ চলাকালে বা পরবর্তীকালে কখনই জানতেন না যে, শেখ মুজিব নিজে কখনো বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

২৫ তারিখের ক্রাক ডাউনের খবর শেখ মুজিব আগাম জেনে যান বিভিন্ন মাধ্যমে। মুজিব তার দলীয় নেতাকমী ও পরিবারের লোকদের আত্মগোপনে পাঠিয়ে নিজে সস্ত্রীক রয়ে গেলেন বাসভবনে এবং মধ্যরাতে তার গুছিয়ে রাখা হোল্ড-অলটি নিয়ে পাকবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করেন (বেগম মুজিবের সাক্ষাৎকার ১৯৭৩)।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিম বাংলার বিশিষ্ট সাংবাদিক জ্যোতি সেন গুপ্ত লিখেছেন, ”২৪ তারিখে গোয়েন্দা সূত্র পাক বাহিনীর আক্রমনের আগাম সংবাদ জানিয়ে দেয় আওয়ামী লীগকে। কর্নেল ওসমানী ঐ দিনই মুজিবের সাথে দেখা করে তাকে অবহিত করেন। শেষ রাত পর্যন্ত নেতারা করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। সিদ্ধান্ত হয়, তারা আত্মগোপন করবেন এবং পালিয়ে ভারতে চলে যাবেন।” কিন্তু ২৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাজউদ্দিন এসে দেখেন মুজিব তার বিছানাপত্র গুছিয়ে তৈরি হয়ে আছেন। মুজিব তাকে বললেন যে, তিনি থেকে যাবেন- গ্রেপ্তার বরণ করবেন (সূত্রঃ মাসুদুল হক, দৈনিক ইনকিলাব ২৬ মার্চ ২০০৫)।

স্বেচ্ছায় গ্রেফতার প্রসঙ্গে আহমদ ছফা লিখেছেন, “যে-কোন বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপ্লব, উপবিপ্লব শুরু হওয়ার পূর্বে শেখ মুজিব কোন যাদুমন্ত্র বলে কারাগারে ঢুকে পড়েছেন। ঘটনার নিয়মে ঘটনাটি ঘটে যাবার পর বিজয়ী বীরের মত শেখ সাহেব দৃপ্ত পদক্ষেপে প্রকাশ্য সূর্যালোকে বেরিয়ে এসে নেতার আসনটিতে বিনাদ্বিধায় বসে পড়েছেন। শেখ মুজিবকেই ঘটনাটির নায়ক বলে লোকে বিনাদ্বিধায় মেনে নিয়েছেন। তাঁর নিজের দলের মধ্যেও এ নিয়ে বোধকরি কোন প্রশ্ন কখনো উঠেনি। উনিশ শ’ একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চ তারিখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে আপন বাসভবন থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং উনিশ শ’ বাহাত্তর সালের দশই জানুয়ারি তারিখে বাংলাদেশে এসে এমন একটি আসন পেয়ে গেলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে কোন মানুষ সে রকম মর্যাদা, ভালোবাসা এবং একছ্ত্র ক্ষমতার আসনে উপনিবেশ করতে পারেনি।”

আটকের পর থেকে পরবর্তী তিন দিন মুজিবের অবস্থান কার্যত ছিলো অজ্ঞাত। অনেকেরই ধারনা ছিলো, মুজিব আত্মগোপনে থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ বিষয়টি সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায়, “Yahya Khan left Daca abruptly on 25 March 1971 and Tikka Khan let loose his reign of terror the same night. The next day, while the whereabouts of Mujib remained unknown, Major Ziaur Rahman announced the formation of the Provisional Government of Bangladesh over Radio Chittagong” অর্থাৎ মুজিবের নিখোঁজ অবস্থায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন।

পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান হতে নির্বাচিত ন্যাপ নেতা খান ওয়ালী খান পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করেন ২২ মার্চ ১৯৭১। সাক্ষাৎকালে তিনি জানতে চান, তিনি (মুজিব) এখনও ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানে বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে মুজিব বলেছিলেন, ‌”খান সা’ব, আমি একজন মুসলিম লীগার” (সুত্র: মাহবুবুল আলম, বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত, নয়ালোক প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ১১৪-১১৫)। অর্থাৎ তিনি পাকিস্তানের অমঙ্গল কামনা করতে পারেন না। ওই বৈঠকে ওয়ালী খান শেখ মুজিবকে পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদের ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে বলেছিলেন, “তারা হয়ত আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে।” শেখ মুজিব হেসে বলেছিলেন “করতে চাইলে করুক, আমি তো স্যুটকেস রেডীই রেখেছি।” এর সমর্থন পাওয়া যায় সিদ্দিক সালিকের লেখা Witness to Surrender বই থেকে, যেখানে ২৩ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসে জেনারেল খাদিম রাজার সাথে বৈঠককালে মুজিবের প্রতিনিধি জানান,”ইয়াহিয়ার প্রতি মুজিবের অনুরোধ- তাকে (মুজিবকে) যেনো গ্রেফতার করা হয়। অন্যথায় চরমপন্থীরা স্বাধীনতার ডাক দিতে পারে!” মুজিব যে আশংকা করেছিলেন, তাহলে ঐ বিচ্ছিন্নতাবাদীরাই কি চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিল?

55882133_2141846955922097_6117025953496432640_n