Sunday April11,2021

নির্বাচনের আগে বিএনপির দেয়া দুটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় নিজ দলের সমালোচনা করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন হবে না, শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচন হবে না। এই দুইটির একটিও কার্যকর করলেন না। শেখ হাসিনাকে রাখলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন। সেই নির্বাচনে কেউ জেলে গেলেন, কেউ হসপিটালে রইলেন। কেউ বাড়িতে লুকিয়ে রইলেন। মাঠে নামলেন না। তাহলে দানবের সাথে যখন পারবেন না, তাহলে দানবের সাথে লড়াই করতে যান কেন? যে দানবের কাছে থেকে আপনার অধিকার আদায় করতে পারবেন না, সেই দানবকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় রেখে মানবিকতা কায়েম করবেন, সেটা তো হতে পারে না। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে কৃষক দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। দলের নেতাদের সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আপনি একটি রাজনৈতিক দল করেন, যে দলটি বারবার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেছে। তার বিপরীতে যে দলটি আছে তার চরিত্র কী, ভাষা কী, ইচ্ছে কী? রাজপথে থেকে এটা বুঝা দরকার। সেটা যদি বুঝতে না পারেন তাহলে যে দুর্গতিতে থাকার কথা সেটাই আসছে। তিনি বলেন, দুধ আর তেঁতুল যদি একই ভান্ডারে রাখেন সেটা হয়ত তেঁতুল খেতে পারবেন, দুধ আর দুধের জায়গায় থাকবে না। এ কথাটা তো ভাবতে হবে। সুতরাং আপনারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশের গণতন্ত্র, জনগণের ভোট আদায় করে আপনারা সরকার গঠন করবেন, খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন-এই যে ধারণা রাজনীতিতে, এর চেয়ে নির্বুদ্ধিতার পরিচয় আর কিছু হতে পারে না। সেই কারণেই আজকে বলব, এই সরকারকে বৈধকরণের জন্য আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছিলাম কিনা? শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোনো কিছুতেই তৃপ্ত হন না। সে এক অতৃপ্ত বাসনা নিয়েই রাজত্ব চালাবেন, যতই পান ততই চান। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা তাকে পুলকিত করে, আনন্দিত করে। তিনি বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছেন। তারপরও সন্তুষ্ট নন। দেশনেত্রী জেলাখানায় আছেন-এটাতেই তার স্বস্তি নয়। তার মৃত্যুর সংবাদ তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত না শুনবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি বিচলিত। এটাই তার পণ, এটা তার অঙ্গীকার। এজন্য তাকে একসঙ্গে সহযোগিতা করছে প্রশাসন ও আদালত। ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে সংসদে যাওয়ায় সুলতান মনসুরের সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের সাথে থাকল, আমাদের মাথায় কাঁঠাল রাইখা তিনি (সুলতান মো. মনসুর) এখন কাঁঠাল খাচ্ছেন সংসদে বইসা। কী মনসুর? আমাগো লগে থাইকা, আমাদের এখান থেকে আমরা পাখি ছাইড়া দিলাম, সংসদে চইলা গেল। আরও কিছু অপেক্ষা (সংসদে যোগদান) করছে কি না, আরো কিছু যাবে কি না-তাও জানি না। পাখি যায় যাক, সেই পাখিদের একটাই বলব, গণতন্ত্রের নেত্রী গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে জনগণের কাছে হস্তান্তর করে কারও যদি সংসদ যাওয়ার শখ থাকে যান, কিছু বলব না। কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) জেলে থাকবেন আর পার্লামেন্টে গিয়ে কথা বলবেন সেই কথা শুনার জন্য কিন্তু আমরা কখনোই প্রস্তুত থাকব না। কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে গয়শ্বর দা আরও বলেন, গনতন্ত্র ফেরাতে চাইলে জীবন এবং সম্পদের মায়া ছেড়ে আন্দোলন করতে হবে ….