Sunday April18,2021

জাতীয় পতাকা সম্পর্কে ২০১৫ সালে যা লিখেছিলেন বর্তমান মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার

আমার এই লেখাটা সম্ভবত অনেকেই পড়েননি। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিযে এই লেখাটি পাঠ করা উচিত-নইলে ভুল তথ্য জানার সম্ভাবনা থাকবে-
নতুন প্রজন্মকে সত্য জানতে দিন।

সবুজ জমিনের লাল বৃত্তের সোনালি মানচিত্রটা
মোস্তাফা জব্বার
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষার গাইড বই হোক বা এনসিটিবির পাঠ্য বই, বাংলাদেশের পতাকার রূপকারের নাম লেখা থাকে চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের। যারা এই তথ্যগুলো পাঠ করেন তারা কোনদিন প্রশ্ন করেন না-এই পতাকার জন্ম কবে_ তখন কামরুল হাসান কোথায় ছিলেন? কেমন করে তিনি এই পতাকার রূপকার হলেন? এমন কথাও মানুষ জানে যে, ৭ জুন ১৯৭০ জয় বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজে দেখানো হয় বাংলাদেশের প্রথম পতাকা। ১ মার্চ ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব। তারা আরও পড়ে-১৫ ফেব্রুয়ারি ৭১ দুনিয়াবাসী ও বাংলাদেশের মানুষ আমাদের জাতীয় পতাকা দেখেছে। ২৩ মার্চ ৭১ সারা বাংলায় উড়েছে এই পতাকা। তার মানে অন্তত ৭ জুন ১৯৭০-এর আগে কামরুল হাসান এই পতাকা বানিয়ে থাকবেন_ সেটি জয় বাংলা বাহিনীর প্যারেডে কেমন করে এলো বা রব সাহেবের হাতেই বা কেমন করে গেল? জয় বাংলা বাহিনী বা বট তলার সমাবেশের কোথাও তো কামরুল হাসানের ছায়াও নেই। তাহলে কি কামরুল হাসানকে জড়িয়ে পতাকার গল্পটা মিথ্যা, বানোয়াট বা ভিত্তিহীন?

আমি শিশুদের সাথে কথা বলে আরও অদ্ভুত প্রশ্ন শুনেছি। ওরা প্রায়ই লাল সবুজ পতাকার মাঝে একটি মানচিত্র সংবলিত পতাকাও হাতে হাতে দেখে? ওরা জানতে চায়, সেই পতাকাটি কি? আসলে আমাদের পতাকা কি মানচিত্রওয়ালা পতাকাটি, নাকি এখন মানচিত্র ছাড়া যে পতাকাটি উড়তে দেখি সেটা। যদি পরেরটাই হয়ে থাকে তবে কেন, কখন পতাকা থেকে মানচিত্র সরে গেল এবং কেনইবা মানচিত্র ছিল বা কেনইবা তুলে ফেলা হলো? রাষ্ট্রের কি দায়িত্ব নয়, তার নাগরিকদের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার? এমনকি আমাদের দেশের গণমাধ্যমের দায়িত্ব নয়, পতাকার ইতিহাসটি উপস্থাপন করা? দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব প্রশ্নের জবাব হাতের কাছে নেই। জবাব পেতে গবেষণা করতে হয়। আমাদের হাতের কাছে কিছু গবেষণার তথ্য আছে। আসুন সেসব তথ্য থেকে আমাদের পতাকাটির ইতিহাসটি একটু দেখি।

যারা কামরুল হাসানকে আমাদের জাতীয় পতাকার রূপকার বলে মনে করেন না, তারা বলেন, এই পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাস। কিন্তু এটিও কি পুরো সত্য। শিবনারায়ণ দাসের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই আমি বলতে চাই; সত্যটা আমার চোখের দেখা এবং এর অনেকটাই অর্ধসত্য।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সমাজতন্ত্র বইয়ের ১২৮ পৃষ্ঠায় মনিরুল ইসলাম (আমরা মার্শাল মনি হিসেবে তাকে চিনি) লেখেন, চূড়ান্ত মহড়া ৬ জুন বিকালে শেষ হয়। ওই দিনই সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত হয় জয়বাংলা বাহিনীর একটা পতাকা তৈরির বিষয়ে যা পরদিন (৭ জুন) সকালের অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যম-িত করবে।…… কালচে সবুজ জমিনের ঠিক মাঝখানে পরিমিত আকারে একটা লাল বৃত্ত। ……. ছাত্রলীগের ৭ জুন পালনের সব কার্যক্রম তখন জহুরুল হক হলের নিচতলার ১১৬ নম্বর কক্ষ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। ওই হলেই তিন তলার একটি কক্ষে সিরাজুল আলম খান প্রায়ই থাকতেন। স্বভাবতই, স্বাধীনতার কার্যক্রমের একজন ঊর্ধ্বতন নেতা হিসেবে তার কাছে অনুমোদন নিতে যাওয়া হলো। তিনি পতাকা তৈরি ছাড়া সব কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত থাকায় আগামীকালের কার্যক্রমকে আরও অর্থবহ করার জন্য পতাকা তৈরির কথা জানিয়ে তা প্রদর্শনের জন্য তার অনুমতির জন্য আবেদন করা হলো। সমস্ত কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন যে নাম দিয়েই পতাকা প্রদর্শন কর না কেন তাকে জনগণের ভবিষ্যতের স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বলে ভেবে নিতে কোন বাধা থাকবে না। ……. বলাকা ভবনে ছাত্রলীগ অফিস হওয়ার কারণে নিউমার্কেটের পাশের কাঁচাবাজার সংলগ্ন এক রঙয়ের দোকান থেকে, দোকানিকে জাগিয়ে, সোনালি রং ও তুলি জোগাড় করা হলো। মানচিত্রের নকশা অঙ্কন এবং রং করার জন্য একজন শিল্পীর প্রয়োজন দেখা দিল। সে সমস্যাও সহজেই সমাধান হয়ে গেল। সলিমুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে ব্যানার ফেস্টুন আঁকার জন্য কুমিল্লা ছাত্রলীগের নেতা শিবনারায়ণ দাস তখন কর্মরত ছিল। সে একজন ভালো শিল্পীও বটে। ফলে তাকে নিয়ে আসা হলো কালচে সবুজ জমিনের মধ্যখানে লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি রং দিয়ে পূর্ব বাংলার মানচিত্র আঁকার জন্য। ১১৬ নম্বর কক্ষের মেঝেতে বিছিয়ে লাল বৃত্তের মাঝে পূর্ব বাংলার সোনালি মানচিত্র আঁকা হলো।

তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা ইউসুফ সালাহউদ্দীন আহমদ জাতীয় পতাকা তৈরির সময়টার কথা স্মরণ করে লেখেন, কাজী আরেফ আহমেদের প্রস্তাব অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হলো পতাকায় সবুজ জমিনের ওপর থাকবে একটি লাল বৃত্ত, আর লাল বৃত্তের মাঝে থাকবে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। সবুজ জমিন বাংলার চির সবুজের প্রতীক, লাল সূর্য রক্তে রাঙা হয়ে উঠবে স্বাধীনতার সূর্য, আর জন্ম নেবে একটি নতুন দেশ সোনালি আঁশের রঙে হবে তার পরিচয়। লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি রঙের মানচিত্র তারই প্রতীক। …..খসরু ভাই গেল তখন বলাকা সিনেমা হলের চারতলায় এক বিহারি দর্জির দোকানে। বড় এক টুকরা সবুজ কাপড়ের মাঝে সেলাই করে আনলেন লাল বৃত্তাকার সূর্যের প্রতীক। এখন হলো আরেক সমস্যা। পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। সিদ্ধান্ত হলো ওটা লাল বৃত্তের মাঝে রং দিয়ে আঁকা হবে। আঁকাআঁকিতে কুমিল্লার শিবুদার হাত ছিল ভালো। তিনি বললেন, ‘আমি বাপু পেইন্ট করতে পারব, তবে মানচিত্র আঁকতে আমি পারব না’। কী করা যায়? ঠিক করলাম হাসানুল হক ইনু আর আমি পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র ট্রেসিং পেপারে ট্রেস করে নিয়ে আসব। আমরা গেলাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন জিন্নাহ হলে (বর্তমানে তিতুমীর হল)। উল্লেখ্য, আমি এবং ইনু ভাই উভয়েই তখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। জিন্নাহ হলে ৪০৮নং কক্ষে থাকেন এনামুল হক (ইনু ভাইয়ের কাজিন)। তার কাছ থেকে অ্যাটলাস নিলাম। ট্রেসিং পেপারে আঁকলাম পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। নিয়ে এলাম ইকবাল হলের ১০৮নং কক্ষে। বাকি সবাই সেখানে অপেক্ষা করছিল। শিবুদা তার নিপুণ হাতে ট্রেসিং পেপার থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র আঁকলেন লাল বৃত্তের মাঝে। তাতে দিলেন সোনালি রং।

বাঙালির জাতীয় রাষ্ট্র বইতে কাজী আরেফ আহমেদ লিখেছেন, ১৯৭০ সালের ৭ জুন শ্রমিক জোটের পক্ষ থেকে পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবকে অভিবাদন দেয়ার কর্মসূচি নেয়া হয়। ঐদিন ছাত্রলীগও সিদ্ধান্ত নেয় যে একটা বাহিনী গঠন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এবারও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর। এই বাহিনীর নাম দেয়া হয় জয় বাংলা বাহিনী। অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় আসম আবদুর রবকে। নিউক্লিয়াস থেকে বাহিনীর পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই পতাকা বঙ্গবন্ধুকে ‘ব্যাটালিয়ন ফ্ল্যাগ’ হিসেবে প্রদান করা হবে। ৬ জুন ‘৭০ সালে ইকবাল হলের ১১৬ নম্বর রুমে মনিরুল ইসলাম, শাজাহান সিরাজ ও আ স ম আবদুর রবকে ডেকে আমি ‘নিউক্লিয়াস’-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্ল্যাগ তৈরির কথা জানাই। এই ফ্ল্যাগ পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা হিসেবে গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানাই। তখন মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি) ও আসম আবদুর রব বলেন যে, এই পতাকার জমিন অবশ্যই বটলগ্রিন হতে হবে। শাজাহান সিরাজ বলেন যে, লাল রঙের একটা কিছু পতাকায় থাকতে হবে। এরপর আমি পতাকার নকশা তৈরি করি। বটলগ্রিন জমিনের ওপর প্রভাতের লাল সূর্যের অবস্থান। সবাই একমত হন। তারপর পতাকার এই নকশা নিউক্লিয়াস হাইকমান্ডের অনুমোদন নেয়া হয়। তখন আমি প্রস্তাব করি যে, এই পতাকাকে পাকিস্তানি প্রতারণা থেকে বাঁচাতে হলে লাল সূর্যের মাঝে সোনালি রঙের মানচিত্র দেয়া উচিত।…….. পতাকার কাপড় কিনে তৈরি করতে পাঠানো হয় কামরুল আলম খান খসরু, স্বপন কুমার চৌধুরী, মনিরুল হক, হাসানুল হক ইনু ও শহীদ নজরুল ইসলামকে। এরা নিউমার্কেটের অ্যাপোলো নামক দোকান থেকে গাঢ় সবুজ ও লাল রঙের লেডি হ্যামিলটন কাপড় কিনে বলাকা বিল্ডিংয়ের পাক ফ্যাশন থেকে তৈরি করায়। যে দর্জি এই পতাকা তৈরি করেন তিনি ছিলেন অবাঙালি এবং ইতিবৃত্ত না জেনেই এই পতাকা তৈরি করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ঐ দর্জি পাকিস্তানে চলে যান। সমস্যায় পড়লাম মাঝের সোনালি মানচিত্র আঁকা নিয়ে। এই সময় কুমিল্লার শিবনারায়ণ দাস (বিপ্লবী পরিষদের সদস্য) ইকবাল হলে এসে উপস্থিত হন। তিনি জানালেন মানচিত্রের ওপর শুধু রং করতে পারবেন, মানচিত্র আঁকতে পারবেন না। তখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসানুল হক ইনু ও ইউসুফ সালাউদ্দীন আহমদ চলে গেলেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এনামুল হকের ৪০৮ নং কক্ষে। তার কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো বাংলাদেশের মানচিত্র। সোনালি রং কিনে আনা হলো। শিবনারায়ণ দাস ট্রেসিং পেপার থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে লাল বৃত্তের মাঝে আঁকলেন মানচিত্র। মানচিত্রের ওপর দিলেন সোনালি রং। শিবুর কাজ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়েই একটা ভবিষ্যতের নতুন দেশের নতুন পতাকার জন্ম হলো।

এক বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে শাজাহান সিরাজ বলেন, রব ভাই প্রস্তাব দিয়েছে জমিন। এর আবার মধ্যস্থতা করে দিল আমাদের মার্শাল মনি। তারপর এক্সেপ্ট হয়ে গেল। আরেফ ভাই তখন আমার কাছে উদ্ভট মনে হওয়া একটা প্রস্তাব দিল। বাংলাদেশের, পূর্ব পাকিস্তানের, একটা ম্যাপ দিতে হবে।

আ স ম আব্দুর রব লেখেন, ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের ইকবাল হল। ১১৬ নং কক্ষে থাকতাম। এ কক্ষে বসে ‘স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা বাঙালির আর এক শ্রেষ্ঠ সন্তান সিরাজুল আলম খানের পরামর্শে আমি, শাজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমেদ, মনিরুল ইসলাম ওরফে মার্শাল মনি বাঙালি জাতির জন্য স্বাধীনতার পতাকা তৈরির পরিকল্পনা করি। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পতাকা তৈরির পরিকল্পনা সব ঠিকঠাক। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ আঁকতে জানে না। সবাই চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলেন। তখন সম্ভবত শাজাহান সিরাজ জানান, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিবনারায়ণ দাস ঢাকায় আছে। সে ভালো পোস্টার লেখে। সবাই আলোচনা করে পতাকার কাঠামো তৈরি করেন। মানচিত্র অঙ্কন করেন শিবনারায়ণ দাস।

ওপরের তথ্যগুলো বাংলানিউজ২৪ নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য কাজী আরেফ আহমেদের কন্যা কাজী আফরিন জাহান জুলির লেখার অংশ বিশেষ।

আমি মনে করি জুলির উদ্ধৃতিগুলো থেকে এটি স্পষ্ট যে, তৎকালীন ছাত্রলীগের স্বাধীনতাপন্থি নেতৃবৃন্দ যারা সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন তারাই ৭০- সালের ৬ জুন রাতে সবুজ জমিনর ওপর লাল সূর্য ও তার মাঝে সোনালি রঙের বাংলার মানচিত্র দিয়েই পতাকাটি তৈরি করেন। ৪২ক বলাকা ভবনে অবস্থিত ছাত্রলীগ অফিসের পাশের পাক ফ্যাশন থেকে পতাকা সেলাই করে তাতে শিবনারায়ণ দাস সোনালি মানচিত্র আঁকেন। সেই পতাকা জয় বাংলা বাহিনী, ফেব্রুয়ারি ১৫ বাহিনী, বটতলা, পল্টন ময়দান, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি হয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হয়। আমরা তখনই জানতাম মানচিত্রটি এটি বোঝানোর জন্য যে আমরা বাংলাদেশ মানে পশ্চিমবঙ্গকেও এর অন্তর্ভুক্ত করতে চাই না। আমরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকেই বাংলাদেশ বানাতে চাই।

বাস্তবতা হচ্ছে ছাত্রলীগের স্বাধীনতাপন্থি অংশটি এই পতাকার রূপরেখা নিয়ে রাজপথে, চায়ের আড্ডায়, জহুর হলে, মধুর ক্যান্টিনসহ সর্বত্রই আলোচনা করেছে। এই অংশটি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে আমার সোনার বাংলা রাজপথেই গেয়েছে। এই অংশটি ব্যতীত ছাত্রলীগের নুরে আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন অংশ স্বাধীন বাংলা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে এবং অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্রলীগের এই অংশের কর্মকা-কে হঠকারিতা বলেও চিহ্নিত করেছে। স্মরণ করতে পারেন, ছাত্রলীগের এই অংশটিই জাতির জনককে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছে এবং ওরাই জয় বাংলা সেস্নাগানের জন্মও দিয়েছে।

ঢাকা, ১৬ মার্চ ২০১৫।

[লেখক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক]