Friday April16,2021

Farid Ahmed, who survived the Al Noor mosque shootings but his wife Husna was killed, sits with family and friends after speaking to the media in Christchurch on March 17, 2019. - The death toll from horrifying shootings at two mosques in New Zealand rose to 50, police said Sunday, as Christchurch residents flocked to memorial sites and churches across the city to lay flowers and mourn the victims. (Photo by DAVID MOIR / AFP)

ঘাতকের প্রতি কোন ঘৃণা নেই ফরিদের

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের হামলায় হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা ফরিদ আহমেদকে উদ্ধার করতে এসে তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

এরপরেও ওই খিষ্টান জঙ্গির প্রতি কোনো ঘৃণা পোষণ করছেন না তিনি। তার মতে, ক্ষমাই হচ্ছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায়।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, আমি বলবো যে একজন ব্যক্তি হিসেবে তাকে ভালোবাসি।

২৮ বছর বয়সী ওই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীকে তিনি ক্ষমা করবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, অবশ্যই। ক্ষমা, উদারতা, ভালোবাসা, যত্ম ও ইতিবাচকতাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো দিক।

শুক্রবার জুমার নামাজে এসে শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি হামলায় অন্তত অর্ধশত মুসল্লি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হুসনা বেগমও একজন।

যখন নির্বিচার গুলি ছুটছিল, তখন নারী ও শিশু হল থেকে অনেককে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। ফরিদ আহমেদ বলেন, তার স্ত্রী চিৎকার করে করে সবাইকে পালানো পথ দেখাচ্ছিলেন।

আটকে পড়া নারী ও শিশুদের বাঁচাতে ওই নারী তখন বলছিলেন, ‘দ্রুত, এই পথে আসেন’। এভাবে বহু মানুষকে তিনি নিরাপদে চলে যেতে সহায়তা করেন। অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের কথা ভুলে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী।

‘সবাইকে পথ দেখিয়ে তিনি আমার খোঁজে আসেন, কারণ আমি ছিলাম হুইল চেয়ারে। তিনি যখন মসজিদের ফটকের কাছে আসেন, তখনই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন’, বললেন ৫৯ বছর বয়সী ফরিদ আহমেদ।

১৯৯৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকেই হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হচ্ছে তাকে। শুক্রবারে বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়া হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

ফরিদ আহমেদ বলেন, হামলাকারী যুবক এক ব্যক্তিকে তিন-চারবারও গুলি করেছেন। এতে আমরা সরে পড়তে সক্ষম হয়েছিলাম। এমনকি নিহত ব্যক্তির শরীরেও ফের গুলি করেছেন তিনি।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রীকে দেখতে পাননি বলে জানান ফরিদ আহমেদ। এক ব্যক্তি তাকে ছবি দেখালে স্ত্রীর মরদেহ শনাক্ত করতে পেরেছেন এই বৃদ্ধ।