Friday April16,2021

১) ডাকসু নির্বাচন নিয়ে গত কয়কদিন পত্র-পত্রিকা/ টিভির পর্দায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে আলাপ-আলোচনা-সমালোচনা , তর্ক-বিতর্ক, যুক্তি-প্রতিযুক্তি, কিংবা অতিকথন বা যা যা হয়েছে, সেটা ছিলো সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক চর্চা। হয়তোবা গণতান্ত্রিক এই অভাবনীয় চর্চায় আরো অনেক বেশি আকর্ষণীয়, প্রতিযোগিতা মূলক বা আরো বেশি উচ্চমার্গের হতে পারতো। বিদ্যা গ্রহণের সর্বোচ্চ স্থান থেকে সর্বোচ্চ মাত্রায় গণতান্ত্রিক চর্চা আশা করা নিশ্চয়ই অন্যায় বা ভুল নয়। শুধু আশা করবো,  আগামীতে যেন সেই পর্যায়ের গণতান্ত্রিক চর্চা আমরা দেখতে পাই।

2ab9fd8ace07e070926676711abc13e3-5c87bbdec5d39

২) ডাকসু নির্বাচনে একটি ভোট নিয়েও ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা উচিত নয় বলেই আমি মনে করি। কেননা দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিদ্যা কেন্দ্রে , যেখানে দেশের সর্বোচ্চ জ্ঞাণী মানুষদের সমারোহ, সেই জায়গায় এই অল্প কয়েকটি ভোটের ১০০%  নিয়ন্ত্রণ রাখা যাবে না! এটা শুনতেও লজ্জা লাগে। মানুষ এটাকে ভালো চোখে নেয় না বরং সেই সকল গর্ব করার মত জ্ঞাণী মানুষদের নিয়ে বাজে কথা বলে। ডাকসু নির্বাচনে পাকিস্তান আমলেও ভোট নিয়ে কোনো গন্ডগোল হয়নি। ৭৩ এ ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছিলো, সেটাও হয়েছিলো ভোট শেষে। ভোট নিয়ে গন্ডগোল হয়নি। স্বৈরাচার এরশাদের আমলেও ভোট নিয়ে কোনো গন্ডগোল হয়নি। সুতরাং এই বিষয়টি ভালো করে ভাবা সময়ের দাবী ।

শুধু আশা করবো, আগামীতে যেন এই বিষয়টিতে শতভাগ নজর দেওয়া হয়। এতে করে ডাকসু এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভালো হবে। কেননা এই ডাকসুর নেতারা প্রায়শই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় আসে। গোড়াতেই যদি সততার ছোঁয়া থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে অসত হতে একটু হলেও হাতে কাঁপুনি আসবে।

৩) আজকের এই লেখায় সর্বশেষ যে বিষয়টি বলবো তা হলো , “অন্তর থেকে একটি শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ আগামীর ডাকসুর সভাপতি নুরুল কে এবং তার চেয়েও বেশি অভিনন্দন ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন কে জানাই। কেন ? এই শুভেচ্ছা শোভনকে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে ছোট্ট করে বললেই বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

শোনা যায় শোভন একজন সত্যিকারে ভদ্র এবং অমায়িক মনের মানুষ । এই বিষয়টি নিয়ে কেউ আমাকে চ্যালেঞ্জ করলে আমি তার উত্তর দিতে পারবো না, তবে আমি শোভন সমন্বয়ে আজ অব্দি পত্রিকা, টিভি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খারাপ কিছু দেখনি বা শুনিনি। সেই সূত্রেই বলছি শোভন যে বড় মনের মানুষ তার প্রথম প্রমাণ এই ডাকসু নির্বাচনের পরপরই তিনি দিয়েছেন। ছাত্রলীগের এই সভাপতি শোভন নিজে এসেই আগামীর ডাকসুর সভাপতি নুরুল কে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানালেন। আমাদের দেশে যা সাধারণত দেখা যায় না ! অথচ এটা একটা অতি সাধারণ আচরণ হওয়া উচিত। শোভনের এই অতি সাধারণ আচরণ যা কিনা বর্তমানে অসাধারন , সেটা থেকে অন্যান্য ছাত্র সংগঠন , এমনকি প্যারেন্টস্ সংগঠন গুলোও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। তাহলে দেশের মঙ্গল হবে।

শোভন তার নামের যথার্থতাই প্রমাণ করেছে। সব শেষে বলবো,  ভবিষ্যতে শোভনের এই শোভনীয় আচরণই হোক আমাদের ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে সকল প্যারেন্টস্ সংগঠনের আদর্শ । শোভন তোমায় লাল সালাম।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম