Sunday April11,2021

বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলো।
তারা হলেন- শাহজালালের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৩২), তার মেয়ে মিম (৬), মাহির (০৮) , জামশেদার স্বামী দেলোয়ার হোসেন (৩০)।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় নদী থেকে নিখোঁজ দেলোয়ারের স্ত্রী জামশিদার (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সদরঘাটের আহসান মঞ্জিল জাদুঘর বরাবর নদী থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন একজন। তার সন্ধানে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সদরঘাটের আহসান মঞ্জিলের দক্ষিণ পাশের নদী থেকে একে একে ভাসমান অবস্থায় শিশুসহ চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সাভির্সের ডুবুরি দল। চাচাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিজের ও বোনের পরিবারকে নিয়ে শরীয়তপুর যেতে বৃহস্পতিবার কামরাঙ্গীরচর থেকে নৌকায় করে সদরঘাট এসেছিলেন শাহজালাল। পেছন থেকে লঞ্চে ওঠার সময় ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি উল্টে গেলে ডুবে যান ছয়জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশালগামী সুরভি-৭ লঞ্চটি সদরঘাট থেকেই দ্রুত গতিতে চলছিল। এর মধ্যেই সদরঘাটগামী ওই নৌকাকে ধাক্কা দেয় লঞ্চটি।

মুহূর্তের মধ্যেই নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন শাহজালাল ও তার পরিবারের সদস্যরা। বুড়িগঙ্গা নদীর মধ্যখানে এ ঘটনা ঘটায় এই চিৎকার শুনেছেন কম মানুষই।

তবে দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে এগিয়ে যায় নৌ-পুলিশের একটি টিম। তারা দ্রুত গিয়ে শাহজালালকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে লঞ্চের পাখার আঘাতে শাহজালালের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নৌ-পুলিশের সদস্যরা শাহজালালকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই সময়ে নৌকার মাঝি সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু নৌকায় থাকা শাহজালাল ছাড়া ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকেই তিনটি ইউনিট, ছয়টি স্পিটবোড, পাঁচটি অগ্নিশাসকসহ প্রায় ২৭ জন ডুবুরি কাজ করে যাচ্ছে।

শুদ্ধস্বর/এন.এইচ