Wednesday April14,2021

একটি কথা প্রচলিত আছে, ” মানুষের স্বরণশক্তি নাকি গোল্ডফিশের মত খুব দূরতর ভুলে যায়”। তাই একটু স্বরণ করার জন্য বলছি, সকলের নিশ্চয়ই মনে আছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন হুদা সাহেব ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর পরই প্রথমদিকে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন, আর তা ছিলো ” জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক”। কথাটি বলে হদা সাহেব ঠিক মত একদিন চেয়ারেও বসতে পারেননি। সেই সময়ের এবং বর্তমানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই সময় নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন,  ” চেয়ারে বসলেই মাথা খারাপ হয়ে যায় “। বলেছিলেন না বলে ধমক দিয়েছিলেন বললেই মনে হয় বেশি মাননসই হয়।

বেশ সেই দিন থেকে জাতীয় নির্বাচন শেষ অব্দি হুদা সাহেব আর একটি কথাও কোনো দিন বলেননি যা কিনা বিরোধী বা সরকার ব্যতিরেকে অন্য কারো পক্ষে যায় । যে যাই বলুক হুদা সাহেব কিন্তু সেই ধমকের ওজন ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন । বলতেই হয় ধমক একখান ছিলো বটে। তার ফলাফল হুদা সাহেব নির্বাচনের মাধ্যমে দিয়েছিলেন বলেই  দুষ্টু লোকে বলে থাকে।

জাতীয় নির্বাচন আড়াই মাস শেষ হতে যাচ্ছে। যেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রায় সকল দলই , নির্বাচন নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি সেই সূত্রে সিটি কর্পোরেশন এবং উপজেলার নির্বাচনেও বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ করলো না। নির্বাচন নিয়ে এই ক্রান্তিকালে হঠাত্ করেই আবার হুদা সাহেবের একটি বক্তব্য হাট বাজার সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ হট কেক। বক্তব্যটি নিশ্চয়ই সকলেরই ইতিমধ্যেই জানা হয়েছে, বক্তব্যটি ছিলো গত দুইদিন পূর্বের, ”  ইভিএম চালু করলে রাতে ব্যালটবাক্স ভরার কোনো সুযোগ থাকবে না “!  ইংরেজিতে একটি প্রচলিত কথা , “স্লিপ অব টাঙ” সোজা বাংলায় মুখ ফোঁসকিয়ে কথা বেড় হয়ে যাওয়া । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় অতীব সত্য বেড় হয়ে যায় । হুদা সাহেবের বক্তব্য নিয়ে আর বেশি কিছু না বললেও মনে হয় সকলের কাছেই বিষয়টি বেশ পরিষ্কার ।

সিটি কর্পোরেশন এবং উপজেলা নির্বাচন নিয়ে হুদা সাহেব ইতিপূর্বেই বলেছেন , “এই নির্বাচন গুলোও জাতীয় নির্বাচনের মত হবে “। জনমানুষ তখন ওনার এই কথা নিয়ে কম হাসাহাসি করেননি। এই কথা গুলো হয়তো উনি ক্রেডিট নিতে গিয়ে বলেছিলেন, তবে গত দুইদিন পূর্বের বক্তব্যে একটু বেশিই প্যাঁচে জড়ালেন বলে মনে হচ্ছে। আমি অবাক হচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন অব্দি দ্বিতীয় ধমকটি দেন নি ! অবশ্য বলাই যায়, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, ধমকের প্রয়োজনই বা কি।

এবার আরো একটি ভিন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ,  ” ডাকসু “ নিয়ে বলি। অনেকেই বলে থাকে বা গুরুত্বের দিক দিয়ে ডাকসু দেশের দ্বিতীয় সংসদ এবং ইতিহাসও তাই বলে। অনেক রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের কথায়, লেখালেখিতে যা শোনা যাচ্ছে, ডাকসুও নাকি সেই জাতীয় নির্বাচনের মতই হতে যাচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব থাকা দেশের জ্ঞাণ গরিমার আয়না শিক্ষকরাই নির্বাচন প্রশাসনে আছেন। তাদের উদ্দেশ্য শুধু বলবো, আপনারা জাতির বিবেক। ইংরেজির বহুল ব্যবহৃত শব্দ,  ” থিন্ক্স টুয়াইস “ শব্দটিকে একবার স্বরণ করে নিজেদের বিবেককে আর জাতির সামনে ছোট করবেন না। তাহলে আপনাদের ডাক নামও না  হুদা হয়ে যায়।

আর মাত্র একদিন পরে ডাকসু নির্বাচন । যদি ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মত কিছু হয় , তবে একথা জোর করেই বলা যায়,  দেশের ভবিষ্যত গণতন্ত্রের লাশের জন্য এই ডাকসুকেই না আবার রাস্তায় রক্ত ঝড়াতে হয়। সেরকমটি না হোক সেটাই আমাদের কাম্য ।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার

সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম