Sunday April11,2021

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু) নির্বাচনে(১১ মার্চ,২০১৯)কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে প্রার্থীতা করছি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট ও সহায়তা চাই।

১.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রতিনিয়ত অন্যায়,সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব দেখে খুবই ব্যথিত হয়েছি।গত তিন বছরে অসংখ্যবার হলে হলে ছাত্র নির্যাতন,ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়ন,লিঙ্গ বৈষম্য,আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্য,প্রশ্ন ফাঁস ইত্যাদি প্রতিটা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ আমাকে অবাক ও ক্ষুব্ধ করেছে।উপলব্ধি করেছি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ছাত্র প্রতিনিধি না থাকার ক্ষতিকর দিক।

এসব সমস্যা সমাধান করতে পারে ডাকসুর নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রতিটা নায্য আন্দোলনে আমি সক্রিয় ছিলাম।ক্ষমতাসীন সন্ত্রাসীদের হাতে দুইবার নিপীড়িত হয়েছি,হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছি,কিন্তু ছাত্রদের নায্য দাবীর পক্ষে না থেকে পারিনি।আমি ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিশেবে সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত ক্যাম্পাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চাই।

২.বিজ্ঞানের ছাত্র হিশেবে আমি জানি সায়েন্সের ডিপার্টমেন্টগুলোর ল্যাবরেটরির কি বেহাল দশা।পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে আদিম প্রক্রিয়ায় চলছে প্র‍্যাক্টিক্যাল ক্লাস।শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই টাকা-পয়সা দিয়ে অনেক ম্যাটেরিয়ালস কিনতে হয়।এসব যন্ত্রপাতিও আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে নাই।গবেষণাগারে নেই আধুনিক কোনো সুবিধা।গবেষণাখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নাই।গবেষণার নামে যা হয়,তাতেও অনেক সময় চুরির অভিযোগ ওঠে।গবেষণার সাথে শিক্ষার্থীদের তেমন কোনো সম্পৃক্ততা নাই,নেই কোনো সায়েন্স জার্নাল।আমি এসবের প্রতিকার চাই।

৩.ডিজিটাল বাংলাদেশের সবচেয়ে নামী বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিটা কার্যক্রম চলে আদিম পদ্ধতিতে।শিক্ষার্থীদের ছোট্ট কাজের জন্য এক হাত লম্বা লাল কাগজ নিয়ে হলের প্রভোস্ট অফিস থেকে ব্যাংক,ব্যাংক থেকে আবার প্রভোস্ট অফিস,রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের এই রুম থেকে সেই রুমে কয়েকদিন,অতঃপর ডিপার্টমেন্টে ঘোরাঘুরি করতে হয়! আমি এই দশা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুক্তিতে ভূমিকা রাখতে চাই।পুরো ক্যাম্পাসকে উন্মুক্ত ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে থাকবে ই-লাইব্রেরি। ভর্তি পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক প্রতিটা কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আমার স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত।যেখানে মুক্তচিন্তা,ব্যক্তি স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকবে।সাহিত্য-প্রকাশনা,সাংস্কৃতিক কার্যক্রম,সায়েন্স ফেস্ট ইত্যাদিতে প্রাণোচ্ছল থাকবে ক্যাম্পাস।

শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষ থেকেই হলে সিট পাবে।পরিবহণ সমস্যা দূর হবে।তালাবদ্ধ হবে গণরুম ও গেস্টরুম।লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা।

গণমানুষের অর্থায়নে চলা এই বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তিতে পরিণত না হয়ে,গণমানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।

আমি বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচল দশার জন্য দায়ী ছাত্র ও শিক্ষকদের রাজনৈতিক দাসত্ব।যেহেতু প্রতিটা সমস্যা রাজনৈতিক তাই এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে।এ জন্যেই যে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে সেখান থেকেই আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে প্রার্থীতা করছি। অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে যারা প্রার্থী হবেন তাদের সবাইকেও স্বাগত জানাই।

তবে জালিয়াতি ও প্রহসনের নির্বাচনে আমি নিশ্চয়ই থাকব না।আমি নির্বাচন করার সাহস পাচ্ছি,কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আস্থা আছে।ডাকসুর সর্বশেষ সাত নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন কখনো নির্বাচিত হয়নি।তাই সারাদেশের মানুষ অন্যায় মেনে নিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা মেনে নিবে না বলেই আমার বিশ্বাস।এই আস্থা থেকেই আমি প্রার্থী হচ্ছি।প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ,আপনি কাকে ভোট দিচ্ছেন তা কেউ জানতে পারবে না।আপনার সঠিক সিদ্ধান্তই পারে শিক্ষার্থী হিশেবে আপনার মর্যাদা ও অধিকার ফিরিয়ে দিতে।

তাই শত হুমকি,টর্চার সত্বেও এসব রুখতেই আপনার পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন।

20190302_163336