Sunday April11,2021

মাননীয় নতুন মেয়র,  প্রথমেই বলি ভোটের প্যাচালে যাবো না, কি ভোট বা কেমন ভোট ? সব শেষে রূঢ় বাস্তবতা হলো আপনি এখন ঢাকা উত্তরের মেয়র। আপনাকে স্বাগতম

লেখার প্রথমেই একটি সাইক্লোজিক্যাল বিষয় বলি :বিষয়টি  বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সাইক্লোজি। বড়শিতে সাধারণ ছোট্ট একটি খাদ্য জড়িয়ে দিয়ে পানিতে ফেলা হয় কিন্তু উদ্দেশ্যে থাকে সেই খাদ্যের চেয়ে হাজার গুণ বড় আরো একটি খাদ্য বা মাছ তুলে আনা। সহজ বাংলায় বলা যায় এক প্রকার চালাকি, যা কিনা ভেরি মাচ ইনটেলিজেন্ট কর্ম বলা যায় । সবাই এই কাজটি পারে, এমনটিও নয়। হয়তো দেখতে সহজ মনে হয় কিন্তু অত সহজ অবশ্যই নয়। কিছুটা টেকনিক, কিছুটা বুদ্ধিদীপ্ত কাজ বটে। বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সাইক্লোজি কেন বললাম ,  একটু পরেই সেটা খোলসা করছি।

এবার আসি প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের কথায় । ওনার মৃত্যুর পরে একটি আর্টিকল লিখেছিলাম, ওনাকে নিয়ে । কেউ চাইলেই আমার টাইম লাইনে একটু নিচের দিকে পড়তে পারেন। যাক , আর্টিকলটি ছিলো , ” কর্মের যোগফল = মানুষ ” । আর সেই কর্মের যোগফল ছিলো আনিসুল হক । সত্যি বলতে উনি সেই কর্ম করে দেখাতে পেরেছিলেন কারণ তার পিছনে দেশের সবচাইতে শক্তিধর ব্যক্তি স্বয়ং শেখ হাসিনা নিজেই ছিলেন। এটা আমার কথা নয় , এটা স্বয়ং আনিসুল হক নিজেও স্পষ্ট করে কয়েকবার টিভির পর্দায় বলেছেন। যেমন বলেছিলেন , ” আপনি রংবাজী করবেন তো আমিও রংবাজী করবো”। মনে রাখবেন আমার সাথে শেখ হাসিনা আছেন। এই রংবাজীর কথাটি মোটেও কোনো নেগেটিভলি নেওয়ার কিছুই নেই। কেননা আমাদের দেশের বাস্তবতায় সব কিছুতেই রংবাজী চলে। সুতরাং কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতন অনেকটা। আনিসুল হক সাহেব তার অল্প সময়ে সঠিক কর্ম করে বেশ নামের সাথেই ঢাকাবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। লক্ষ্য করুণ, ঢাকার মানুষ আগামীর সকল মেয়রের কাছ থেকেই নিম্নের পক্ষে আনিসুল হকের মতন কাজ আশা করবেন এবং এটা স্বাভাবিকও বটে। কেননা একটি ভালো উদহারণ চোখের সামনে থাকলে অবশ্যই সেটাকে মানুষ প্রয়োজনে স্বরণ করে। সুতরাং বলাই যায়, আজকের মেয়র জনাব আতিকুল সাহেবের কাজ মোটেও সহজ হবে না। আবার উনি এসেছেনও মাত্র ১১ মাসের জন্য । তবে মাত্র  ১১ মাস এটাকে জনগণ কিছুতেই মার্সি বা ক্ষমার চোখে দেখবে না বরং  উল্টো ভাত রান্না করতে যে দু একটি ভাত টিপলেই বুঝা যায় সেদ্ধো হয়েছে কিনা ? তাই বলছি এই ১১ মাসই হবে আতিকুল সাহেবের এসিড টেস্ট । উনি ভবিষ্যতের জন্যেও যোগ্য হবেন কিনা। আমিতো মনে করি , আতিকুল সাহেব নিশ্চয়ই মাত্র এই ১১ মাসের মেয়র হবার জন্যেই আসেননি বরং উনি আগামীর মেয়র হতেই বেশি আগ্রহী হবেন। সুতারং এই পরীক্ষায় উনাকে পাশ করতেই হবে।    সময়ের অজু হাত হবে বিকলাঙ্গ হাত।

এবার আসি তাহলে আতিকুল সাহেব সত্যি সত্যি এই ১১ মাসে ঢাকার জন্য কি এমন বিস্ময়কর কাজ করে বলিষ্ঠ হাতের প্রমাণ দিতে পারেন। আমি মনে করি অবশ্যই পারেন। আর সেটা হলো ওনাকে অন্তত একটি কাজ এই ১১ মাসে জনগণ কে দিতে হবে, যা পেয়ে যেন জনগণ কিছুটা হলেও স্বস্তি পায় এই ঢাকা শহরে।

এখানে বলা ভালো, একজন মেয়রের সত্যিকার অর্থেই কোনো ক্ষমতা নেই, তবে ঢাকার মেয়র হিসেবে উনি সব সময় দেশের শক্তিধর প্রধানমন্ত্রীর সাথে যে কোনো সময় সরাসরি দেখা বা যোগাযোগ করতে পারেন। আবার অন্যদিকে একজন মেয়রকে সম্ভবত ৫৪ টি সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। এই ১১ মাসে যদি উনি সব সংস্থার সাথে একের পর এক মিটিং করে যান তাও ওনার সময়ে কুলোবে না। তাহলে কি করণীয় বা অল্পতে কি করে যেতে পারেন ?

এখানেই আসি সেই বড়শি সাইক্লোজিতে। সম্ভবত ঢাকার মেয়রের হাতে ঢাকার সব রাস্তা নিয়োজিত থাকে। উনি এই অল্প সময়ে  অর্থাত এই ১১ মাসে ঢাকার সব রাস্তার ফুটপাত থেকে, আবার বলি সব রাস্তার ফুটপাত থেকে সকল দখলদারদের সরিয়ে দিয়ে জনগণের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে দিতে পারেন।  এই ফুটপাত দখল খালি করতে হকারদের ভিন্ন কোনো জায়গায় ব্যবস্থা করে, কাজটি উনি যদি এই ১১মাসে করে যেতে পারেন , তাহলে শতভাগ নিশ্চিত বলা যায় জনগণ মন থেকেই আপনাকে ভবিষ্যতের জন্য মেয়র হিসেবে দেখতে চাইবে , নিজেদের স্বার্থেই। জনাব নবনির্বাচিত মেয়র সাহেব এই কাজটুকু করা নিশ্চয়ই ১১ মাস যথেষ্ট সময় । অন্য কিছুতে সময় নস্ট না করে এই অল্প সময়ে অর্থাত্ অল্প খাদ্য দিয়ে( অল্প সময়ে) বিরাট মাছটি আপনি জনগণকে দিতে পারবেন।

লেখার শেষে শুধু বলবো, ঢাকা শহর এখন নানান ঝামেলায় জর্জরিত । এই শহরের মানুষ নানান দুর্ভোগে যেভাবে বসবাস করে , সেই লিস্ট লিখলে ফর্দ অনেক বড় হয়ে যাবে। সুতারং হাজার সমস্যা নিশ্চয়ই এই ১১ মাসে শেষ করতে পারবেন না। আপনি শুধু জনগণকে এই ১১ মাসে একটি দখল বিহিন ফুটপাত উপহার দিন, আপনাকেও জনগণ সাদরে ভবিষ্যতের জন্য গ্রহণ করে নিবে। এই গরিবের কথা বিবেচনায় নিবেন বলে আশা রাখি এবং আপনার জন্য শুভ কামনারইলো ।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম