Wednesday April14,2021

কাজী আরেফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে এক সভায় তিনি বলেন, “একটি ভয়ঙ্কর নৃশংস নির্দয় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমরা কাজী আরেফ আহমেদকে হারিয়ে ফেলি।

“খুনিরা তাকে সামনে থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তার হত্যার পেছনের পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্কে আমরা এখনো জানতে পারি না। আমি মনে করি, তাদের জানা প্রয়োজন।”

মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর নেতা কাজী আরেফ স্বাধীনতার পর জাসদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন, জাতীয় কৃষক লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানের আমলে আগের বৈরিতা ভুলে আওয়ামী লীগ-জাসদ ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজী আরেফের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘৯০ এর দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠিত হলে তাতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে জাসদের অংশগ্রহণেও কাজী আরেফের ভূমিকা ছিল।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুরে ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এক জনসভায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

কাজী আরেফের এই স্মরণ সভায় তার মেয়ে ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুনীর উদ্দীন আহমেদ ও নাজমুল হক প্রধান বক্তব্য দেন।

মাহফুজুর রহমান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “কাজী আরেফ আহমেদ আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় নাম। যদিও এ নামটি আজকের প্রজন্মের কাছে অচেনা এবং ব্যক্তিটিকে আজ অনেকেই চেনেন না। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আজ অনেকেই তাকে চিনলেও তা প্রকাশ করতে চান না।

“স্বাধীনতা-পূর্ব কাজী আরেফ আহমেদকে চিনতে বা জানতে হলে আমাদের ‘নিউক্লিয়াসকে’ জানতে হবে। ‘নিউক্লিয়াস’ ছিল গোপন সংগঠন, বেছে বেছে এর সদস্য করা হত।

“কাজী আরিফ ভাই সম্পর্কে এটুকু বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্রে যে কজন ছিলেন আরেফ ভাই ছিলেন তাদের অন্যতম। স্বাধীনতার পর প্রচণ্ড সাহসের সাথে যারা নতুন রাষ্ট্রটিকে সঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন তাদের মাঝে আরেফ ভাই অন্যতম। একটি মানুষের জীবনে এটা নিশ্চয়ই বড় এক সফলতা।”

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, “কাজী আরেফ আহমেদের মধ্যে সঠিক চিন্তা ছিল। মহান ছিল তার অনুভব। স্বাধীনতার স্বপ্নের বীজ বপনের ক্ষেত্রে নিউক্লিয়াস এর সাথে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সংযোগ ছিল। কাজী আরেফ ছিলেন সেই নিউক্লিয়াসের অন্যতম নেতা। স্বাধীনতার স্বপ্ন শুধু নয়, সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন শুধু নয়, বাংলাদেশের পতাকা তৈরীর সাথে ও তার ভূমিকা ছিল।”

জেড আই খান পান্না বলেন, “বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কাজী আরিফের অনন্য ভূমিকা রয়েছে। তার হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। যদিও কোনো হত্যাই হয় না পরিকল্পনাকারী ছাড়া।

“এখনো সেই হত্যার কোনো পরিকল্পনাকারীকে ধরা হয়নি। এই হত্যার পরিকল্পনাকারীদেরও বিচার একদিন হতে পারে।”

রামেন্দু মজুমদার বলেন, “কাজী আরেফ আহমেদকে আমরা যথাযথ মূল্যায়ন করিনি। তাকে সঠিক মূল্যায়ন করাটা জরুরি। তার কথা তরুণ প্রজন্মকে জানাতে উদ্যোগ নিতে হবে।”