একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবি। সংগঠনে টানা রক্তক্ষরণ। বেশ কয়েকটা জনমত সমীক্ষায় ইঙ্গিত, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বামেদের আসনসংখ্যা শূন্যে পৌঁছতে পারে। এমন এক ঘোর দুঃসময়ে ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিতে পারাই বড়সড় দুঃসাহসের পরিচয়। সেই দুঃসাহসী সমাবেশের ডাক— দিল্লি থেকে সরাতে হবে মোদীকে, বাংলা থেকে দিদিকে। বৃহত্তর বাম ঐক্যের বার্তাও শোনা গেল ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে। আর লাল মঞ্চকে আরও লাল করে দিয়ে গেলেন লালমাটির নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম।

রবিবার বেলা ১টায় ব্রিগেড সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিছুটা দেরিতেই তা শুরু হয়। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, ফরওয়ার্ড ব্লকের সর্বভারতীয় নেতা দেবব্রত বিশ্বাস, সিপিআই সাধারণ সম্পাদক সুধাকর রেড্ডি, আরএসপির ক্ষিতি গোস্বামীরা শুরুতেই ভাষণ দেন। তাঁদের পরে ভাষণ দিতে ওঠেন এ দিনের সমাবেশের অন্যতম প্রধান বক্তা তথা সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ‘জনতার ব্রিগেডে’-এর রাজনৈতিক লাইনটা স্পষ্ট করে তুলে ধরেন তিনি। এ দিনের জমায়েতকে প্রথমে ‘লাল সমুদ্র’ বলে আখ্যা দেন ইয়েচুরি। তার পরে বলেন, ‘‘এই লাল সমুদ্র দেখে আমার বিশ্বাস হয়ে গিয়েছে, শুধু আমার নয়, গোটা দেশের বিশ্বাস হয়ে গিয়েছে যে, বাংলার মানুষ দিল্লি থেকে মোদীকে হঠাবেই, বাংলা থেকে মমতাকে হঠাবেই।’’ নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল একে অপরের পরিপূরক রাজনীতি করেন বলে এ দিন ফের দাবি করেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক। মোদীকে ‘পকেটমার’ বলে কটাক্ষ করেন ইয়েচুরি। তার পরে বলেন, ‘‘পকেটমার কিন্তু একা কাজ করে না, একজন সহকারী থাকে। ধরা পড়ে গেলে ওই সহকারীই পকেটমারকে পালাতে সাহায্য করে।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদী পরস্পরকে সে ভাবেই সাহায্য করছেন— কটাক্ষ ইয়েচুরির।