Tuesday April20,2021

আমাদের দেশের রাজনীতি দলগুলোর উপদেষ্টারা কোনো বেতন বা সম্মানি মানি পান কিনা? জানিনা। তবে এটা নিশ্চিত বলা যায়, ধান্দায় থাকেন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার বা পেয়ে থাকেন। আমার নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি, ওনাদের উপদেশ গুলো খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই নিজের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানোর ইচ্ছা হলো! অবশ্যই বিনা বেতন, ধান্দা বা সম্মানি মানি ছাড়াই, তবে দেশে যেহেতু গণতন্ত্রের বালাই নাই, তাই আমার বিনি পয়সার উপদেশ গুলোও অগণতান্ত্রিকই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাতে কি যায়  আসে ! এখানে একটি কথা বলে রাখি, বর্তমানে যা দেখতে পাচ্ছি তাতে মনে হয় না দেশে অতি স্বত্বর কোনো গণতন্ত্রের দেখা মিলবে। কেননা গণতন্ত্র আদায় করার বিষয়, বাজারে সের হিসেবে কিনতে পাওয়া যায় না।

আমি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হলে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে যা করতাম :

১) নির্বাচনের সময় ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপিকে যেভাবে দৌড়ানো হয়েছে! আমি একি মাত্রায় দৌড়ানোর পক্ষেই উপদেশ দিতাম, অবশ্যই ভয়ে ভিতু রাখার জন্য । আমরা বাঙালিরা দুশ বছর ব্রিটিশ এবং ২৫ বছর পাকি হারামজাদের পৈশাচিক নির্যাতনে বেশ সহনশীল ছিলাম বা অভ্যস্ত বলা যায়। সেই সূত্রে লম্বা সময়ের বাঙালির ধৈর্য কে কাজে লাগানোর পক্ষেই থাকতাম। যেন পিঠ সোজা করে দাঁড়াতে না পারে এবং ভয়ে থাকে।

২) দৌড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে দলের বড় বড় নেতাদের কে সরাসরি বিএনপি অফিসে পাঠিয়ে দিয়ে, নেতা নেতা পর্যায়ে টেবিল আলোচনায় ( কোনো সংলাপ নয়) ব্যস্ত রাখতাম । অবশ্যই পূর্ব নোটিস ছাড়া বড় নেতাদের সরাসরি বিএনপি অফিসে পাঠাতাম । বিএনপি পূর্ব নোটিস ব্যতিরেকে নেতাদের অফিসে ঢুকতে না দিলে, সেটা নিয়ে নিয়ন্ত্রিত টিভির পর্দায় অতীতের দরজা বন্ধ করার ঘটনা ( কোকোর ঘটনা ) আবার চর্বণের মাধ্যমে জনমানুষের সিমপ্যাথি অর্জন করতাম এবং বিএনপিকে অভদ্র বলে ভোটের বাজারে দূর্বল করে দিতাম।

৩) ভোটের সময় যে পদ্ধতিতে নৈশভোট হয়েছে, আমি এই একই পদ্ধতিতে সায় দিতাম। তবে একটু ভিন্নভাবে। প্রথমেই জামায়াতের ২৩ প্রার্থী যে সকল এলাকায় ভোটে দাঁড়িয়েছিলো, তাদের সকলের সিট গুলো আওয়ামী লীগের নিজেদের করে নিতাম। অর্থাত জামায়াত কে একটি সিটেও জয়যুক্ত হতে দিতাম না। যেন এদের লেশমাত্র সংসদে ঢুকতে না পারে । এতে করে ভোটের পরে জামায়াত কে পুরো সাইজ করতে সুবিধে হতো।

৪)  বিএনপি  এবং ঐক্যফ্রন্ট কে নৈশভোটের মাধ্যমে নিজেরাই একই পদ্ধতিতে বেছে বেছে ভালো কেন্ডিডেটদের বাক্সে ধানের শীষে ভরে রাখতাম। সাথে ধানের শীষে ছিল মারার কাহিনী নিজেরাই ভিডিও করে রাখতাম। যে ৭ টিতে জয়ী হয়েছে, সে ক্ষেত্রে অন্তত ৭০ টি সিট দিতাম।

৫) এমন কিছু আওয়ামী প্রার্থীদের সিট গুলো দিতাম , যারা আওয়ামী লিগের জন্য সত্যি অ্যালার্জি, যেমন বদির সিট, টাঙাইলের রানার সিট । সেই সকল সিটে পুলিশ / প্রশাসন কে শতভাগ নিশ্চিত করতে বলতাম। কেননা এই সকল সিটে বদি/রানারা এতই শক্তিশালী যে সেখানে বিএনপির সাংসদ ভবিষ্যতেও এদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হতে বাধ্য হতো। পাশাপাশি শরিকদের মাঝে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার  ইনু সহ কিছু বাদ দিতাম। কেননা ইনুর দুইআনা বক্তৃতার প্রতিশোধ নিতাম।

৬) সর্বমোট ৭০ টি সিট দিলে বিএনপি আর বড় গলায় চোর চোর বলে চিল্লাতে পারতো না।  যদি চিল্লাতো তাহলে, সেই ভিডিও গুলো একটি একটি করে বাজারে ছড়িয়ে ওদের মুখ বন্ধ করে দিতাম। ওদেরকেই উল্টা চোর বলে প্রমান দিতাম। ওরাতো আর আওয়ামী লীগের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারতো না, সুতারং চুপ থাকতে বাধ্য হত।

৭) লাভের মধ্যে যা হতো, বিএনপি ৭০ সিটকে বর্জন করার সাহস দেখাতে পারতো না । মাইনক্কা চিপায় ( আশা করি মাইনক্কা চিপার গল্পটি সবাই জানেন)  পড়ে সংসদে ঘাড় নিচু করে চলে আসতো, এক্কেবারে প্রথম প্রহরেই। সাথে আমাদেরও সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সিট বহাল তবিয়তেই থাকতো। সংসদে সব সময় তিনবার হাঁ ভোট দিয়ে যা করার তাই করতাম, সাথে বিএনপির ঘাড়েই বন্দুক থাকতো।

ভিক্ষুককে তার ঘাঁ কে বাঁচিয়ে রাখতে হয় নিজের ব্যবসা ঠিক রাখার জন্য । এই সরকার কে তার অদৃশ্য ঘাঁ কে নিজেরা শত চেষ্টা করলেও সাড়াতে পারবে না। কেননা রাজপথের বিরোধী দল সেই অদৃশ্য ঘাঁ কে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জ্বলজ্বল রাখবে নিজেদের স্বার্থেই। সুতরাং এই প্রচেষ্টা সরকার অনায়াসেই বাঁদ দিতে পারে। কেননা যা কিছুই হোক , এটা নিশ্চিত সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবেই, সুতরাং নিঃপ্রয়োজন।

এখন আসি যদি বর্তমানে আমি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হতাম , তবে যা বলতাম :

১) প্রথমেই বলি , বর্তমানের আওয়ামী লীগ কে বেশ ধৈর্যশীল হতে হবে।
২) বিরোধী দলের প্রতিটি কথাবার্তা সহনশীল হয়ে শুনতে হবে।
৩) বিরোধী দল যতই নির্বাচন নিয়ে কথা বলুক, আওয়ামীলীগ কে ভবিষ্যতের কথাই শোনাতে হবে । অর্থাত নির্বাচনের প্যাঁচালে পা না বাড়ানো এবং নির্বাচন কে বৈধ করার চেষ্টা না করা, কেবল এরিয়ে যাওয়াই হবে উত্তম।
৪) প্রয়োজনে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা এবং টিভি গুলোকে সতর্কবাণী জোরে শোরে বলে দেওয়া, যেন নির্বাচন নিয়ে বেশি টকশো না করে।
৫) প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সেই বিখ্যাত বাণী পত্রিকা ও টিভি গুলোকে স্বরণ করিয়ে দেওয়া, ” আমি যেমন দিতে পারি , সেরকম ফিরিয়েও নিতেও পারি ” –তাহলেই দেখবেন সকলেই সাপের মত মাথা নত করে থাকবে। ঠিক এখনকার মত।
৬) সামনে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম বার্ষিকী তে অবশ্যই অবশ্যই বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট কে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা রাখবেন।
৭) প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ আরো কয়েকজন মাননীয় নেতাদের দিয়ে বিএনপি অফিসে পাঠিয়ে নিমন্ত্রণের ব্যবস্থা করবেন।  তাদের কে অবশ্যই বুঝিয়ে শুনিয়ে অন্তত সুবর্ণজয়ন্তী প্রোগরামে নিয়ে  আসেবন।
৮) মনে রাখবেন নিমন্ত্রণ যদি সেই সম্মান দিয়ে করেন, বিএনপিও ফেলতে পারবে না। এতে বিএনপির বিপদ বেশি হবে। আর আনতে পারলে আপনাদেরই বেশি লাভ হবে।
৯) সর্বশেষ বলবো, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া সহ বিএনপির নেতা কর্মিদের দ্রুতর জেলজুলুম থেকে রক্ষা করুন ।
১০) এটা ছাড়া আওয়ামী লীগ বেশি দূর শান্তিপূর্ণভাবে এগুতে পারবে না।

১১) এই ১১ নাম্বার পয়েন্টটি আওয়ামী লীগের উচ্চ থেকে নিম্ন পর্যন্ত সকলের জন্যই প্রযোজ্য । আওয়ামী লীগের সকলের মনে রাখা ভালো, ইস্পাত কঠিন শেখ হাসিনা আপনাদের যতই প্রশংসা করুক বা আপনাদের যত কিছুই দিক, এই শেখ হাসিনা আপনাদের এক বিন্দুও ( আবার বলি এক বিন্দুও)  বিশ্বাস করেন না এবং করার কোনো কারণও নাই। যে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর মত পাহাড় সম মানুষকে পুরো গুষ্ঠি সহ নির্মম হত্যা করতে পারে , সেই বাঙালিকে শেখ হাসিনার বিশ্বাস করার কোনো কারণ নাই এবং করেন না। মনোবিজ্ঞান এই সাক্ষ্যেই দেয়। সুতরাং আওয়ামী লীগ করেন বলেই বেশি ফালাফালি অন্তত শেখ হাসিনার সামনে না করাই উত্তম।

 

এখানে একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া ভালো যে, পৃথিবীতে সকল সরকারই যা কর্ম করেন সব সময় জনগণের কল্যাণেই করেন। হোক সে ইরানের শাহ্ বা জিম্বাবুয়ের মুগাবে। বাকিটুকু নিজেরাই বুঝে নিন।

 

এবার বলি আমি যদি বর্তমানে বিএনপির উপদেষ্টা হতাম :

 

২০১৪ এর ৫ ই জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি প্রায় ৩ মাসের মত সমগ্র দেশ জুড়ে যে আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলো, তা ছিলো সত্যি বিস্ময়কর । কেবলমাত্র ঢাকাকে সরকার বাঁচিয়ে রাখতে  সক্ষম হয়েছিলো। মনে পরে , এত বড় এবং কঠিন আন্দোলন সত্যি স্বাধীন দেশে হয়নি। তবে ঠিক ২০১৪ এর নির্বাচনের পরে জামায়াতের উপদেশে যে পেট্রল বোমার আন্দোলন করলেন , সেই বোমা শেষ অব্দি নিজেদের মাথায় এসেই ঠেকেছে। লক্ষ্যণীয় যে সেই সময়ের আন্দোলনের ঠেলায় পরেই ইস্পাত কঠিন শেখ হাসিনা হাতে টেলিফোন তুলে নিজে খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন। অনেক গুলো মন্ত্রীর অফার নির্বাচনকালিন সরকারারে জন্য দেওয়া হয়েছিলো ! আন্দোলনের ঠেলায় না পড়লে অন্তত শেখ হাসিনা সেই অমায়িক আমন্ত্রণ নিশ্চিত জানাতেন না। বিএনপি কে বলবো সেখান থেকে শিক্ষা নিন।

১) গত পাঁচ বছর আপনাদের একবার যা অফার করা হয়েছিলো , তা গত পাঁচ বছর বিনি আন্দোলনে হাত পেতে চেয়েও পাননি। কারণটি নিশ্চয়ই বিএনপির জন্য পরিষ্কার থাকার কথা ।

২) আপনাদের সমর্থক আছে কিন্তু কর্মির অভাব যেহেতু আছে , সেইহেতু যতদিন পর্যন্ত আন্দোলন করে ঢাকা কে অচল করতে না পারবেন, ততদিন আন্দোলনের কথা মাথায় আনবেন না।

৩) জামায়াত ছাড়ার কথা বলেও কোনো লাভ হবে না জানি। তারপরেও বলবো আপনারা যে ভয়ে জামায়াত ছাড়েন না ( আওয়ামী লীগ টেনে ঘরে তুলবে)  সেটা আপনাদের ভূল ধারণা । আওয়ামী লীগ জামায়াত কে বড়জোর হেফাজতের মত কিছু দিবে এবং ঠান্ডা করে রাখবে। তবে মনে রাখা ভালো , আওয়ামী লীগ এই জাতীয় কিছু জামায়াত কে নিয়ে  খেলতে যাবে না। তাহলে আওয়ামী লীগ যে পচস্তাবে  , তা হয়তো আওয়ামী লীগ নিজেও কল্পনা করতে পারে না। কেননা ৯৬ আর বর্তমান ১৮ সাল অনেক পার্থক্য ।

৪) এখন নির্বাচনের পরে বিএনপি কি করতে পারে ?
দুইটি পথ খোলা আছে !
ক) বিএনপি বাম দলগুলোর মত রাজনীতি করতে পারে । দেশের সব ক্ষতিকর বিষয়ে রাজপথে রাজনীতি করতে পারে। তবে এতে বিএনপির ভবিষ্যত অন্ধকার বলেই মনে হয়।
খ) যে সাতজন +একজন নির্বাচিত হয়েছে তাদের কে সংসদে পাঠাতে পারে । পাঠালেও আমি অবাক হবো না। তবে এতে করে বিএনপির কপালে শনি ছাড়া কিছুই নাই। তখন একুল/ওকুল দুই কুলই যাবে। নিশ্চিত বলা যায়, এই সংসদে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে, চৈত মাসে গরু হারানোর অবস্থা হবে।
গ) তাহলে বিএনপি সত্যি কি করবে ? আসলে এই মূহুর্তে স্বয়ং ফেরেস্তা এসেও বিএনপি কে খুব বেশি উপকার বা উপদেশ দিতে পারবে না। তারপরেও বলি , এই নির্বাচন যে সঠিক নির্বাচন না , এই আন্দোলনেই থাকতে হবে।
ঘ) বিএনপির যে যেখানেই আছে, সেই অবস্থান থেকেই ছোটো ছোটো করে হলেও ভুয়া নির্বাচনের বিরোধী সভা সমাবেশ করে যেতেই হবে।  অবশ্যই লম্বা সময়ের টার্গেট নিয়ে করতে হবে।
ঙ) বিএনপি কে মনে রাখা ভালো জনগণ এই জাতীয় নির্বাচন কে গ্রহণ করে নাই। সে অসন্তুষ্টকেই পুঁজি করে রাজনীতি করতে হবে।
চ) বিএনপি কে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।  জনগণের এই ক্ষোভকেই শক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং এটা সম্ভব । তবে সময়ের বিষয় বটে।
৫) আওয়ামী লীগ যতই তারেক জিয়া কে নিয়ে প্যাঁচাল পারুক, সত্যি বলতে আওয়ামী লীগের বড় ভয় ওই তারেক জিয়াতেই। এটা বিএনপি কে উপলব্ধি করতে হবে। লক্ষ্যণীয় যে নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ শত চেষ্টা করেও বিএনপি কে ভাঙতে পারেনি! ধারণা করি এটা ওই তারেক জিয়া যত দূরেই থাকুক না কেন , তার কারণেই দলকে ভাঙতে পারেনি। কেননা এই উপমহাদেশে পারিবারিক রাজনৈতিক যে কালচার আছে , তা বিএনপিতে পুরোপুরিই উপস্থিত এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ছাড়া বিএনপি হবে ১০০ শত টুকরা। কেননা দশ জঙ্গলের বনগরু এক গোয়ালে নিয়ন্ত্রণে রাখাটা এত সহজ নয়।
৬) দলে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে খুব বেশি মিল দেখা যায় না। যে নেতৃত্ব বর্তমান আছে তাদের কে একটু দলের ভুক্তভোগীদের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি । এমনকি ভুক্তভোগীদের পারিবারিকভাবে সহযোগিতা বাড়ানো দরকার । তাহলে দলে একটা স্পিরিট আসবে।
৭) সব শেষে বলবো জেলজুলুম তো কম হয়নি। সুতরাং “সারভাইরাল স্ট্রাটেজি” -নিজেকে বিপদ থেকে মুক্ত রাখার পথ পরিহার না করলে, বিশেষ করে কেন্দ্র এবং আঞ্চলিক বড় নেতারা , তাহলে আগামীতে আওয়ামী লীগের মত ২১ বছরের অপেক্ষায় থাকেন।

 

সত্যি বলতে কি , বিএনপি কে উপদেশ দেওয়া এখন সত্যি কঠিন। তবে খুব তাড়াতাড়ি কোনো ফল বিএনপি পাবে না। নিজেদের যে করেই হোক জামায়াত নামক বিষফোঁড়াটি থেকে বিএনপি কে বেড় হয়ে আসতেই হবে। এটা তাদের মাকান ফলের মত, না পারছে গিলতে না পারছে উপরে ফেলতে বলেই মনে হয়। সুতরাং কিছু একটা বিএনপি কে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। জামায়াত দিয়ে বিএনপি কি আন্দোলনের চিন্তা করে ? সেই চিন্তা পদ্মা নদীতে ফেলে আসাই ভালো। কেননা বোমাবাজির আন্দোলন আর দেশের মানুষ মেনে নিবে না, এটা হবে হিতে বিপরীত । সুতরাং সাধু সাবধান ।

 

লেখার শেষে দেশের জন্য একটি কথা বলেই শেষ করবো। এখন যে রাজনীতি দেশে চলছে , যে দল যত কথাই বলুক , বর্তমানের রাজনীতি দেশের জন্য কখনোই শান্তি আনবে না। হয়তো কিছু দিন সব সহ্য করে জনমানুষ চুপ থাকবে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে বাষ্প তৈরি হচ্ছে এবং হবে , তা এক সময় বিস্ফোরিত হবেই হবে। সেদিন আর কেউ সামাল দিতে পারবে না। সুতরাং আমাদের রাজনীতিবিদরা সেই বিষয়টি যত তাড়াতাড়ি গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন , ততই দেশের মঙ্গল ।

20181221_172132

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম