Friday April16,2021

দেশে বাল্যবিয়ে নিরোধে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়েছে আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩ দল। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে নিয়ে জনগণ বা সরকারের কোনও মাথাব্যথা নেই। তবে পবিত্র ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী পশ্চিমা এনজিওগুলোর মাথাব্যথা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাসে তারা কথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। সভা সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে নিয়ে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে বলাচ্ছে, মিডিয়ায় লেখাচ্ছে, প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বন্ধন ধ্বংস, এইডস ছড়ানো, জনসংখ্যা হ্রাস, দেশদ্রোহী হাজারো তৎপরতার সঙ্গে এসব এনজিও জড়িত।’

বক্তারা আরও বলেন, সরকার দেশে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন প্রণয়ণ করলেও দেশে ১৮ বছরের নিচের ছেলে মেয়েদের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ফলে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলে অবৈধ গর্ভপাত, ভ্রুণহত্যা ও কুমারি মাতার পরিমাণ। সে নিয়ে মুসলিম বিদ্বেষী এনজিও বা সরকারের কোনও মাথাব্যথা নেই।’

বক্তারা অবিলম্বে বাল্যবিয়ে নিরোধ নামক ‘কুফরি আইন’ প্রত্যাহারের পাশাপাশি মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) -এর প্রতি অবমাননার কারণে এনজিওগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্তদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ করা হলে তা হবে বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক দাবি করে বক্তারা আরও বলেন,সংবিধানে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। আবার প্রত্যেক নাগরিকের সুরক্ষায় আইনও রয়েছে। সেখানে আলাদাভাবে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ করা হলে তা হবে বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক। বৈষম্য সৃষ্টিকারী কথিত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করা যাবে না। অন্যথায় মুসলিম সুরক্ষা আইন করতে হবে।’

সমাবেশ ও মানববন্ধনের সমন্বয় করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি, পীরজাদা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল)।

আরও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামি গবেষণা পরিষদের সভাপতি, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহ সভাপতি- হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী (বাগেরহাটি) প্রমুখ।

এ ছাড়া মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিষিদ্ধের দাবিও জানায় দলটির নেতারা।