Tuesday March9,2021

বাইরে টাঙানো লাকড়ির কারখানা। কিন্তু ভেতরে তৈরি করা হচ্ছিল মানবদেহের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর উপকরণ দিয়ে ভেজাল গুঁড়া মসলা। ইট, বালু, পাথর, কাঠের গুঁড়া ও ধানের ভুসির সঙ্গে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে তৈরি করা হতো হলুদ, মরিচ ও ধনিয়ার মসলা। দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এ কারবার। অবশেষে র‌্যাবের জালে ধরা পড়ল এই জঘন্য কাণ্ড।

এমন ভেজাল কারবার চলছিল কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারের লালপুর নৌকাঘাট এলাকায় মাহিন নামে একটি লাকড়ি মিলসে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১২টায় অভিযান চালিয়ে কারাখানাটির পরিচালক আবু আনসারী রনি ও তার সহযোগী দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেছে র‌্যাব।

এ সময় জব্দ করা হয় তিন হাজার ৫০০ কেজি ভেজাল মসলা, নিম্নমানের মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, ক্ষতিকারক রং, ইট, পাথর ও কাঠের গুঁড়া, বালু ও ধানের ভুসি।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই কারখানার পরিচালক রনি ও তার সহযোগী দেলোয়ারকে সাজা দেয়া হয়। এরপর তাদেরকে ভৈরব থানা পুলিশে সোপর্দ করা হলে মঙ্গলবার সকালে দুজনকেই কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রনির বাবা কারখানার মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম।

র‌্যাব-১৪ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ও ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক চন্দন দেবনাথের নেতৃত্বে একদল র‌্যাব সদস্য ওই কারখানায় অভিযান চালান। এতে বেরিয়ে আসে ওই কাণ্ড। অভিযানে ওই কারখানা থেকে তিন হাজার ৫০০ কেজি ভেজাল মসলা, নিম্নমানের মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, ক্ষতিকারক রং, ইট, পাথর ও কাঠের গুঁড়া, বালু ও ধানের ভুসি। এ সময় কারখানাটির পরিচালক রনি ও তার সহযোগী দেলোয়ারকে আটক করা হয়।

পরে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারখানার পরিচালক রনিকে এক বছর সশ্রম এবং তার সহযোগী দেলোয়ার হোসেনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে কারখানার বাইরে মাহিন লাকড়ি মিল সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ভেতরে ভেজাল মসলা তৈরি করে আসছিল। আটককৃত কারাখানার পরিচালক রনি ও তার সহযোগী দেলোয়ার দোষ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া জব্দকৃত মালামালগুলো সিলগালা করা হয়েছে।সুত্র : যুগান্তর