Saturday March6,2021

সবারই জানা আছে, পৃথিবীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংবিধান ঐতিহ্যবাহী অলিখিত সংবিধান। পার্লামেন্ট পদ্ধতি আসার পর থেকেই এই দেশটিতে সংবিধান অলিখিত ছিলো এবং বর্তমানেও একই চর্চা হচ্ছে। তাদের এই অলিখিত সংবিধান চর্চায় কখনোই কোনো বড় আকাড়ের ধস নামেনি। এমনকি তাদের এই পার্লামেন্ট এতদিনের চর্চায় কখনোই রীতি নীতির বৈপরীত্য ঘটায়নি। ব্রিটিশদের পার্লামেন্ট দ্বিকক্ষ  বিশিষ্ট। উচ্চকক্ষ  (Upper house- the House of Lords ) এবং নিম্নকক্ষ  (Lower house- the House of Commons ) সমানতালে অলিখিত সংবিধানের ঐতিহ্য কে বজায় রেখেই পার্লামেন্টের কার্য পরিচালনা হয়। সার্বভৌমত্ব আইন পরিষদের তৃতীয় উপাদান ব্রিটেনের রানী( The Sovereing froms the third component of the legistature, the Queen-in-parliament)।ওয়েস্টমিনিস্টার ( Westminister) এর এই পার্লামেন্ট কে গণতন্ত্রের ভিত্তিমূল ধরা হয়। কেননা গণতন্ত্রের সার্বিক ব্যবস্থা এই পার্লামেন্ট থেকে সঠিক পদ্ধতিতেই পরিচালিত হয় বিধায় এই পার্লামেন্ট পৃথিবীতে গণতন্ত্র চর্চার বড় উদাহরণ বটে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পুরোনো প্যাচাল নতুন করে করার কারণ হলো, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং দলের প্রতিনিধিরা কথায় কথায় ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির কথা বেশ উদহারণ হিসেবে টেনে আনেন এবং সঠিকও বটে, তবে চর্চা কতটুকু করেন ? সেটা ভিন্ন বিষয় । আমাদের রাজনীতিবিদরা সেই চর্চা করেনও বটে! তবে একটু ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে করেন। যেমন আমাদের দেশের পার্লামেন্টে একটি লিখিত সংবিধান আছে বটে! লিখিত সংবিধান থাকা সত্যেও সেটাকে কিভাবে, কখন, কেন ব্যবহার করবেন, সেটাও তাদের নিজেদের ইচ্ছামত চর্চা করেন বা করে থাকেন। উদহারণ অনেক দেওয়া যাবে একটি বলি, সবারই জানা আছে ৯০ এর আন্দোলনের পরে এই দেশের পার্লামেন্টে যা লিখা ছিলো না, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অলিখিত বিষয়ে চর্চা করে দেশের একটি সমস্যার  সমাধান হয়েছিলো।

ব্রিটিশদের মত আমাদের সংবিধান অলিখিত না হলেও, আমাদের রাজনীতিবিদরা একটি অলিখিত সংবিধান নিজেরাই মৌখিকভাবে তৈরি করে রেখেছেন। এই অলিখিত সংবিধানটি তারা ব্রিটিশদের চেয়েও বেশি ভালো চর্চা করে থাকেন বা পারেনও বটে। আর তা হলো ” রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নাই” !!!  এই একটি অলিখিত সংবিধান সব দল চর্চায় বেশ পারদর্শী বটে। যখন যে দলের প্রয়োজন হয় শতভাগ সুবিধা অনুযায়ী চর্চা করেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দ্বিতীয় বিষয়টিও আমাদের দেশে বেশ চর্চা হয়। আর তা হলো দ্বিকক্ষ বিষয়টি । অবশ্য আমাদের দেশের দলগুলো দ্বিকক্ষ নয়, এটাকে উচ্চকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করেন বা করতে বাধ্য হন। সেই সুত্রে বলাই যায় গণতন্ত্রের চর্চায় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ব্রিটিশদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে । সেই উচ্চকক্ষটি হলো দলের প্রধান, সংসদের প্রধান, রাষ্ট্রের প্রধান এক ব্যক্তিকে ঘিরে। সেটা যে দলই এই অব্দি ক্ষমতায় এসেছে, সকলেই এই উচ্চকক্ষের শতভাগ ব্যবহারে বাধ্য ছিলো এবং আছে। এই উচ্চকক্ষের ব্যবহার নিশ্চয়ই কোনো উদহারণ দিয়ে বলার প্রয়োজন নাই বলেই লিখলাম না। তবে এই উচ্চকক্ষের চমত্কার প্রায়োগিক বাবহার দেখে জনগণের মনে হতেই পারে, আমাদের দেশের অন্যান্য মন্ত্রীরা সত্যিকার অর্থেই কার ভাসুর? কেনই বা তাদের কে জনগণের অর্থ দিয়ে বেতনভাতা প্রদান করা হয়।  যে দেশে একজন চোর কে ধরতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উচ্চকক্ষের দিকে ডেবডেবিয়ে চেয়ে থাকতে হয় ! উদহারণ এখানেও লিখলাম না, চাইলে শত দেওয়া যাবে।

এবার বলি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তৃতীয় উপাদানের কথায় । এই তৃতীয় উপাদান ব্রিটেনের স্বয়ং রানী। আমাদের দেশেও সেই তৃতীয় উপাদানটির চর্চা হয়, তবে এখানেও একটু ভিন্নভাবে। আমাদের যেহেতু রাজ- রানী নেই তাই সেটা আরো একটু উপরে উঠে স্বয়ং দেশের প্রেসিডেনটের মাধ্যমে চর্চা হয়। এখানেও বলতেই হবে আমরা ব্রিটিশদের চেয়ে একধাপ উপরে, কেননা ব্রিটিশদের তৃতীয় ধাপ আমরা দেশের সবচাইতে বড়, সবচাইতে উচ্চ এবং সবচাইতে মুরুব্বির দ্বারা চর্চা করি। ব্রিটেনের রানীকে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে হলে উনি বরাবর পার্লামেন্টে ফেরত পাঠিয়ে এবং উচ্চকক্ষের সাথে আলাপ করে তারপরে সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু আমাদের দেশে সেই চর্চা স্বয়ং প্রেসিডেনটকে দিয়ে যেভাবে খুশি আমরা চর্চা করি। এখানে একটু উদহারণ দেওয়া থরকার।  এইতো গত কয়েকদিন পূর্বেই লক্ষ্মীপুরের তাহের পুত্র বিপ্লব মুক্তি পেয়েছেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমায়। লক্ষ্মীপুর জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী নরুল ইসলাম হত্যা মামলায়, আওয়ামী জননেতা আবু তাহেরের বড় পুত্র এ এইস এম আফতাব উদ্দিন বিপ্লব সহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিলো বিচারকি আদালতে। আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সাহেব খুনের মামলায় ফাঁসি হওয়া বিপ্লব সাহেব কে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন , সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি হামিদ সাহেব বিপ্লব সাহেব কে কারামুক্ত করে দেন। এখানে বলা ভালো যে , এই বিপ্লব সাহেব কারাবাসের সময়কালে সন্তানের পিতা হয়েছিলেন। ওনার এবং ওনার সন্তানের দীর্ঘ আয়ু কামনা করি । ভবিষ্যতে উনি এবং ওনার সন্তান আমাদেরকে নেতৃত্ব দিতে পারেন সেই প্রার্থনা নিশ্চয়ই সাথে রইলো।

তাই বলছিলাম ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির দিক থেকে আমরা কিন্তু কোনো অংশে কম যাই না। সুতরাং রাজনীতিবিদদের প্রতি অনুরোধ থাকবে ওইসব ওয়েস্টমিনস্টার ফিনিস্টারদের উদহারণ ভবিষ্যতে টেনে এনে নিজেদের কে ছোটো করবেন না।

কাঠালের আমসত্ত্ব হয়না , আমরা আমের আমসত্ত্বেই অভ্যস্ত । আমরা আপনাদের মত রাজনীতিবিদদের দ্বারাই অভ্যস্ত, সুতরাং চালিয়ে যান ।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক,শুদ্ধস্বর, ডটকম