Saturday March6,2021

বুলবুল তালুকদারের কলাম “পরমকল্যানের রাষ্ট্রবিজ্ঞান,কল্যাণ উধাও এবং রাষ্ট্রধর্ম”

রাজনীতি এখন গরিবের বউ- সবাই রাজনীতিতে ঢুইক্কা যায়- মাননীয় রাষ্ট্রপতি ।
সমালোচনা করা মানেই শত্রুতা নয়। তবে সত্য, সব সময়ের জন্যেই সত্য । রাজনীতিতে সকল প্রজাতির (পেশার) অনুপ্রবেশ ঠিক কবে থেকে গণহারে শুরু হয়েছে ? খুব বেশি দিন আগের কথা নয়।এরশাদ নামক বিশ্ব বেহায়ার বিরুদ্ধে সকল দলের সম্মিলিত আন্দোলনের পরপর ৯০ এর নির্বাচন থেকেই মূলত শুরু!লক্ষ্যণীয় যে সেই সময়ের নির্বাচনে বিএনপি নামক দলটিই সর্ব প্রথম দেশের সাবেক আমলা,ব্যবসায়ী,সাবেক আর্মি পার্সন,ডাক্তার কিংবা, ইঞ্জিনিয়ারদের কে প্রথম গণহারে নির্বাচনে নমিনেশন দিলো। সেই সময়ে আ লীগ কিন্তু রাজপথের কর্মিদেরকেই নমিনেশন দিয়েছিলো। ফলাফল বিএনপি তথাকথিত গণতন্ত্রের শুরুতেই ক্ষমতায় আবির্ভূত হয়।  এখানে অনেকেই প্রশ্ন বা ভাবতে পারেন, মানুষ তো তাদের গ্রহণ করেছে।হ্যাঁ মানুষ সত্যি গ্রহণ করেছে বটে, তবে রাজনীতি বিষয়টিতে যে একটা অদূর ভবিষ্যতের নকশা থাকে, সেই নকশাটি আমাদের রাজনীতিবিদরাই  ক্ষণিকের সুবিধা আদায় করতে গিয়ে জলাঞ্জলি দিয়েছে।অন্যদিকে এই ক্ষণিকের সুবিধা আদায় করতে গিয়ে দেশ স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারি দলও পরবর্তীতে বিএনপির দেখানো পথেই হেটেছে।ফলাফল এখন দেশের বৃহত্ দুই দলেই প্রায় সত্তুর ভাগের বেশিই সাবেক আমলা, ব্যবসায়ী, আর্মি পার্সন, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার।রাজনীতির ভবিষ্যত নকশায় এখন গলার কাঁটা এরাই।কেননা যারা দলের জন্য রাজপথে ঘাম ঝরিয়ে দলকে মজবুত রাখে, যারা কিনা জনগণের সাথে অন্তত সম্পৃক্ত থাকে, জনগণের সকল অবস্থা বুঝে বা কোথায় সমস্যা ? কি করলে কি হতে পারে ? কিংবা নিদেন পক্ষে জনগণের আর্তি টের পায়।এখন তাদের কে মূল্যায়ন করা দলগুলোর জন্যেও অসম্ভব হয়ে গেছে।কেননা উড়ে  আসা জুড়ে পড়াদের কাছেই দলগুলো নজর বন্দি হয়ে আছে।দলগুলোর অবস্থা এখন এমন যে, না পারে গিলতে না পারে উল্টি করতে।এই উড়ে আসারা এখন দলগুলোর জন্যে অনেকটাই শাঁখের  করাতের মত, এরা এখন দলে থাকলেও কাঁটে আবার না থাকলেও কাঁটে।এমন কি এই শাঁখের করাতের দলে হাইকোর্টের সাবেক জর্জদেরও দেখা মেলে, আশ্চর্য! সাধারণ ভাবে বলতে গেলে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো পরমকল্যানের বিজ্ঞান।আর বর্তমানে এই বিজ্ঞানে কল্যাণ শব্দটিই উধাও!আছে শুধু পরম ক্ষমতা, যা কিনা কল্যাণের বিপরীতে দন্দে রূপায়িত হয়েছে। রাজনীতিতে রাজনৈতিক কর্মি না থাকলে যা হবার তাই প্রতিফলিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বললেন, সব পেশার সবাই রাজনীতিবীদ হতে পারে কিন্তু রাজনীতিবীদরা অন্য পেশায় জড়িত হতে পারে না।কথা গুলো রাষ্ট্রপতি বললেন সব ঠিক আছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, ব্যক্তিগত মত হলো, কথা গুলো রাষ্ট্রপতি সময়ের পুরোপুরি ওলটপালট করে ফেলেছেন।লক্ষ্য করুণ, আমাদের রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিনের রাজনীতিবীদ।অথচ উনি ওনার রাজনৈতিক জীবনে দেশের স্বার্থে দলের কাছে কখনোই এই বিষয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন নি!অন্তত আমরা আম জনতা কখনো শুনি নাই।এখন উনি অন্তত ওনার অবস্থান থেকে কথাগুলো হাসিঠাট্টা করে হলেও বলেছেন।আমরা আম জনতা শুধু আশা করতে পারি,দেশের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বর্তমানের রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনা নিবেন।

লক্ষ্যণীয় যে, আমাদের দেশে একবার যা ঘটে যায় তা আর ফেরানো সম্ভব হয় না। শত উদহারণ দেওয়া যাবে। বিজ্ঞানের সুত্রে বলা হয়, যার ওজন আছে আর জায়গা দখল করে, এমন বিষয়টিকেই বলা হয় বস্তু।সেই সুত্রে রাষ্ট্র হলো বস্তু।বস্তুর কোনো প্রাণ থাকে না।রাষ্ট্রেরও কোনো প্রাণ নাই।তবে আপেক্ষিক অর্থে,  রাষ্ট্রেরপ্রাণ হলো রাষ্ট্রের জনগণ।বস্তুর যেমন কোনো ধর্ম(বিশ্বাস অর্থে)থাকে না, ঠিক সেই অর্থে রাষ্ট্রেরও কোনো ধর্ম থাকে না। তবে  প্রাণ রাষ্ট্রের জনগণের নিজেস্ব বিশ্বাস থেকে নিজেস্ব ধর্ম থাকে।অথচ দুই যুগ পূর্বে স্বৈরাচার এরশাদ নিজের খেয়ালখুশি বা ভণ্ডামির সুত্রে রাজনৈতিক ফয়দা নিতে, সর্ব বিশ্বাসের সাধারণ জনগণের জনযুদ্ধে জয়ী  রাষ্ট্রের একটি ধর্ম দিয়ে দিলেন !!!সেই যে ভণ্ডামি করে এই কাজটি এরশাদ করে গেলো, ওকে জেলে নেওয়া যায়, ছাগল বানিয়ে রাখা যায়, অথচ ওর ভণ্ডামির সেই কুকর্ম কে আজ অব্দি কোনো রাজনৈতিক দল সাহস করে বাতিল করতে পারেননি এবং ভবিষ্যতেও কোনো দল ক্ষমতায় এসে এটা করতে পারবে বলে মনে হয় না।বরং উল্টো  এরশাদের সেই ভণ্ডামিকেই হলফ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সকল রাজনৈতিক দলই এই অব্দি ব্যবহার করে আসছে!তাই বলাই যায় ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ ।

রাষ্ট্র ধর্মের উদহারণটি দিলাম কেননা,আমাদের দেশের রাজনীতি তার নিজস্ব রাজনৈতিক ধর্ম মেনে পরিচালিত হয় না।সুতরাং এখানেও বলা যায়, দেরীতে হলেও দেশের রাষ্ট্রপতি বর্তমান রাজনীতিতে যে উড়ে এসে জুড়ে পরার কথা বলেছেন, সেটিও অচিরেই শেষ হবার নয়। আবার বলছি, এটি অচিরে শেষ হবে না। শেষে শুধু ছোট্ট করে বলি, কেন শেষ হবে না। আমাদের দেশে এর মূল কারণ হলো, ” বিজয়ীরা সব পায়(Winner takes all)”। এই ভয়াবহতায়-“বিজয়ীরা সব পায়”-এখানেই সর্ষের শত ভুত নিহিত আছে।রাজনৈতিক এই কাবিন নামায় যতদিন পর্যন্ত ” Expiry Date “ মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ না বসানো হবে, ততদিন পর্যন্ত জনগণের শেষ রক্ষাও হবে না।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক,শুদ্ধস্বর ডটকম