Sunday March7,2021

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়েইং ফিল্ড তৈরি করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে

26814703_1011945212277105_6979772593481469428_n

শুদ্ধস্বর রিপোর্টঃ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে নাগরিক ঐক্য ‘বর্তমান সরকারের ৪ বছর এবং নির্বাচনের বছর’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,২০১৪ সালে কি আসলেই কোনো নির্বাচন হয়েছিলো? নির্বাচনের আগেই যখন সরকার গঠনের জন্য আবশ্যক ১৫১ জনের বেশি সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান, তখন ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি যা হয়েছে সেটা প্রহসনের চাইতে বেশি কিছু। এভাবে সরকার গঠিত হওয়া সংবিধানের ৭ (১), ১১ এবং ৬৫(২) ধারার সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। এই ধারাগুলোতে রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে নির্বাচন বলতে নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনকে বোঝানো হয়েছে। তাই তথাকথিত নির্বাচনের আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চাইতে বেশি আসন পেয়ে জয়ী হওয়া বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে কোনোভাবেই নির্বাচিত, নৈতিকভাবে বৈধ সরকার বলে আমরা মনে করি না।এই সরকার টিকে আছে স্রেফ রাষ্ট্রের জনগণের ওপর বল প্রয়োগের মাধ্যমে।  সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে অত্যন্ত জবরদস্তিমূলকভাবে দেশের প্রধান বিচারপতির মতো পদাধিকারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবিশ্বাস্যভাবে দেশের উচ্চ আদালত এখন চলছে একজন শপথহীন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অধীনে। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের দিকনির্দেশনা না মেনে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ ও শৃঙ্খলাবিধিতে সরকারের কর্তৃত্বই বহাল আছে।লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না আরো বলেন,বিচার ব্যবস্থা কুক্ষিগত করাই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ‘বড় অর্জন’।বিচার বিভাগে সর্বময় কর্তৃত্ব সরকারকে আগামী দিনে আরও ফ্যাসিবাদী করে তুলবে বলে আমরা মনেকরি।

লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, তুলনামূলক তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেখানোর চেষ্টা করেছেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। সরকার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে জোর দিয়ে সামনে আনার চেষ্টা করে। গত নয় বছরের জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। এর পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। দেশের কৃষক, পোশাক শ্রমিক আর প্রবাসী শ্রমিকের শ্রমে ও ঘামে এই অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে। বরং সরকার এত দুর্নীতিপরায়ণ না হলে এবং ন্যূনতম সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে এই প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের হতো,এই ব্যাপারে অর্থনীতিবিদেরা একমত।

কর্মসংস্থানের কথা উল্ল্যেখ করে বলা হয়,সরকার ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দেশে বেকারত্বের হার বাড়ছেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ দুই বছরে মাত্র ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অথচ এই সময়ে প্রতি বছর দেশের কর্মবাজারে প্রবেশ করেছে প্রায় ২৭ লাখ মানুষ। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ৪৮ লাখ। কর্মসংস্থান করার ক্ষেত্রেও সরকারের ব্যর্থতা বিগত দিনের তুলনায় অনেক বেশি। ২০০০ থেকে ২০০৫ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৩, আর ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সেটা কমে হয়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের প্রধান উপদেষ্টা এস এম আকরাম, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় সদস্য মমিনুল ইসলাম, জাহেদুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন।